হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্ব: শৈশবের সেই বন্ধুর গল্প

হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্ব

শৈশব—এই শব্দটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে একরাশ হাসি, দুষ্টুমি, আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। জীবনের সেই সময়টাতে কোনো স্বার্থ থাকে না, কোনো হিসাব থাকে না—থাকে শুধু কিছু মানুষ, যারা অজান্তেই হয়ে ওঠে আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ। সময়ের সাথে সাথে আমরা বড় হই, দায়িত্ব বাড়ে, জীবন বদলায়… কিন্তু কিছু স্মৃতি, কিছু সম্পর্ক—মন থেকে কখনোই মুছে যায় না। এই গল্পটা ঠিক তেমনই—দুই বন্ধুর, যারা একসময় ছিল একে অপরের পৃথিবী। হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্ব যে কতটা বেদনাদায়ক তা যার হারিয়েছে সেই বুঝে।

রাহাত আর সুমন—একই গ্রামের দুই ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তাদের বন্ধুত্বটা ছিল অটুট। একই স্কুলে পড়া, একই বেঞ্চে বসা, একই খাতা ভাগাভাগি করে লেখা—সবকিছুতেই তারা ছিল একসাথে। সকালবেলা স্কুলে যাওয়ার সময় তারা একে অপরের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ডাক দিত, তারপর গল্প করতে করতে, হাসতে হাসতে স্কুলের পথে হাঁটত। রাস্তার ধুলোমাখা পথ, গাছের ছায়া, আর পাখির ডাক—সবকিছু যেন তাদের বন্ধুত্বের সাক্ষী ছিল। স্কুল শেষে তাদের আসল জীবন শুরু হতো। বই-খাতা ছুঁড়ে রেখে তারা দৌড়ে যেত মাঠে। কখনো ফুটবল, কখনো ক্রিকেট, আবার কখনো গাছের ডালে চড়ে আম পাড়া—তাদের প্রতিটা দিন ছিল নতুন এক অ্যাডভেঞ্চার। পুকুরের ঠান্ডা পানিতে ঝাঁপ দেওয়া, বিকেলের হালকা রোদে ভিজে যাওয়া, আর সন্ধ্যা নামলে বাড়ি ফেরার সময় মায়ের বকুনি—এসবই ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অংশ।

যাবতীয় ফাইল, ফর‌ম্যাট, সিভি ইত্যাদি পাবেন ডক ঘরে। বিস্তারিত জানতে https://docghor.com/

রাহাত ছিল একটু শান্ত, ভেবে চিন্তে কথা বলত। অন্যদিকে সুমন ছিল একেবারে উল্টো—চঞ্চল, হাসিখুশি, আর সবসময় মজা করতে ভালোবাসত। কিন্তু এই ভিন্নতাই তাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে তুলেছিল। সুমনের উচ্ছ্বাস রাহাতকে প্রাণবন্ত করে তুলত, আর রাহাতের স্থিরতা সুমনকে অনেক সময় সঠিক পথে রাখত।

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।

একদিন ক্লাসে শিক্ষক সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন—“তোমরা বড় হয়ে কি হতে চাও?”
ক্লাসের সবাই একে একে নিজের স্বপ্ন বলছিল। কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ পুলিশ। সুমনের পালা এলে সে হেসে বলল, “আমি বড় হয়ে অনেক টাকা কামাবো!”—তার কথা শুনে পুরো ক্লাস হেসে উঠল।
রাহাতের পালা এলে সে একটু চুপ করে থেকে বলল, “আমি বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হতে চাই।”
এই উত্তরটা শুনে আবারও হাসির রোল উঠল, কিন্তু সুমন রাহাতের দিকে তাকিয়ে গম্ভীরভাবে বলেছিল—“তুই যা হবি, আমি তোর পাশেই থাকবো।”
সেই ছোট্ট কথাটার গভীরতা তারা তখন বুঝতে পারেনি, কিন্তু সেটাই ছিল তাদের বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি।

হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্ব

কিন্তু জীবন সবসময় একরকম থাকে না। একদিন হঠাৎ করেই সবকিছু বদলে গেল। সুমনের বাবা শহরে চাকরি পেলেন, আর সিদ্ধান্ত হলো—তারা গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যাবে। এই খবরটা যখন রাহাত শুনল, তখন তার মনে যেন এক অজানা শূন্যতা তৈরি হলো। সে কিছু বলতে পারছিল না, শুধু মনে হচ্ছিল—তার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে যেতে চলেছে।

শেষ দিনটা যেন অন্য সব দিনের থেকে আলাদা ছিল। আকাশটা মেঘলা ছিল, বাতাসে এক ধরনের বিষণ্ণতা। রাহাত আর সুমন মাঠের এক কোণে বসে ছিল, কিন্তু আজ কোনো খেলা নেই, কোনো হাসি নেই—শুধু নীরবতা।
সুমন ধীরে বলল, “আমি চলে গেলে তুই আমাকে ভুলে যাবি না তো?”
রাহাত চোখের পানি সামলে বলল, “বন্ধু কি কখনো ভুলে যায়?”

