ছোটবেলায় ঈদ মানেই ছিল এক অদ্ভুত আনন্দের উৎসব। মনে আছে, শ্রীনগর উপজেলার মাইজপাড়া গ্রামে বসতাম। সে সময় আমার বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদ-এর বাড়িতে চাকরি করতেন। বাবার চাকরির সুবাদে আমরা সেখানে থাকতাম। গ্রাম ছিল সবুজে ভরা, মাটির রঙিন রাস্তায় হেঁটে চলা, পাখির ডাক আর শিশুদের চিৎকারে ভরা। ঈদের আগে রমযানের শেষ ১০ দিন ছিল সবচেয়ে ব্যস্ততম সময়।
আমাদের জামা কাপড় কেনার ধুম তখন শুরু হতো। বাবা তাঁর স্বল্প আয়ের পয়সা দিয়ে আমাদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতেন। সেই আনন্দকে কীভাবে বলা যায়! ছোট ছোট দোকানে গিয়ে রঙিন কাপড় দেখা, হাতে ছোঁয়া, বাবা সঙ্গে দাঁড়িয়ে বলতেন, “যেটা ভালো লাগছে, সেটি নাও।” জামা কাপড় কিনে, ঘরে ফিরলে মা তাদের দিয়ে সাজানোর কাজ করতেন। সেই সময়ের ছোট ছোট অনুভূতি আজও মনে পড়ে – নতুন জামার গন্ধ, হালকা কাগজের ব্যাগের শব্দ, এবং বাবার হাসি।
ঈদের দু-এক দিন আগে আমরা মাইজপাড়া থেকে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় যেতাম। লঞ্চে চড়ে নদীর হাওয়া আমাদের কানে ফিসফিস করত, লাল সূর্যাস্ত নদীর ওপরে ঝলমল করছিল। পদ্মার ঢেউগুলো লঞ্চের পাশ দিয়ে আসতো, আর আমরা ছোট ছোট পা নিয়ে ডেকচি ধরে তাকাতাম। শিবচর পৌঁছালে, আমাদের নানা বাড়িতে পৌঁছানোই ছিল সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।
নানা বাড়িতে এসে সব রকমের খালা, খালাতো ভাইবোন একত্র হতো। মামাতো ভাই থাকত, যিনি সবসময় মিষ্টি দিয়ে আমাদের অভ্যর্থনা দিতেন। দুই খালা, খালাতো ভাইবোনরা এসে মিশতাম আমরা। ছোটবেলায় এই মিলনই ছিল ঈদের মূল আকর্ষণ। পুরো বাড়ি যেন উৎসবে ভরে যেত। বারান্দায় আমরা বসে গল্প করতাম, খেলাধুলা করতাম, আর কখনও কখনও বাগানের চারপাশে ঘুরে বেড়াতাম।

সবচেয়ে মজার সময় শুরু হতো পটকা ফোটানো এবং তারাবাতি জ্বালানোর সময়। আমরা ছোট ভাইবোনরা একসাথে মাটিতে বসে পটকা ফোটাতাম। প্রথমবার পটকা ফোটানোর ভয় ভাবলেও তারপর আনন্দে হইহই করতাম। তারাবাতি হাতে নিয়ে ছোঁয়া, কেটে পড়ে যাওয়া ছোট ছোট আগুনের ঝলক – মনে হতো যেন পুরো আকাশ আমাদের নিজের। ছোটদের জন্য এই সময় ছিল এক অভিনব ম্যাজিক। আমাদের খুশির শব্দ পুরো গ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে যেত।
ঈদের সকালে সবার জন্য নতুন জামা পরার আনন্দ আলাদা। ঘরে ঘরে খাবারের গন্ধ, মা ও খালাদের হাতে তৈরি মুড়ি, পায়েস আর মিষ্টি আমাদের মুখে আনন্দের স্বাদ নিয়ে আসে। আমরা সকলে একে অপরকে “ঈদ মোবারক” বলতাম, আর বাবার হাসি, খালাদের চোখে আনন্দ – সবই মনে পরে আজও।
ঈদের দিনে গ্রামের রাস্তাগুলো ভরে যেত। সবাই নতুন জামা-কাপড়ে ঘুরে বেড়াত। আমরা ভাইবোনেরা একে অপরকে নিয়ে খেলা করতাম। কখনও দৌড় লাগাতাম, কখনও লুকোচুরি খেলতাম। গ্রামের ছোট দোকানগুলোতে রঙিন পাপড়ি, চকলেট আর খেলনার ঝাঁপি থাকে, সেগুলো কিনে আমরা আনন্দিত হতাম।
শিবচরের গ্রামাঞ্চলে এই সময় ছোটবেলার স্মৃতি সবচেয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। যেকোনো মিষ্টি খাওয়া, কেক খাওয়া বা মাঠে দৌড়ানো মুহূর্ত আমাদের মনে আজও জীবন্ত। মামাতো ভাই আর খালাতো ভাইবোনদের সঙ্গে খেলা, পটকা আর তারাবাতি – সব মিলিয়ে ঈদ মানেই ছিল এক অসাধারণ আনন্দ।
ঈদের দুপুরে পরিবারের সবাই একত্র হতো। নানা বাড়ির আড্ডা, গল্প, হাসি আর ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের আনন্দ – সব মিলিয়ে গ্রামজীবন যেন এক মেলায় পরিণত হতো। রাতের দিকে আমরা ফিরে যেতাম মাইজপাড়া। লঞ্চের ভেতর আমরা ঘুমিয়ে পড়তাম, নদীর ঢেউ আর হাওয়া আমাদের কোলবসা দিত।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
আজও যখন সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে, মনে হয় ছোটবেলার ঈদ এক অন্য রকম পৃথিবী ছিল। যেখানে টাকা-পয়সার ভাবনা কম, আনন্দের মাত্রা বেশি। গ্রামের মাঠ, নদীর তীর, তারাবাতি আর পটকা – সব মিলিয়ে আমাদের শৈশবের ঈদকে একটি সুন্দর নস্টালজিক রূপ দিয়েছে।
শিশুকালীন আনন্দ আর পারিবারিক মিলন আজও মনে করিয়ে দেয়, সত্যিই ঈদ শুধু জামা কাপড়ের উৎসব নয়, বরং ভালোবাসা, মিলন এবং শিশুকালীন সুখের একটি চিরন্তন স্মৃতি।
Last Update: 6 months ago
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
Leave a Reply