“আয়নায় অন্য শহর”—শুধু একটি সাধারণ কৌতূহল নয়, এটি এমন এক রহস্যময় যাত্রার শুরু যেখানে বাস্তবতা আর কল্পনার সীমা মুছে যায়। এক সাধারণ ঘরের আয়না হঠাৎই খুলে দেয় এক অচেনা জগতের দরজা, যেখানে বেগুনি আকাশ, অদ্ভুত নীরব শহর এবং অজানা মানুষেরা অপেক্ষা করছে এক নতুন গল্পের জন্য। এই গল্পে ধীরে ধীরে বাস্তব জীবন বদলে যেতে থাকে এক ভয়ংকর ও রহস্যময় অভিজ্ঞতায়, যা শেষ পর্যন্ত পাঠককে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়—আমরা কি সত্যিই একাই আছি?
রাতটা ছিল অস্বাভাবিকভাবে শান্ত। বাইরে হালকা বাতাস বইছিল, গাছের পাতাগুলো নড়ছিল খুব ধীরে, যেন সময় নিজেই ক্লান্ত। আমার ছোট ঘরের ভেতর শুধু একটা শব্দই ছিল—দেয়ালের ঘড়ির টিক টিক। সেই শব্দটা অনেকদিন ধরেই আমার কাছে বিরক্তিকর ছিল, কিন্তু সেদিন সেটা অন্যরকম লাগছিল, যেন প্রতিটা টিক আমার ভেতরের কোনো না কোনো অনুভূতিকে নাড়া দিচ্ছে। পড়াশোনা, চাপ, একাকীত্ব—সব মিলিয়ে জীবনটা যেন একই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, কোনো অগ্রগতি ছিল না, কোনো উত্তেজনাও ছিল না। আমি জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম, কিন্তু মন ছিল না বাইরে—মন ছিল নিজের ভেতরে জমে থাকা একটা অদ্ভুত শূন্যতার মধ্যে।
ঠিক তখনই আমার চোখ পড়ল ঘরের এক কোণে রাখা পুরোনো আয়নাটার দিকে। এটা খুব সাধারণ একটা আয়না ছিল—কাঠের ফ্রেম, সামান্য ধুলো জমে থাকা কাঁচ, আর কোনো বিশেষত্ব নেই। তবুও সেই রাতে কেন জানি না, সেটাকে অস্বাভাবিকভাবে জীবন্ত মনে হচ্ছিল। আমি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালাম, যেন কোনো অদৃশ্য টান আমাকে সেই আয়নার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যত কাছে যাচ্ছিলাম, ততই মনে হচ্ছিল ভেতরের বাতাস ভারী হয়ে আসছে। আমি আয়নার সামনে দাঁড়ালাম, নিজের প্রতিচ্ছবি দেখলাম, কিন্তু পরের মুহূর্তেই আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।
কারণ আমি আমার ঘর দেখছিলাম না।
আয়নার ভেতরে একটা শহর ছিল।
প্রথমে আমি ভাবলাম এটা চোখের ভুল, আলো-ছায়ার কোনো অদ্ভুত খেলা। কিন্তু না, যতই আমি তাকাচ্ছিলাম, ততই সেই দৃশ্য পরিষ্কার হচ্ছিল। উঁচু উঁচু অদ্ভুত আকৃতির ভবন, বাঁকা বাঁকা রাস্তা, আর আকাশ—একেবারে বেগুনি রঙের, যেন সূর্য না, অন্য কোনো আলো সেখানে জন্ম নেয়। শহরটা পরিচিত মনে হচ্ছিল না, কিন্তু অদ্ভুতভাবে বাস্তব মনে হচ্ছিল। সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল সেখানে চলাফেরা করা মানুষগুলো। তারা হাঁটছিল, কথা বলছিল, কিন্তু কোনো শব্দ আমার কানে আসছিল না। তবুও আমি বুঝতে পারছিলাম—তারা আমাকে লক্ষ্য করছে।
আমি পিছিয়ে এলাম। বুকের ভেতর ধকধক শব্দ বাড়তে লাগল। আমি নিজেকে বোঝালাম, এটা হয়তো ক্লান্তির কারণে দেখা কোনো কল্পনা। কিন্তু সমস্যা হলো, পরের দিনও একই ঘটনা ঘটল। এবার শহরটা আরও স্পষ্ট। আমি দেখলাম, এক মানুষ সরাসরি আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখ শান্ত, কিন্তু গভীর, যেন সে আমাকে বহুদিন ধরে চেনে। সে ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলল, আমি শব্দ শুনিনি, কিন্তু আমার ভেতরে একটা অর্থ পরিষ্কারভাবে পৌঁছে গেল—“এসো।”
সেদিন থেকেই শুরু হলো পরিবর্তন। আমি আর আগের মতো থাকতে পারছিলাম না। আয়নার দিকে না তাকালেও মনে হচ্ছিল সেই শহরটা আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। পড়াশোনায় মন বসছিল না, রাতে ঘুম আসছিল না। মনে হচ্ছিল বাস্তব পৃথিবীটা ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে, আর আয়নার ভেতরের জগৎটা কাছে আসছে। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার ছিল—আমি ভয় পাচ্ছিলাম, কিন্তু সেই ভয় আমাকে থামাতে পারছিল না।