সুমন তার পকেট থেকে একটা ছোট্ট বাঁশির মতো খেলনা বের করে রাহাতের হাতে দিল। বলল, “এটা রাখ। যখন বাজাবি, তখন আমাকে মনে পড়বে।”
রাহাত কিছু বলতে পারল না। শুধু শক্ত করে সেই খেলনাটা ধরে রাখল—যেন সেটার মধ্যেই সে তার বন্ধুকে ধরে রাখতে পারবে। তারপর সময় বয়ে যেতে লাগল। দিন, মাস, বছর—সবকিছু বদলে গেল। রাহাত বড় হলো, পড়াশোনা শেষ করে শহরে চাকরি নিল। ব্যস্ততা, দায়িত্ব, নতুন মানুষ—সবকিছুর ভিড়ে সে ধীরে ধীরে সেই শৈশবের দিনগুলোকে ভুলতে শুরু করল। কিন্তু পুরোপুরি নয়। মাঝে মাঝে গভীর রাতে, যখন চারপাশ নিঃশব্দ হয়ে যায়, তখন সেই পুরনো স্মৃতিগুলো ফিরে আসে। আর সেই বাঁশিটা—যেটা সে আজও যত্ন করে রেখে দিয়েছে—তার জীবনের একমাত্র সেতু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে অতীতের সাথে।

একদিন অফিস থেকে ফেরার পথে, শহরের ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ করে একজন লোক তার দিকে তাকিয়ে হাসল।
“তুই কি রাহাত?”

রাহাত থেমে গেল। এই কণ্ঠস্বর, এই হাসি—এতো পরিচিত!
সে অবাক হয়ে বলল, “সুমন?”

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে

দুজনেই কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর হঠাৎ করেই জড়িয়ে ধরল। সেই মুহূর্তটা যেন তাদের আবার ফিরিয়ে নিয়ে গেল সেই ছোটবেলার দিনে, যেখানে কোনো দূরত্ব ছিল না, কোনো পরিবর্তন ছিল না। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা বুঝতে পারল—সবকিছু আগের মতো নেই। কথা হচ্ছিল, কিন্তু সেই আগের সহজতা, সেই প্রাণ খুলে হাসি—কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। জীবন তাদের অনেক দূরে নিয়ে গেছে—চিন্তায়, অভ্যাসে, স্বপ্নে।

আরো পড়ুন: বন্ধুত্বের বন্ধন থাকুক ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে

সুমন হালকা হেসে বলল, “সময় অনেক কিছু বদলে দেয়, তাই না?”
রাহাত একটু চুপ করে থেকে বলল, “হ্যাঁ… কিন্তু কিছু জিনিস কখনো বদলায় না।”

সে তার ব্যাগ থেকে সেই পুরনো বাঁশিটা বের করল। এত বছর পরেও সে সেটাকে আগলে রেখেছে।
সুমনের চোখ ভিজে উঠল। সে বুঝতে পারল—সবকিছু বদলে গেলেও, তাদের বন্ধুত্বটা কোথাও না কোথাও এখনো বেঁচে আছে।

সেই দিন তারা আবার আলাদা হয়ে গেল। কিন্তু এবার বিদায়টা কষ্টের ছিল না। কারণ তারা বুঝে গিয়েছিল—
বন্ধুত্ব কখনো হারিয়ে যায় না,
শুধু সময়ের ভিড়ে একটু লুকিয়ে পড়ে।

আর কোনো একদিন, হঠাৎ করেই—
সেটা আবার ফিরে আসে,
একটা পুরনো স্মৃতির মতো,
একটা নরম অনুভূতির মতো।

সেই আকস্মিক দেখা হওয়ার পর রাহাতের জীবনে যেন আবার নতুন করে কিছু অনুভূতি জেগে উঠল। এতদিন যেসব স্মৃতি শুধু মাঝেমধ্যে রাতের নিরবতায় তাকে ছুঁয়ে যেত, এখন সেগুলো দিনের আলোতেও তার মনে ভেসে উঠতে লাগল। অফিসের ব্যস্ততার মাঝেও হঠাৎ করে সে থেমে যেত—মনে পড়ত সেই মাঠ, সেই বিকেল, আর সেই ছেলেটা… সুমন। কয়েকদিন পর রাহাত নিজেই সুমনকে ফোন করল।
প্রথমে একটু অস্বস্তি ছিল—কি বলবে, কিভাবে শুরু করবে… কিন্তু ধীরে ধীরে কথাগুলো সহজ হয়ে গেল। তারা ঠিক করল, একদিন সময় করে কোথাও বসে অনেকক্ষণ গল্প করবে—পুরনো দিনের মতো।

