নানাবাড়ির আঙিনায় হারিয়ে যাওয়া চাঁদ রাত

৯০ দশকের ঈদের কথা মনে পড়লেই সবচেয়ে আগে যে ছবিটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে, সেটা হলো ঈদের আগের চাঁদ রাত এর আনন্দ। এখনকার মতো তখন এত আয়োজন, এত প্রযুক্তি, এত ব্যস্ততা ছিল না। কিন্তু সেই সরল সময়ের আনন্দ ছিল অনেক গভীর, অনেক সত্যি। বিশেষ করে নানাবাড়িতে কাটানো সেই চাঁদ রাতগুলো যেন ছিল শৈশবের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতি।

আমাদের জীবনটা তখন দুই জায়গার মধ্যে ভাগ হয়ে ছিল। আব্বু চাকরি করতেন মুন্সিগঞ্জে, আর আমরা ঈদের সময় চলে যেতাম নানাবাড়ি—মাদারীপুরের শিবচর থানার পাঁচ্চর গ্রামে। ঈদের দু-এক দিন আগে থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু হতো। সেই যাত্রাটাই ছিল এক ধরনের উৎসব। মনে হতো, আমরা যেন এক আনন্দের দেশে যাচ্ছি, যেখানে শুধু খেলা, হাসি আর আনন্দের রাজত্ব।

নানাবাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হতো অন্যরকম এক জীবন। শহরের কোলাহল নেই, নেই কোনো চাপ। চারদিকে শুধু খোলা আকাশ, গাছপালা, আর আপন মানুষদের ভিড়। খালাতো ভাই, মামাতো ভাইবোন—সবাই মিলে যেন একটা ছোটখাটো মেলা বসে যেত। কারো হাতে নতুন জামা, কেউ আবার আগেই পরে ফেলেছে, কেউ দেখাচ্ছে—“দেখ, আমারটা কেমন!” এইসব ছোট ছোট মুহূর্তেই তৈরি হতো আমাদের ঈদের আনন্দের ভিত্তি।

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।

ঈদের আগের দিনটিই ছিল সবচেয়ে স্পেশাল—চাঁদ রাত এর আনন্দ। সেই দিন সকাল থেকেই একটা অন্যরকম উত্তেজনা কাজ করত। সবাই অপেক্ষা করত, কখন বিকেল হবে, কখন সন্ধ্যা নামবে, আর কখন আকাশে দেখা যাবে সেই কাঙ্ক্ষিত চাঁদ। আমরা বারবার আকাশের দিকে তাকাতাম, যেন চাঁদটা একটু আগেই উঠে আসে।

বিকেলের দিকে নানাভাই বাজার থেকে ফিরতেন। তাঁর হাতে থাকত আমাদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত জিনিস—বোম্ব (বাজি) আর তারাবাতি। সেই দৃশ্যটা আজও চোখে ভাসে। আমরা সবাই দৌড়ে গিয়ে তাঁকে ঘিরে ধরতাম। কে আগে নেবে, কে বেশি পাবে—এই নিয়ে শুরু হতো ছোটখাটো হুল্লোড়। নানাভাই হাসিমুখে সবাইকে ভাগ করে দিতেন। সেই সময়টাতে মনে হতো—এই পৃথিবীতে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই।

চাঁদ রাত

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই শুরু হতো আমাদের আসল উৎসব। আকাশ একটু অন্ধকার হলেই আমরা বাজি ফোটাতে শুরু করতাম। প্রথমে একটু ভয় লাগত, কিন্তু তারপর সেই ভয় কেটে গিয়ে আনন্দে পরিণত হতো। একটা বাজি ফুটলে আমরা সবাই চিৎকার করে উঠতাম, হাসতাম, আর আরও বেশি উৎসাহ পেতাম।

তারাবাতি ছিল আমাদের সবচেয়ে প্রিয়। ছোট ছোট সেই আগুনের ফুলঝুরি হাতে নিয়ে আমরা দৌড়াতাম, ঘুরাতাম, নানা আকার বানানোর চেষ্টা করতাম। কেউ গোল বানাত, কেউ নাম লেখার চেষ্টা করত বাতাসে। সেই আলোয় আমাদের মুখগুলো ঝলমল করত, আর মনে হতো—আমরাই যেন এই উৎসবের সবচেয়ে বড় অংশ।