এক রাতে আমি আর নিজেকে আটকাতে পারলাম না। ঘরের আলো নিভিয়ে আমি ধীরে ধীরে আয়নার সামনে গেলাম। হাত তুললাম, এবং কাঁচের ওপর রাখলাম। কাঁচটা বরফের মতো ঠান্ডা ছিল, কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরই সেটা কেঁপে উঠল। মনে হলো ভেতর থেকে কেউ আমাকে টানছে। সেই টান এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আমার শরীর আর আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। পরের মুহূর্তে সবকিছু ঘুরে গেল, আলো ভেঙে গেল, আর আমি অন্ধকারে ডুবে গেলাম।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
যখন চোখ খুললাম, আমি আমার ঘরে ছিলাম না।
আমি দাঁড়িয়ে আছি সেই শহরের রাস্তায়।
বাতাস ভারী, আকাশ বেগুনি, রাস্তা অদ্ভুতভাবে বাঁকানো। চারপাশে মানুষ আছে, কিন্তু তাদের উপস্থিতি শান্ত, প্রায় নিঃশব্দ। আমি হাঁটতে শুরু করলাম, আর তখনই বুঝতে পারলাম—আমি এখানে অপরিচিত না। সবাই আমাকে স্বাভাবিকভাবে দেখছে, যেন আমি এখানেই থাকি। যেন আমি ফিরে এসেছি, নতুন করে এসেছি না।
হঠাৎ সেই মানুষটা সামনে এসে দাঁড়াল, যাকে আমি আয়নায় দেখেছিলাম। সে এবার খুব কাছে, তার চোখে কোনো ভয় নেই, বরং একটা গভীর নিশ্চয়তা আছে। সে খুব শান্ত গলায় বলল, “তুমি অবশেষে চলে এলে।” আমি থমকে গেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, “এটা কোন জায়গা?” সে একটু হেসে উত্তর দিল, “এটা সেই শহর, যেটা তোমাদের পৃথিবী আয়নার ভেতরে লুকিয়ে রাখে।”
তারপর আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো বিশাল এক ভবনে। বাইরে থেকে এটা ভবন মনে হলেও ভেতরে ঢুকে মনে হচ্ছিল এটা কোনো স্থির জায়গা না, বরং একটা জীবন্ত স্মৃতি। কোনো দেয়াল নেই, কোনো বই নেই, শুধু ভাসমান আলো আর অসংখ্য দৃশ্য বাতাসে ভাসছে। আমি কাছে যেতেই দেখলাম—ওগুলো মানুষের স্মৃতি। কারো হাসি, কারো কান্না, কারো হারানো সময়, কারো ভয়—সবকিছু যেন এখানে জমা হয়ে আছে।
সে মানুষটা বলল, “এটা স্মৃতির কেন্দ্র।” আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “স্মৃতি মানে কী এখানে জায়গা?” সে ধীরে মাথা নাড়ল। “তোমাদের পৃথিবীতে স্মৃতি মাথার ভেতরে থাকে। আমাদের এখানে স্মৃতি একটা জায়গা, একটা বাস্তবতা।” আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম, স্মৃতিগুলো শুধু ছবি না—ওগুলো জীবন্ত, নড়ে, শ্বাস নেয়, আবার হারিয়েও যায়।
তারপর সে আরও ধীরে বলল, “এই শহর তৈরি হয়েছে সেই সব মানুষের স্মৃতি দিয়ে, যারা একসময় আয়নার ভেতর দিয়ে এসেছে, কিন্তু আর ফিরে যেতে পারেনি।” এই কথাটা শোনার পর আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আমি কি আটকে যাব?” সে এবার খুব শান্তভাবে বলল, “না, যদি তুমি ভুলে যাও তুমি কে, তাহলে।”
এরপর আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে শুধু একটি আয়না ছিল। কিন্তু এটা আমার ঘরের আয়না না। এটা অনেক বড়, অনেক গভীর, আর এর ভেতরে আমি আমার পুরো জীবন দেখতে পাচ্ছিলাম—ছোটবেলা, স্কুল, মানুষ, হাসি, কান্না, ব্যর্থতা, একাকীত্ব—সব একসাথে। হঠাৎ আয়নার ভেতর থেকে আমার নিজের কণ্ঠস্বর শোনা গেল। কিন্তু সেটা বর্তমান আমি না, অন্য আমি।
সে বলল, “তুমি এখানে কেন এসেছ জানো?” আমি চুপ করে রইলাম। সে আবার বলল, “কারণ তুমি কখনো সত্যিই বাইরে ছিলে না। তুমি সবসময় মাঝখানে ছিলে।”
ঠিক তখনই দূরে আমার ঘরের আয়নাটা দেখা গেল, যেন অন্য কোনো জগতের জানালা। আমি বুঝতে পারলাম, আমি চাইলে এখনই ফিরে যেতে পারি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যদি ফিরে যাই, তাহলে কি আমি এই শহরটা ভুলে যাব? নাকি এই শহর আমাকে আবার টেনে নেবে?
