“ইন্টারনেট ছিল না, ফোন ছিল না, কিন্তু বিকেল ছিল — একেবারে প্রাণভরে ছিল।”
🌤️ বিকেল শুরু হতো ঘড়ি দেখে নয়, রোদ দেখে
৯০ দশকে আমরা সময় মেপে কাটাতাম না। সূর্যের আলোই ছিল ঘড়ি। দুপুরের খাবারের পর একটু ঘুম না এলেও বিছানায় গড়াগড়ি দিতাম, কারণ মা বলতেন, “একটু শুয়ে না নিলে খেলতে যেতে দিই না।”
আর বিকেল নামলেই যেন প্রাণে একটা শব্দ বাজত—“চল, খেলতে যাই!”
কেউ দরজার পাশে এসে ডাকত, কেউ জানালার ফাঁক দিয়ে আওয়াজ দিত। না মোবাইল, না মেসেঞ্জার—তবুও সবাই ঠিক জানত কখন দেখা হবে, কোথায় খেলা হবে।
🛝 খেলাধুলা ছিল বিনোদনের আসল পাঠশালা
আমাদের বিনোদন ছিল ধুলোয় মাখা, ঘামে ভেজা।
একটা ছোট্ট মাঠেই কতো খেলা—
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।
- 🏏 বাউন্ডারি ধরে ক্রিকেট (জানালার কাঁচ ভাঙা মানেই খেলা বন্ধ!)
- 🪢 দড়ি লাফ
- 🏃 চোর-পুলিশ
- 🎯 গোল্লাছুট
- 🌳 গাছে ওঠা-নামা
- 🏡 “খুড়োর বাড়ি” বানানো
সবই ছিল বাস্তবের মধ্যে কল্পনার রাজ্য!
🍭 টুকরো টুকরো আনন্দ ছিল চারদিকে
ভাঙা কলসি দিয়ে বল খেলতাম, পুরোনো জুতো পায়ে দৌড় দিতাম।
পাঁচটা পয়সায় বাবলগাম, লাল টফি বা ঝাল মুড়ির স্বাদ ছিল রাজকীয়!
আর যদি কারো বাড়িতে নতুন ভিডিও ক্যাসেট আসত, খবর ছড়িয়ে পড়ত পুরো পাড়ায়—
“আজ রাতে হুমায়ুন ফরিদীর নাটক চলবে!”
আমরা বিকেল থেকে প্রস্তুতি নিতাম, যেন রাতের সেই VHS নাটক মিস না হয়।
📻 বিকেলের রেডিও, আর ঘরের চা
খেলা শেষে ঘেমে-নেয়ে বাড়ি ফিরতাম। মা বলতেন, “এই যে, চা বানিয়েছি, বিস্কুট খেয়ে আয়।”
রেডিওতে বাজত—
“এই পৃথিবীর পরে আর কোনো গান নাই…”
মা বা দিদা তখন গল্প করতেন পুরোনো দিনের। আর আমরা শুনতাম, যেন সেই গল্পগুলোই হয়ে উঠত আমাদের সিনেমা।
📚 হোমওয়ার্ক মানেই মোমবাতির যুদ্ধ
যেদিন বেশি খেলতাম, সেদিন পড়ার সময় কমে যেত।
কারেন্ট গেলে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তাম—এক হাতে বই, অন্য হাতে ঘুম।
তবুও সেই মোমবাতির আলোয় ছিল একধরনের শান্তি, যেটা আজকের LED লাইটেও পাওয়া যায় না।
📵 না ছিল ফোন, না ছিল ইন্টারনেট—তবুও কানেক্টেড ছিলাম
আজকের দিনে ফোন ছাড়া কেউ ভাবতেই পারে না যোগাযোগ। কিন্তু তখন?