সেদিন তারা শহরের এক নিরিবিলি জায়গায় দেখা করল। চারপাশে অনেক মানুষ, অনেক শব্দ—তবুও তাদের মধ্যে যেন একটা আলাদা জগৎ তৈরি হয়েছিল। তারা কথা বলতে শুরু করল—শুরুটা ছিল সাধারণ, “কেমন আছিস?”, “কি করছিস এখন?”—কিন্তু ধীরে ধীরে কথাগুলো গভীরে যেতে লাগল। সুমন বলল, শহরে আসার পর তার জীবন খুব সহজ ছিল না। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ—সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে। অনেক সময় সে নিজেকে একা মনে করত। সেই সময়গুলোতে সে প্রায়ই রাহাতের কথা ভাবত—ভাবত, যদি সে পাশে থাকত! রাহাতও নিজের গল্প বলল। বাইরে থেকে তার জীবন যতটা সহজ মনে হয়, ভেতরে ততটাই চাপ আর দায়িত্বে ভরা। অনেক স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সব স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবুও সে চেষ্টা করে গেছে—কারণ জীবন থেমে থাকে না।

কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে তারা দুজনেই চুপ হয়ে গেল। যেন দুজনেই একই কথা ভাবছিল—
“আমরা কি সত্যিই আগের মতো ফিরে যেতে পারবো?”

সুমন ধীরে বলল,
— “তুই কি কখনো আমার ওপর রাগ করেছিলি? আমি চলে গেছিলাম বলে…”

রাহাত একটু হেসে মাথা নাড়ল,
— “না… রাগ না। কিন্তু খুব খালি খালি লাগত। মনে হতো, আমার জীবনের অর্ধেকটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।”

এই কথাটা শুনে সুমনের চোখ ভিজে উঠল।
সে বুঝতে পারল—দূরত্ব শুধু জায়গার না, সময়েরও হয়। আর সেই দূরত্ব পেরিয়ে আসতে গেলে অনেক সাহস লাগে।

সুমন চলে যাওয়ার পর আবার রাহাতের জীবন আগের মতো হয়ে গেল—ব্যস্ত, নিরব, আর একঘেয়ে।
কিন্তু এবার একটা পার্থক্য ছিল—সে জানত, কোথাও না কোথাও তার একটা বন্ধু আছে, যে তাকে এখনো মনে করে।

কখনো গভীর রাতে, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রাহাত সেই বাঁশিটা হাতে নেয়।
হালকা করে বাজায়…
আর মনে মনে ভাবে—
“হয়তো এই একই আকাশের নিচে, সুমনও কোথাও দাঁড়িয়ে আছে”

সত্যিকারের বন্ধুত্ব সময়, দূরত্ব বা পরিস্থিতির কাছে হার মানে না—
এটা শুধু রূপ বদলায়, কিন্তু কখনো শেষ হয় না।

বন্ধু | শামীম আহমাদ

বন্ধু | শামীম আহমাদ

বন্ধু জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা শেখাতে কোনো আয়োজন লাগে না। তবে বন্ধুত্ব দুধারী তলোয়ার—সঠিক বন্ধু নির্বাচন করতে প্রয়োজন সচেতনতা ও দিকনির্দেশনা।

২০২৫ এর বই মেলায় বইটি রিলিজ হয়েছে। প্রত্যেকের বইটি পড়া উচিত।

বইটি কিনতে নিচের Buy Now বাটনে ক্লিক করুন। ৪০০ টাকার বইটি মাত্র ২০০ টাকায় পেয়ে যাবেন।

 

শিল্পি সায়ান তাই হয়তো গানটি গেয়েছিল:-

“এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর সাথে সকাল বিকেল বেলা,

কত পুরোনো-নতুন পরিচিত গান গাইতাম খুলে গলা”।

চলুন গানটি শুনি !

আরো শুনতে পারেন Smak Azad ভাইয়ের লেখা বন্ধু বন্ধু বন্ধুরে গানটি…………….!

কেমন লাগলো?

নস্টালজিয়া ফিল!


Last Update: 5 months ago

 

Casio Original Calculator

Casio Original Calculator

পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.