ঈদের সকাল মানেই ছিল এক অদ্ভুত রকম উত্তেজনা—যেটা অন্য কোনো দিনের সকালে কখনোই অনুভব করা যেত না। ছোটবেলায় ঈদের দিন ভোর হওয়ার আগেই যেন মনটা জেগে উঠত। চোখ খুলতেই মনে হতো—আজ সেই দিন! সারা রমযান অপেক্ষার পর যে দিনের জন্য বুকের ভেতর আনন্দ জমে ছিল, অবশেষে সেই ঈদের সকাল এসে গেছে।
ভোরের আজানের আগেই অনেক সময় ঘুম ভেঙে যেত। বাইরে তখনো হালকা অন্ধকার, কিন্তু বাতাসে একটা অন্যরকম অনুভূতি—শীতল, পবিত্র আর আনন্দমাখা। ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই মনে হতো, আজ নতুন জামা পরব। সেই চিন্তাটাই যেন শরীরে একরাশ এনার্জি এনে দিত। অনেক সময় আবার মা বা নানু ডেকে তুলতেন—“উঠ, আজ ঈদ!” এই একটা ডাকই যথেষ্ট ছিল পুরো শরীরটা চাঙা করে দেওয়ার জন্য। তারপর শুরু হতো গোসলের প্রস্তুতি। ঈদের দিনের গোসলটা ছিল একেবারে আলাদা। কেউ গরম পানি করে দিচ্ছে, কেউ সাবান এগিয়ে দিচ্ছে—সবকিছুতেই ছিল এক ধরনের যত্ন আর ভালোবাসা। আমরা ছোটরা আবার তাড়াহুড়া করতাম, যেন দ্রুত গোসল শেষ করে নতুন জামাটা পরে ফেলতে পারি। নতুন জামা, নতুন পাঞ্জাবি বা শার্ট—সবকিছু আগের রাতেই বারবার দেখে রাখা হতো। ঈদের সকালে সেটা পরার সময় যে আনন্দটা হতো, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
গোসল শেষে নতুন জামা পরে আয়নার সামনে দাঁড়ানো ছিল একটা আলাদা আনন্দ। নিজের দিকে তাকিয়ে মনে হতো—আজ আমি যেন অন্যরকম! কেউ চুল আঁচড়াচ্ছে, কেউ আতর লাগাচ্ছে, কেউ আবার জুতা ঠিক করছে। বড়রা তখন আমাদের দেখে হাসতেন, আর বলতেন—“দেখে তো পুরো ঈদের বাচ্চা লাগছে!”
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।

এরপরই শুরু হতো ঈদের নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি। আব্বু, বড় ভাই বা মামারা সবাই একসাথে বের হতেন, আমরা ছোটরাও তাদের পিছু পিছু যেতাম। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় দেখা যেত—চারপাশের সবাই নতুন জামা পরে বের হয়েছে। কেউ কাউকে দেখে হাসছে, সালাম দিচ্ছে, কোলাকুলি করছে। পুরো গ্রামটা যেন একসাথে আনন্দে মেতে উঠেছে।
চাঁদ রাতের গল্প পড়ুন: নানাবাড়ির আঙিনায় হারিয়ে যাওয়া চাঁদ রাত
ঈদগাহ বা মসজিদের সেই দৃশ্যটা ছিল অসাধারণ। যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। সবাই একসাথে নামাজ পড়ছে—এই দৃশ্যটা মনে এক ধরনের শান্তি এনে দিত। নামাজ শেষে শুরু হতো কোলাকুলি। ছোটরা বড়দের সালাম করত, আর বড়রা মাথায় হাত রেখে দোয়া দিত। এই মুহূর্তগুলোই যেন ঈদের আসল সৌন্দর্য।
নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময়টা ছিল আরেকটা আনন্দের অংশ। পথে পথে বন্ধুবান্ধবদের সাথে দেখা হতো। কেউ বলছে—“দেখ, আমার জামাটা কেমন!” কেউ আবার নতুন জুতার গল্প করছে। আমরা হাঁটতে হাঁটতে হাসতাম, মজা করতাম, আর মনে হতো—এই পথটা যেন কখনো শেষ না হয়।
বাড়ি ফিরে শুরু হতো খাওয়াদাওয়া। ঈদের সকালের খাবার মানেই ছিল বিশেষ কিছু—সেমাই, পায়েস, পোলাও, মাংস—যা যা সাধারণ দিনে পাওয়া যেত না। মা বা নানুর হাতের রান্না ছিল অতুলনীয়। আমরা ছোটরা আবার বেশি খাওয়ার চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতাম কখন বাইরে গিয়ে বন্ধুদের সাথে দেখা করব। এরপর শুরু হতো ঈদ সালামি পাওয়ার পালা। বড়দের কাছে গিয়ে সালাম করতাম, আর তারা হাসিমুখে হাতে টাকা দিতেন। সেই ছোট ছোট টাকাগুলোই ছিল আমাদের কাছে বিশাল সম্পদ। কে কত টাকা পেল, কে কী কিনবে—এইসব নিয়ে শুরু হতো নতুন আলোচনা।
ঈদের সকালটা শুধু নিজের পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী—সবাই একে অপরের বাড়িতে যেত। কেউ মিষ্টি নিয়ে আসত, কেউ আবার দাওয়াত দিত। এই আসা-যাওয়ার মধ্যেই তৈরি হতো সম্পর্কের গভীরতা।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে

বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়াটা ছিল সবচেয়ে আনন্দের অংশ। সবাই নতুন জামা পরে এক জায়গায় জড়ো হতাম। কেউ গল্প করছে, কেউ খেলছে, কেউ আবার নিজের সালামির হিসাব দিচ্ছে। এই সময়টাতে কোনো দুঃখ, কোনো চিন্তা—কিছুই থাকত না। শুধু ছিল আনন্দ আর হাসি।
আজকের দিনে ঈদের সকাল হয়তো এখনো আসে, কিন্তু সেই ছোটবেলার অনুভূতিগুলো আর আগের মতো নেই। এখন আমরা বড় হয়ে গেছি, দায়িত্ব বেড়েছে, সময় কমে গেছে। তবুও মাঝে মাঝে যখন সেই পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে, তখন মনে হয়—ঈদের আসল আনন্দটা ছিল সেই সরলতায়, সেই একসাথে থাকার মধ্যে।
সত্যিই, ঈদের সকাল শুধু একটা দিন নয়—এটা ছিল একটা অনুভূতি, একটা স্মৃতি, একটা ভালোবাসার নাম। যা আজও মনে পড়লে মনটা ভরে যায় এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে।
বই কিনুন রকমারি থেকে: https://rokomari.com/
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
Leave a Reply