শেষে আমি এক ধাপ এগোলাম।
আর পুরো পৃথিবী আলো হয়ে ভেঙে গেল।
আমি আবার আমার ঘরে ফিরে এলাম।
সবকিছু আগের মতো। ঘড়ির টিক টিক, জানালার বাতাস, ঘরের নীরবতা। মনে হলো কিছুই হয়নি। আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম, ভাবলাম এটা হয়তো স্বপ্ন ছিল।
কিন্তু তখনই—
আয়নার ভেতরে আমার প্রতিচ্ছবি একটু দেরিতে হাসল।
আমি হাসিনি।
ঘরের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।
আয়নার ভেতর থেকে খুব আস্তে একটা কণ্ঠস্বর এল—
“তুমি সত্যিই ফিরে এসেছ ভাবছো?”
আমি জমে গেলাম।
আর দূরে, সেই বেগুনি আকাশ আবার ধীরে ধীরে দেখা দিতে লাগল…
ঘরের বাতাসটা হঠাৎই ভারী হয়ে গেল। আগের সেই স্বস্তির অনুভূতিটা এক মুহূর্তেই উধাও। আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছি আয়নার সামনে, চোখ সরাতে পারছি না। মনে হচ্ছে আয়নার ভেতরের জগৎটা আবার ধীরে ধীরে জেগে উঠছে—যেমন কোনো ঘুমন্ত প্রাণ হঠাৎ চোখ খুলছে।
আয়নার ভেতরে আমার প্রতিচ্ছবি এবার আর শুধু দাঁড়িয়ে নেই। সে একটু একটু করে নড়ছে, যেন নিজের ইচ্ছায় কাজ করছে। আমি যখন ডান দিকে তাকাই, সে বাম দিকে তাকায়—কিন্তু দেরিতে। এই সামান্য দেরিটাই সবচেয়ে ভয়ংকর লাগছে, কারণ এটা প্রমাণ করছে—সে আমি না, সে অন্য কিছু।
হঠাৎ আয়নার ভেতর থেকে সেই পরিচিত শহরটা আবার দেখা যেতে শুরু করল। প্রথমে ঝাপসা, তারপর পরিষ্কার। বেগুনি আকাশ, বাঁকানো রাস্তা, আর সেই নীরব মানুষগুলো—সবকিছু আবার ফিরে এসেছে, যেন কখনো হারায়ইনি। আমার বুকের ভেতর ধকধক শব্দ বাড়তে লাগল। আমি পিছিয়ে যেতে চাইলাম, কিন্তু পা যেন মেঝের সাথে আটকে গেছে।
তখনই আয়নার ভেতর থেকে সেই মানুষটা আবার বেরিয়ে এল—যাকে আমি প্রথম দেখেছিলাম শহরে। এবার সে আর দূরে নয়। সে ঠিক আয়নার ভেতর থেকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, খুব শান্তভাবে, যেন সবকিছু আগেই জানে। তার ঠোঁটে একটা অদ্ভুত হাসি।
সে খুব আস্তে বলল,
“তুমি শুধু ফিরে যাওনি… তুমি একটা অংশ এখানে রেখে গেছ।”
আমি থমকে গেলাম। গলা শুকিয়ে গেল। জিজ্ঞেস করলাম,
“কোন অংশ?”
