রমযান মাসের শেষ দশ দিন এলেই আমাদের ছোটবেলার মনে এক ধরনের অদ্ভুত উত্তেজনা কাজ করত। বড়রা বলতেন—এই শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতগুলোর কোনো একটিতে রয়েছে মহিমান্বিত শবে কদরের রাত অথবা Laylat al-Qadr, যাকে আমরা সবাই শবে কদর বলে জানি। বিশেষ করে ২৭শে রমযানের রাতকে সবাই বেশি গুরুত্ব দিত। গ্রামের মানুষের মুখে মুখে শোনা যেত—“আজকের রাতটা অনেক বড় রাত, যত পারো নামাজ পড়ো, দোয়া করো।” তখন হয়তো আমরা সেই রাতের প্রকৃত মাহাত্ম্য পুরোপুরি বুঝতাম না, কিন্তু একটা রহস্যময় আনন্দ ঠিকই অনুভব করতাম।
ছোটবেলায় এই রাত এলেই আমাদের মনে হতো যেন পুরো গ্রামটা অন্য রকম হয়ে গেছে। বিকেলের পর থেকেই সবাই একটু অন্যভাবে প্রস্তুতি নিত। কেউ তাড়াতাড়ি ইফতার করত, কেউ আবার রাতের খাবার একটু আগেই শেষ করে ফেলত। কারণ সবাই জানত—রাতে মসজিদে যেতে হবে। তখনকার দিনে গ্রামবাংলার মসজিদগুলো খুব বড় বা আধুনিক ছিল না, কিন্তু সেগুলোর মধ্যে ছিল এক ধরনের শান্তি আর পবিত্রতা।
আমরাও ছোটরা তখন খুব আগ্রহ নিয়ে মসজিদে যেতাম। মসজিদে যাওয়ার পথে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হতো। কেউ বলত, “আজ কিন্তু বেশি নামাজ পড়ব।” কেউ আবার মজা করে বলত, “দেখি কে বেশি নামাজ পড়তে পারে।” তখন মনে হতো, এ যেন এক ধরনের প্রতিযোগিতা। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা ছিল আনন্দের, নিষ্পাপ এক উৎসাহের।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।
মসজিদের বারান্দা ছিল আমাদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। ভেতরে বড়রা ইবাদতে ব্যস্ত থাকতেন, আর আমরা ছোটরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বা বসে নামাজ পড়তাম। মাঝে মাঝে একে অন্যকে গুনে গুনে বলতাম—“আমি চার রাকাত পড়লাম, তুমি কয় রাকাত পড়লে?” তখন মনে হতো, নামাজের সংখ্যাই যেন বড় অর্জন। আজ ভাবলে হাসি পায়, কিন্তু সেই সময়ের সরল আনন্দের তুলনা হয় না।
সেই সময় গ্রামে বিদ্যুৎ সবসময় থাকত না। অনেক সময় রাতের মাঝামাঝি হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যেত। পুরো মসজিদ তখন অন্ধকার হয়ে যেত। কিন্তু কেউ বিরক্ত হতো না। মসজিদের ইমাম সাহেব বা মুয়াজ্জিন তখন দ্রুত মোমবাতি জ্বালাতেন। মোমবাতির সেই ছোট ছোট আলো মসজিদের ভেতরে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করত। হলুদাভ আলো দেয়ালে পড়ে কাঁপত, আর সেই আলোয় নামাজ পড়তে পড়তে মনে হতো যেন আমরা অন্য এক জগতে চলে গেছি।

মোমবাতির আলোয় মসজিদের সেই দৃশ্য আজও চোখে ভাসে। বড়রা গভীর মনোযোগে দোয়া করতেন। কেউ কোরআন তিলাওয়াত করতেন, কেউ চুপচাপ বসে জিকির করতেন। আর আমরা ছোটরা কখনো নামাজ পড়তাম, কখনো আবার একটু বাইরে গিয়ে দাঁড়াতাম। তারপর আবার দৌড়ে এসে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতাম।
মসজিদের উঠানে তখন এক ধরনের শান্ত পরিবেশ থাকত। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যেত, কখনো হালকা বাতাস বইত। সেই বাতাসে মোমবাতির শিখা একটু দুলে উঠত। মাঝে মাঝে মনে হতো—এই রাতটা যেন সত্যিই অন্যরকম।
বন্ধুদের সঙ্গে সেই রাতের স্মৃতিগুলো ছিল সবচেয়ে আনন্দের। নামাজের ফাঁকে ফাঁকে আমরা একে অন্যকে জিজ্ঞেস করতাম—“আর কতক্ষণ থাকবি?” কেউ বলত, “ফজর পর্যন্ত থাকব।” কেউ আবার একটু ক্লান্ত হয়ে বলত, “দেখি, যদি ঘুম না পায়।” কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমরা চেষ্টা করতাম যতক্ষণ সম্ভব মসজিদে থাকার।
