রমযান এখনো আসে, চাঁদ এখনো ওঠে, আজান এখনো ভেসে আসে আকাশ ছুঁয়ে। কিন্তু ৯০ দশক কিংবা আমাদের শৈশবের রমযানের মতো সেই আবেগটা আর আসে না। তখন জীবন ছিল ধীর, সময় ছিল হাতে ভরপুর, আর প্রতিটি ইফতার ছিল পরিবারের একসাথে বসার মহোৎসব। সেই দিনগুলোতেই যেন প্রকৃত অর্থে “সোনালি বিকেল” নামের অনুভূতিটা জন্ম নিয়েছিল।
৯০ দশকে রমযান মানেই ছিল এক আলাদা প্রস্তুতি। রমযান শুরু হওয়ার আগে বাড়ি পরিষ্কার করা, নতুন গ্লাস-থালা বের করা, মায়ের আলমারিতে আলাদা করে ছোলা-ডাল-চিনি জমিয়ে রাখা—সবকিছুতেই ছিল এক ধরনের পবিত্র উত্তেজনা। টেলিভিশনে তখন মাত্র একটাই চ্যানেল—বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। রমযান শুরুর আগের দিন চাঁদ দেখা নিয়ে বিটিভির বিশেষ ঘোষণা শোনার জন্য পুরো পরিবার অপেক্ষা করতো। সেই সাথে রেডিওতেও শোনা যেত সেই খবর। ঘোষণার পরপরই এক ধরনের আনন্দ ছড়িয়ে পড়তো ঘরে।
সাহরির সময় ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তখন তো মোবাইল অ্যালার্ম ছিল না। বাবা বা বড় ভাই ঘুম থেকে ডাকতো, কিংবা দূরে কোথাও মসজিদের মাইকে “সম্মানিত এলাকাবাসী, সেহেরীর সময় হয়েছে। সকলে সেহেরী খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠুন” আওয়াজ ভেসে আসতো। অনেকে আবার মহল্লায় ঘুরে ঘুরে ঢাক পিটিয়ে মানুষ ডাকতো। সেই ঢোলের শব্দ যেন এখনও কানে বাজে। আধো ঘুমের চোখে ভাত-ডাল, ডিমভাজি বা আলুভর্তা খেয়ে আবার নামাজ পড়ে শুয়ে পড়া—এই ছোট ছোট রুটিনগুলোই ছিল অপার শান্তির।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।
Sonali Tips: Daraz এ ভালো এলার্ম ঘড়ি কিনতে পাওয়া যায়। কিনতে এখানে ক্লিক করুন।
দুপুরের রমযান ছিল অন্যরকম। তখন লোডশেডিং ছিল নিত্যসঙ্গী। গরমের দিনে পাখা বন্ধ হয়ে যেত, আর আমরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতাম। বাইরে খেলাধুলা কমে যেত, কিন্তু বিকেলের অপেক্ষা যেন আরও বেড়ে যেত। বিকেল গড়াতেই রান্নাঘর থেকে ভেসে আসতো পেঁয়াজু ভাজার গন্ধ, বেগুনির সোঁদা সুবাস, ছোলা-মুড়ির মিশ্রণ। মা-বোনেরা ব্যস্ত, আর আমরা বারবার জিজ্ঞেস করতাম—“আজ ইফতারে কী?”
ইফতারের আগে টেবিল সাজানো ছিল এক পবিত্র রীতি। লাল শরবত, বোরহানী, ফলের চাট, জিলাপি—সবকিছু যত্ন করে রাখা হতো। ইফতারের মিনিট দশেক আগে টিভিতে শুরু হতো বিখ্যাত সেই অনুষ্ঠান—ইফতারের আগে। পুরো দেশ যেন একসাথে বসে সেই অনুষ্ঠান দেখতো। আজান শোনার সঙ্গে সঙ্গে খেজুর মুখে তুলে নেওয়ার মুহূর্তটা ছিল যেন সারাদিনের তৃপ্তির সেরা স্বাদ। এছাড়াও আমরা ভাবতাম রুহ আফজা খেলে সওয়াব হয়!

৯০ দশকের রমযানে সামাজিক বন্ধনও ছিল গভীর। প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে ইফতার পাঠানো হতো, আবার আমাদের বাড়ি থেকেও প্লেটে করে পাঠানো হতো পেঁয়াজু-বেগুনি। কে কী বানিয়েছে, সেটা ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ ছিল অন্যরকম। এখনকার মতো প্যাকেটজাত ইফতার কম ছিল, কিন্তু আন্তরিকতা ছিল পূর্ণমাত্রায়।
তারাবির নামাজের কথা না বললেই নয়। মসজিদগুলো ভরে যেত কিশোর-যুবকদের ভিড়ে। নতুন পাঞ্জাবি পরে নামাজে যাওয়া, মাঝে মাঝে একটু হাসাহাসি, আবার ইমামের তিলাওয়াতে মন নরম হয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে এক পবিত্র আবহ। বিশেষ করে জুমার দিনগুলোতে মসজিদের সামনে যেন ঈদের আমেজ দেখা দিত।
আর ছিল ঈদের আগের দিনগুলো। রমযানের শেষ দশকে বাজারগুলো জমে উঠতো। নতুন জামা কেনার উত্তেজনা, টেইলারের কাছে বারবার গিয়ে জামা ঠিক হয়েছে কিনা দেখে আসা—সবকিছুতে ছিল এক অসহ্য রোমাঞ্চ। চাঁদ রাতের আনন্দ, হাতে মেহেদি, আর ঘরে ঘরে সেমাই ভাজার গন্ধ—সব মিলিয়ে পুরো মাসটাই যেন ছিল এক মহোৎসব।
আজকের রমযান আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, সুবিধাজনক। স্মার্টফোনে সেহরির অ্যালার্ম, অনলাইনে দোয়া, ইউটিউবে খুতবা—সবকিছু হাতের মুঠোয়। কিন্তু ৯০ দশকের রমযানের সেই সরলতা, সেই একসাথে বসে থাকার আনন্দ, সেই প্রতিবেশীর দরজায় কড়া নাড়ার মানবিক উষ্ণতা—সেগুলো কি আর ফিরে পাওয়া যায়?
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, শহর বদলেছে। কিন্তু স্মৃতির খাতায় ৯০ দশকের রমযান আজও রঙিন, আজও সোনালি। হয়তো সেই সময়ের ইফতারের স্বাদ এতটা ভিন্ন ছিল না, কিন্তু ভালোবাসার পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। সেই দিনগুলোই মনে করিয়ে দেয়—সুখ সবসময় বড় আয়োজনের মধ্যে নয়, বরং সাদামাটা মুহূর্তের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।
এই রমযানে যখন ইফতারের সময় আজান শোনা যাবে, হয়তো হঠাৎ মনে পড়ে যাবে—একটা সময় ছিল, যখন পুরো পরিবার মাটিতে পাতা দস্তরখানে বসে অপেক্ষা করতো… আর সেই অপেক্ষাই ছিল সবচেয়ে বড় আনন্দ।
Last Update: 6 months ago
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
Leave a Reply