ঈদ মানেই আনন্দ, কিন্তু ছোটবেলায় আমাদের কাছে ঈদের আসল আনন্দটা শুরু হতো ঈদের আগের ২-৩ দিন থেকেই। এখন ভাবলে মনে হয়—ঈদের দিনটা যতটা না উপভোগ করতাম, তার চেয়েও বেশি উপভোগ করতাম সেই অপেক্ষার সময়গুলো।
ঈদের চাঁদ দেখার আগের দিনগুলোতেই আমাদের ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করত। রমযানের শেষ দিকে এসে মনে হতো—“আর কতদিন?” প্রতিদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতারের পর আমরা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কখন চাঁদ উঠবে, কখন ঘোষণা হবে—কাল ঈদ!
ঈদের দুই-তিন দিন আগে থেকেই আমাদের আসল প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত। নতুন জামা কাপড় আগেই কেনা হয়ে যেত, কিন্তু আমরা সেগুলো বারবার বের করে দেখতাম। মা বকতেন—“এত দেখলে নষ্ট হয়ে যাবে!” কিন্তু তাও লুকিয়ে লুকিয়ে জামা বের করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেরে দেখতাম। মনে হতো, ঈদের দিনটা যেন তাড়াতাড়ি চলে আসে।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।
এই সময়ের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল বাজি আর তারাবাতি। বিকেল হলেই আমরা পাড়ার বন্ধুদের নিয়ে একসাথে জড়ো হতাম। কার কাছে কত বাজি আছে, কার তারাবাতি বেশি—এই নিয়ে চলত প্রতিযোগিতা। কেউ কেউ আবার একটু চালাক ছিল, তারা আগে থেকেই বেশি বাজি জমা করে রাখত।
সন্ধ্যার পর শুরু হতো আসল মজা। প্রথমে একটু ভয় ভয় লাগত বাজি ধরাতে, কিন্তু একবার অভ্যাস হয়ে গেলে আর থামতেই চাইতাম না। একটা বাজি ফুটলে আমরা সবাই চিৎকার করে উঠতাম। তারপর একে একে সবাই নিজের বাজি ফুটাতাম।
তারাবাতির আলো ছিল এক অন্যরকম আনন্দ। ছোট্ট সেই আগুনের ফুলঝুরি হাতে নিয়ে ঘুরাতে ঘুরাতে আমরা যেন নিজেরাই একটা আলোর উৎসব তৈরি করতাম। কেউ গোল গোল করে ঘুরাতো, কেউ আবার নাম লিখতে চেষ্টা করত বাতাসে। তখন মনে হতো—এই ছোট্ট আলোতেই যেন পুরো পৃথিবীটা সুন্দর হয়ে গেছে।
পাড়ার রাস্তাগুলো তখন আমাদের দখলে থাকত। বড়রা দূর থেকে দেখতেন আর মাঝে মাঝে বলতেন—“সাবধানে করো!” কিন্তু আমরা তো তখন আনন্দে মেতে আছি, সাবধানতার কথা কে শোনে!

ঈদের আগের রাতগুলোতে ঘুমই আসতে চাইত না। বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতাম—আগামীকাল সকালে কী করব। কার বাসায় আগে যাব, কয় টাকা সেলামি পাব, কী কী খাব—সবকিছু আগেই পরিকল্পনা করে ফেলতাম। কিন্তু ঘুম আসতে দেরি হতো, আর মা বারবার বলতেন—“ঘুমাও, না হলে সকালে উঠতে পারবে না।”
ঈদের আগের দিনগুলোতে বাড়ির পরিবেশও অন্যরকম হয়ে যেত। মা রান্নাঘরে ব্যস্ত থাকতেন—সেমাই, পায়েস, নানা রকম খাবার তৈরি করতেন। সেই গন্ধে পুরো ঘর ভরে যেত। আমরা মাঝে মাঝে রান্নাঘরে ঢুকে চুরি করে কিছু খাওয়ার চেষ্টা করতাম, আর ধরা পড়লে বকা খেতাম।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
বন্ধুদের সঙ্গে এই সময়ের সম্পর্কটা ছিল সবচেয়ে মজার। প্রতিদিন দেখা, প্রতিদিন খেলা, প্রতিদিন নতুন নতুন পরিকল্পনা। কেউ বলত—“কাল সকালে আমার বাসায় আগে আসবি।” আরেকজন বলত—“না, আগে আমার বাসায় আসতে হবে।” এই নিয়েই চলত হাসাহাসি।
ঈদের আগের শেষ রাতে চাঁদ দেখার মুহূর্তটা ছিল সবচেয়ে স্পেশাল। যখন খবর আসত—চাঁদ দেখা গেছে, তখন পুরো পাড়া যেন একসাথে আনন্দে ফেটে পড়ত। সবাই একে অপরকে বলত—“ঈদ মোবারক!” যদিও ঈদ পরের দিন, কিন্তু আনন্দটা তখনই শুরু হয়ে যেত।
সেই রাতে আবার বাজি আর তারাবাতির আসর জমে উঠত। মনে হতো—আজই যেন সবচেয়ে বড় উৎসব। আকাশে চাঁদ, চারপাশে আলো, আর আমাদের হাসি—সব মিলিয়ে এক অসাধারণ পরিবেশ।
আজকের দিনে সবকিছু অনেক বদলে গেছে। বাজি কমে গেছে, তারাবাতি প্রায় হারিয়ে গেছে। এখন মোবাইল, টিভি আর নানা ব্যস্ততায় সেই আগের আনন্দটা খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু স্মৃতিগুলো এখনো রয়ে গেছে।
ছোটবেলার সেই ঈদের আগের দিনগুলো ছিল অপেক্ষার আনন্দে ভরা। তখন আমরা জানতাম না জীবনের কত জটিলতা আছে, জানতাম না দায়িত্ব কী জিনিস। শুধু জানতাম—ঈদ আসছে, আর আমরা খুশি।
আজ বড় হয়ে বুঝি—সেই অপেক্ষাটাই ছিল আসল আনন্দ। ঈদের দিনটা কেটে যেত খুব দ্রুত, কিন্তু আগের দিনগুলোর উত্তেজনা, প্রস্তুতি আর আনন্দ—সেগুলোই মনে গেঁথে থাকত সবচেয়ে বেশি।
সত্যিই, কোথায় হারিয়ে গেল সেই দিনগুলো! বাজির শব্দ, তারাবাতির আলো আর ঈদের অপেক্ষায় প্রহর গোনা—সবই এখন স্মৃতির পাতায় বন্দী।
Last Update: 8 months ago
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
Leave a Reply