মাঝে মাঝে ইমাম সাহেব ছোটদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতেন। হয়তো তিনি বুঝতেন, আমরা পুরো বিষয়টা না বুঝলেও আমাদের মধ্যে একটা আগ্রহ আছে। সেই আগ্রহটাই হয়তো সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
রাত যত গভীর হতো, মসজিদে তত বেশি নীরবতা নেমে আসত। বড়রা দীর্ঘ দোয়ায় মগ্ন থাকতেন। কেউ চোখের পানি ফেলতেন, কেউ মাথা নিচু করে বসে থাকতেন। তখন আমরা ছোটরা একটু অবাক হয়ে সেই দৃশ্য দেখতাম। বুঝতাম না কেন তারা কাঁদছেন, কিন্তু অনুভব করতাম—এই রাতটা নিশ্চয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ।
রাতের শেষের দিকে যখন ফজরের সময় ঘনিয়ে আসত, তখন মসজিদের পরিবেশ আবার একটু বদলে যেত। সবাই ধীরে ধীরে প্রস্তুত হতো। কেউ অজু করত, কেউ আবার একটু বাইরে গিয়ে ঠাণ্ডা হাওয়া খেয়ে আসত। তারপর ফজরের নামাজ পড়া হতো।
ফজরের নামাজ শেষে আমরা বন্ধুদের সঙ্গে মসজিদের বাইরে বের হতাম। আকাশে তখন হালকা আলো ফুটতে শুরু করেছে। পাখিরা ডাকছে, চারপাশে ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশ। আমরা হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির দিকে ফিরতাম। মনে হতো—আজ আমরা যেন খুব বড় একটা কাজ করে ফেলেছি।
আরো পড়ুন: https://sonalibikel.com/chand-night-before-eid/
বাড়িতে ফিরে মা জিজ্ঞেস করতেন, “সারা রাত মসজিদে ছিলে?” আমরা গর্ব করে বলতাম, “হ্যাঁ!” যদিও মাঝে মাঝে একটু ঘুমও পেত, কিন্তু তবুও সেই রাতের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে গভীর আনন্দ এনে দিত।
আজ যখন সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে, তখন মনে হয়—আহা, কোথায় হারিয়ে গেল সেই সময়! এখন মসজিদে আলো জ্বলে, বিদ্যুৎ থাকে, সবকিছু অনেক আধুনিক। কিন্তু সেই মোমবাতির আলোয় কাটানো শবে কদরের রাতের যে অনুভূতি ছিল, তা যেন আর ফিরে পাওয়া যায় না।
ছোটবেলার সেই সরল আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে নামাজ পড়ার প্রতিযোগিতা, বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতির আলোয় ইবাদত—সব মিলিয়ে সেই রাতগুলো ছিল সত্যিই অনন্য। তখন হয়তো আমরা শবে কদরের পূর্ণ গুরুত্ব বুঝতাম না, কিন্তু সেই পরিবেশ, সেই অনুভূতি আমাদের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
আজ বড় হয়ে বুঝতে পারি—সেই রাতগুলো শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং ছিল এক ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক মিলনের মুহূর্ত। পুরো গ্রাম যেন একসঙ্গে জেগে থাকত, একসঙ্গে প্রার্থনা করত।
সময় বদলে গেছে, জীবন অনেক ব্যস্ত হয়ে গেছে। কিন্তু মাঝে মাঝে যখন গভীর রাতে কোনো মসজিদের আলো দেখি, তখন হঠাৎ করেই মনে পড়ে যায় সেই ছোটবেলার শবে কদরের রাতগুলো। মনে পড়ে যায় মসজিদের বারান্দা, বন্ধুদের হাসি, আর মোমবাতির কাঁপা আলো।
আজ ১৬ই মার্চ ২০২৬ ইং। ২৬শে রমযানের রাত। আজ হটাৎ করে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। হয়তো সেই দিনগুলো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু স্মৃতির ভাঁজে তারা আজও ঠিক আগের মতোই উজ্জ্বল হয়ে আছে। আর যখনই সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে, তখন মনে হয়—শৈশবের সেই সরল সময়টাই ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়।
সত্যিই, কোথায় হারিয়ে গেল সেই মোমবাতির আলোয় ভরা শবে কদরের রাতগুলো!
Last Update: 8 months ago
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
Leave a Reply