সে আঙুল তুলে আমার দিকে ইশারা করল, তারপর আয়নার ভেতরে দেখাল। আমি তাকিয়ে দেখলাম—সেই শহরের ভেতরে আরেকটা আমি দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক আমার মতো, কিন্তু চোখে একই অনুভূতি নেই। যেন সে অনেকদিন ধরে এখানে আছে, আর আমি শুধু বাইরে থেকে তাকে টেনে নিয়ে এসেছি।
আমার মাথা ঘুরে গেল। আমি বুঝতে পারছিলাম না—আমি আসল, নাকি ও আসল।
হঠাৎ সেই “অন্য আমি” আয়নার ভেতর থেকে কথা বলল। তার কণ্ঠস্বর একদম আমার মতোই, কিন্তু আরও শান্ত, আরও গভীর। সে বলল,
“তুমি যেটাকে বাস্তব বলো, সেটা শুধু একটা দরজা ছিল। আর এখন দরজাটা বন্ধ হয়ে গেছে।”
আমি চিৎকার করে বললাম,
“না! আমি ফিরে এসেছি!”
কিন্তু সে শুধু হাসল।
ঘরের সব আলো একসাথে কেঁপে উঠল। দেয়ালগুলো যেন নড়ে উঠছে, সময়ও থেমে যাচ্ছে। আমি বুঝতে পারলাম, এটা আর স্বপ্ন না, এটা কোনো ভুল না—এটা একটা পরিবর্তন, যেখানে আমি দুই জায়গায় ভাগ হয়ে যাচ্ছি।
হঠাৎ আয়নার কাঁচে একটা ফাটল দেখা দিল।
একটা ছোট ফাটল থেকে আলো বের হচ্ছে, আর সেই আলো আমাকে টানছে। আমার শরীর কাঁপতে লাগল। মনে হচ্ছিল আবার টেনে নেওয়া হচ্ছে।
সেই সময় সেই মানুষটা শেষবারের মতো বলল,
“এখন তুমি সিদ্ধান্ত নিতে পারো। কিন্তু মনে রেখো—একবার দুই দিক একসাথে দেখলে, আর কোনো দিকই পুরোপুরি তোমার থাকে না।”
আমি শেষবারের মতো আমার ঘরের দিকে তাকালাম। জানালার বাইরে চেনা পৃথিবী, ঘরের নীরবতা, আর বাস্তব জীবনের একটা টুকরো।
তারপর তাকালাম আয়নার দিকে—বেগুনি আকাশ, সেই শহর, আর অন্য আমি।
একটা মুহূর্তের জন্য সব থেমে গেল।
আমি ধীরে ধীরে হাত বাড়ালাম…
কিন্তু এবার কাঁচে হাত রাখিনি।
আমি পিছিয়ে এলাম।
একটা ভারী নীরবতার পর, সবকিছু শান্ত হয়ে গেল।
আয়নার ভেতরের শহরটা ধীরে ধীরে মুছে যেতে লাগল। বেগুনি আকাশ ফিকে হয়ে গেল, রাস্তা মিলিয়ে গেল, আর সেই মানুষটা একদম শেষবারের মতো আমার দিকে তাকাল। তার চোখে কোনো রাগ ছিল না, ছিল শুধু একটা গ্রহণযোগ্যতা—যেন সে জানে এই গল্প এখানেই থামবে।
তারপর সব অন্ধকার।
আমি আবার আমার ঘরে দাঁড়িয়ে আছি।
আয়না আবার আগের মতো সাধারণ। কোনো শহর নেই, কোনো আলো নেই, কোনো শব্দ নেই। শুধু আমি আর আমার প্রতিচ্ছবি।
আমি ধীরে ধীরে পিছিয়ে এলাম।
প্রথমবারের মতো আমি স্বস্তি পেলাম।
কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকল না।
কারণ আমি যখন দরজার দিকে ঘুরলাম, পেছন থেকে খুব হালকা একটা শব্দ এল—
ঘড়ির টিক টিক… টিক টিক…
আর এবার সেটা আমার ঘরের না।
ওপাশ থেকে আসছে।
আমি ধীরে ধীরে ঘুরে তাকালাম…
গল্পটা এখানেই শেষ হলো না।
কারণ আয়না কখনো সত্যি শেষ হয় না—
শুধু দিক বদলায়।
Last Update: 7 months ago
এজাতীয় আরো অন্যান্য পোষ্ট:
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
Leave a Reply