- দরজায় টোকা দিয়ে ডাক
- ছাদে উঠে চিৎকার
- “তোদের বাসায় যাচ্ছি” বলে হাজির হওয়া
বন্ধুত্ব ছিল মোবাইলবিহীন, তবুও সম্পর্ক ছিল গভীর।
৯০ দশকের বিকেল মানেই ছিল স্কুল থেকে ফেরার পরপরই যেন একটা মুক্ত পৃথিবীতে পা রাখা। তখনকার মা-বাবারা আজকের মতো “হোমওয়ার্ক আগে করো” এই বাক্যটা খুব একটা বলতেন না। বই ব্যাগটা ছুঁড়ে ফেলে, খালি গায়ে মাঠে দৌড়ানো শুরু হতো। কারো হাতে ক্রিকেট ব্যাট, কারো কাছে ছেঁড়া ফুটবল, আবার কেউ কেউ পাতার পাখা নিয়ে গোল্লাছুট খেলছে। মোবাইল ছিল না, ভিডিও গেম ছিল না—কিন্তু ছিল বাস্তব হাসি, সত্যিকারের বন্ধুত্ব। মাঠের চারপাশে বালির ধুলো উড়ত, পায়ের তালু জ্বলে উঠত গরম মাটিতে, তবু সেই আনন্দের তুলনা হয় না। হেরে যাওয়ায় কান্না, জিতে যাওয়ায় চিৎকার—সব মিলিয়ে বিকেল ছিল একটা সত্যিকারের যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে কোনো পুরস্কার না থাকলেও ছিল অন্তহীন গর্ব।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
সেই সময়কার বিকেলে প্রকৃতির একটা নিজস্ব সৌন্দর্য ছিল। পাড়ার পাশের খাল, বাউল গানের দূর থেকে ভেসে আসা সুর, কলাপাতার ডগায় জমে থাকা শিশির… সবকিছু যেন এক অনুপম কাব্যের অংশ ছিল। অনেকেই বিকেলে সাইকেল নিয়ে বের হতো গ্রামের পথে, কেউ নদীর পাড়ে বসে আকাশের রঙ বদল দেখত, কেউ বা পুকুরে পা ডুবিয়ে গল্প করত ঘন্টার পর ঘন্টা। তখন দিনের আলো কমে এলেই মনে হতো সময় থমকে গেছে, চারপাশে শুধু একটা সোনালি আভা। সন্ধ্যা আসার আগ মুহূর্তটা ছিল যেন সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে নরম একটা সময়, যা কেবল অনুভব করা যেত—কোনো ছবি বা শব্দে ধরা যেত না।
সন্ধ্যা নামার একটু আগেই বাড়িতে ফিরে আসতাম আমরা। মা তখন উঠানে চায়ের কাপ হাতে বসে থাকতেন, বাবার মুখে গল্প চলত অফিসের অভিজ্ঞতা নিয়ে। ঠাকুরমা হয়তো তখন চুপচাপ বসে চুল আচড়াচ্ছেন, চোখে স্মৃতির ছায়া। বাড়ির রেডিওতে চলত কোনো পুরোনো বাংলা গান—“এই পথ যদি না শেষ হয়…”। পরিবারের সবাই একসাথে বসে গল্প করত, হাসত, কাঁদত, কখনো খেলার রেজাল্ট নিয়ে খুঁনসুটি চলত। আধুনিক জীবনের তাড়াহুড়োর সেই চাপ তখন ছিল না। বিকেলটা ছিল পুরোপুরি পরিবারের জন্য—কোনো ফোন, কোনো টিভি, কোনো বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন ছাড়াই।
কেউ কেউ ছিল একটু অন্যরকম—যারা মাঠে না গিয়ে বসে পড়ত ডায়েরি হাতে। জানালার পাশে বসে সূর্য ডোবার মুহূর্তে কিছু শব্দ লেখা, পাতা উলটে পুরোনো চিঠি পড়া, কিংবা নিজের ভেতরের গুঞ্জনগুলোকে কবিতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করত তারা। তখনকার অনেক লেখালেখির শুরুই হয়েছে এই সময়টায়। কিছু লেখা ছিল কখনো কাউকে না দেখানোর জন্য, কিছু লেখা হয়ে উঠেছিল ভালোবাসার চিহ্ন। সেইসব বিকেলে জন্ম নিয়েছিল অনেক নীরব প্রেম, অনেক স্বপ্ন, আর অনেক না বলা কথা।
৯০ দশকের বিকেলে না ছিল মোবাইল ফোন, না ইন্টারনেট, না ট্যাব। টেলিভিশন ছিল, কিন্তু বিকেলটা ছিল তার বাইরে এক জগৎ। বিকেল কাটত বাস্তব অভিজ্ঞতায়, বাস্তব স্পর্শে। ফোনে কথা বলার বদলে দেখা হতো, চোখে চোখ রেখে হাসা হতো। চিঠি লেখা হতো হাতে, গল্প শোনা হতো ঠাকুরমার মুখে। এখন মনে হয়, সেই অনুপস্থিত প্রযুক্তিই আমাদের শিখিয়েছিল কীভাবে প্রকৃতিকে ছুঁতে হয়, কীভাবে সম্পর্ককে সময় দিতে হয়।
সেই সময়ের বিকেলগুলোকে শুধু সময় দিয়ে মাপা যায় না। সেটা ছিল এক অনুভবের জায়গা, এক আবেগের বন্ধন। বিকেল মানেই ছিল একটু নিঃশ্বাস, একটু শান্তি, একটু নিজের সঙ্গে সময় কাটানো। আজ এতদিন পর মনে হয়, আমরা আসলে তখন প্রতিদিনই একটু করে জীবনকে ভালোবাসতাম—বিনা আলোকে, বিনা শব্দে, একান্ত নীরবে। যে বিকেলগুলো এখনো চোখ বুজলে দেখা যায়, মনে বাজে হারমোনিয়ামের সুরে মাখা এক বিকেলের গল্প।
Last Update: 6 months ago
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
Leave a Reply