ছোটবেলার বিকেল মানেই ছিল এক অন্যরকম স্বাধীনতা—যেটা আজকের দিনে খুঁজেও পাওয়া যায় না। এখনকার মতো মোবাইল, ইন্টারনেট, ভিডিও গেম—এসব কিছুই তখন আমাদের জীবনের অংশ ছিল না। তবুও আমরা কখনো বিরক্ত হতাম না, কখনো একঘেয়ে লাগত না। বরং সেই সময়টাই ছিল জীবনের সবচেয়ে রঙিন সময়। হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলো যেন ছিল একেকটা উৎসব, একেকটা গল্প।
দুপুরে ভাত খেয়ে একটু ঘুমানোর একটা নিয়ম ছিল। মা বা নানু জোর করেই ঘুম পাড়াতেন। কিন্তু সেই ঘুমটা যেন কখনোই ঠিকমতো হতো না। চোখ বন্ধ করে থাকতাম ঠিকই, কিন্তু মন পড়ে থাকত বাইরে—কখন বিকেল হবে, কখন বন্ধুদের সাথে খেলতে যাব! একটু সুযোগ পেলেই উঠে পড়তাম, চুপিচুপি দরজা দিয়ে বের হয়ে যেতাম।
বাইরে বের হলেই দেখা যেত—সবাই যেন আমার মতোই অপেক্ষা করছিল। একে একে সবাই জড়ো হতাম মাঠে বা কারো বাড়ির উঠানে। কেউ বলত—“আজ ক্রিকেট খেলব!” কেউ আবার বলত—“না, আজ গোল্লাছুট!” এই নিয়ে একটু তর্ক হতো ঠিকই, কিন্তু শেষমেশ একটা খেলা ঠিক হয়ে যেত।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।
আমাদের খেলাধুলার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না, ছিল না কোনো কোচ বা রেফারি। আমরা নিজেরাই নিয়ম বানাতাম, নিজেরাই বিচার করতাম। কখনো ঝগড়া হতো, কেউ রাগ করে চলে যেত, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসত। কারণ আমরা জানতাম—একসাথে না খেললে মজা নেই।
বিকেলের সেই রোদটা ছিল অন্যরকম। না বেশি গরম, না ঠাণ্ডা—একটা নরম আলো চারপাশে ছড়িয়ে থাকত। মাঠের ঘাসে দৌড়াতে দৌড়াতে পা ভিজে যেত, কোথাও কাদা লেগে যেত, কিন্তু তাতে আমাদের কোনো সমস্যা ছিল না। বরং এইসব ছোট ছোট জিনিসই আমাদের আনন্দ বাড়িয়ে দিত।
কখনো আমরা পুকুরপাড়ে চলে যেতাম। কেউ পা ডুবিয়ে বসে থাকত, কেউ ছোট ছোট মাছ ধরার চেষ্টা করত। কেউ আবার পানিতে ঢিল ছুঁড়ে দেখত—কতবার লাফাতে পারে। এইসব সাধারণ কাজগুলোই তখন আমাদের কাছে অসাধারণ মনে হতো।
কিছুদিন পরপরই আমাদের নতুন নতুন খেলার আইডিয়া আসত। কখনো গাছের ডাল দিয়ে তলোয়ার বানিয়ে যুদ্ধ খেলতাম, কখনো আবার লুকোচুরি খেলতাম। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও আমাদের খেলা থামত না। দূর থেকে মা ডাক দিতেন—“এই, বাড়ি আয়!” কিন্তু আমরা তখনও বলতাম—“আর একটু!”

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে চারপাশের পরিবেশ বদলে যেত। আকাশে পাখিরা ফিরত, গাছের পাতা নড়ত, আর একটা শান্ত ভাব নেমে আসত। তখন আমরা ধীরে ধীরে বাড়ির পথে হাঁটতাম। কেউ গল্প করছে, কেউ আবার সারাদিনের খেলার বিশ্লেষণ করছে—“আজ আমি বেশি রান করেছি”, “তুই কিন্তু আউট ছিলি!”
বাড়ি ফিরে বকা খাওয়াটা ছিল প্রায় নিয়মিত ব্যাপার। জামাকাপড় ময়লা, শরীর ঘামে ভেজা—এইসব দেখে মা একটু রাগ করতেন। কিন্তু সেই রাগের মধ্যেও ছিল ভালোবাসা। একটু পরেই আবার খাবার সামনে চলে আসত, আর আমরা সব ভুলে যেতাম।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
রাতের খাওয়ার পর পড়াশোনার একটা সময় থাকত। কিন্তু মনটা তখনো পড়ে থাকত বিকেলের খেলায়। বইয়ের পাতার দিকে তাকিয়ে থাকতাম ঠিকই, কিন্তু মাথার ভেতর ঘুরত—আগামীকাল কি খেলা হবে, কে আসবে, কি নতুন মজা করা যাবে।
আজ যখন সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে, তখন বুঝতে পারি—আমরা কত সহজেই সুখী ছিলাম। কোনো দামী খেলনা ছিল না, কোনো বিশেষ আয়োজন ছিল না—তবুও আমাদের আনন্দের কোনো কমতি ছিল না। কারণ আমাদের ছিল একে অপরের সঙ্গ, ছিল সেই নির্ভেজাল বন্ধুত্ব।
এখনকার দিনে বাচ্চারা হয়তো অনেক আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পায়, কিন্তু সেই সরল আনন্দটা হয়তো তারা পায় না। আমরা যে মাঠে খেলতাম, হয়তো সেখানে এখন বাড়ি হয়েছে। যে পুকুরপাড়ে বসতাম, হয়তো সেটা ভরে গেছে। কিন্তু স্মৃতিগুলো এখনো রয়ে গেছে, ঠিক আগের মতোই জীবন্ত।
মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে, যদি আবার সেই বিকেলগুলো ফিরে পাওয়া যেত! আবার যদি সেই মাঠে দৌড়ানো যেত, আবার যদি সেই বন্ধুদের সাথে একসাথে হাসা যেত! কিন্তু জানি, সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না।
তবুও সেই স্মৃতিগুলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কারণ এগুলোই আমাদের শিখিয়েছে—খুশি থাকতে খুব বেশি কিছু লাগে না। লাগে শুধু কিছু প্রিয় মানুষ, কিছু খোলা সময়, আর একটুখানি মুক্ত মন।
সত্যিই, শৈশবের সেই বিকেলগুলো ছিল সোনালি। আর সেই সোনালি বিকেলগুলোই আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্প হয়ে চিরদিন রয়ে যাবে।
আরো পড়ুন: হারানো শৈশবে দল বেঁধে স্কুলে যাওয়ার গল্প
এজাতীয় আরো অন্যান্য পোষ্ট:
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
Leave a Reply