এদিকে বড়রা তখন চাঁদ দেখার জন্য প্রস্তুত। কেউ ছাদে উঠেছে, কেউ উঠানে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা বাজি ফোটাতে ফোটাতে হঠাৎ থেমে যেতাম—“চাঁদ দেখা গেছে?” কেউ বলত—“ওই দেখ!” সবাই একসাথে আকাশের দিকে তাকাতাম। সেই প্রথম চাঁদ দেখার অনুভূতিটা ছিল একেবারেই আলাদা। মনে হতো, ঈদ সত্যিই চলে এসেছে।

চাঁদ দেখার পর চারপাশে এক ধরনের আনন্দের ঢেউ বয়ে যেত। সবাই একে অপরকে বলত—“ঈদ মোবারক!” যদিও ঈদ তখনও আসেনি, কিন্তু সেই মুহূর্তেই যেন উৎসব শুরু হয়ে যেত। আমরা আবার নতুন করে বাজি ফোটাতে শুরু করতাম, যেন আনন্দটা আরও বাড়িয়ে দেওয়া যায়।

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে

খালাতো ভাই, মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে সেই সময়ের সম্পর্কটা ছিল সবচেয়ে মধুর। একসাথে হাসাহাসি, খেলা, দৌড়ঝাঁপ—সব মিলিয়ে সময়টা যেন থেমে যেত। কেউ কাউকে ডাকছে, কেউ হাসছে, কেউ আবার নতুন কোনো আইডিয়া দিচ্ছে—“চল, ওদিকে গিয়ে বাজি ফোটাই!” এইসব ছোট ছোট মুহূর্তই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ হয়ে উঠেছিল।

রাত বাড়ার সাথে সাথে আমরা একটু ক্লান্ত হয়ে যেতাম, কিন্তু তবুও ঘুমাতে যেতে চাইতাম না। মনে হতো—এই রাতটা যেন শেষ না হয়। কারণ জানতাম, এই চাঁদ রাতটাই হচ্ছে সেই বিশেষ সময়, যার জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি।

নানাবাড়ির উঠান, চারপাশের গাছপালা, দূরের গ্রামের আলো—সবকিছু মিলিয়ে সেই রাতটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। কোথাও কোনো কৃত্রিমতা ছিল না, ছিল শুধু নিখাদ আনন্দ। বড়রা গল্প করতেন, আমরা ছোটরা নিজেদের মতো করে আনন্দে মেতে থাকতাম।

আজ যখন সেই সময়ের কথা মনে পড়ে, তখন মনে হয়—আমরা কত সহজেই খুশি হতে পারতাম! একটা ছোট বাজি, একটা তারাবাতি, আর কিছু আপন মানুষ—এই কয়েকটা জিনিসই আমাদের ঈদকে পূর্ণ করে দিত।

এখন সবকিছু বদলে গেছে। সেই নানাবাড়ির ভিড় নেই, সেই একসাথে জড়ো হওয়া নেই, সেই বাজির হুল্লোড়ও অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু স্মৃতিগুলো এখনো রয়ে গেছে, ঠিক আগের মতোই উজ্জ্বল হয়ে।

আজও যদি কোথাও কোনো বাজির শব্দ শুনি, বা কারো হাতে তারাবাতির আলো দেখি, তখন হঠাৎ করেই মনে পড়ে যায় সেই চাঁদ রাতের কথা। মনে পড়ে যায় নানাভাইয়ের হাসি, ভাইবোনদের সাথে কাটানো মুহূর্ত, আর সেই প্রথম চাঁদ দেখার আনন্দ।

সত্যিই, কোথায় হারিয়ে গেল সেই দিনগুলো! চাঁদ রাত এখনো আসে, ঈদ এখনো আসে, কিন্তু সেই শৈশবের অনুভূতিগুলো যেন আর ফিরে আসে না। তবুও স্মৃতির ভেতরে তারা আজও বেঁচে আছে—একদম আগের মতোই উজ্জ্বল, একদম আগের মতোই আনন্দময়।


Last Update: 8 months ago

 

Casio Original Calculator

Casio Original Calculator

পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর

About মহসিন উদ্দিন 30 Articles
মহসিন উদ্দিন একজন ব্লগার। ‍যিনি ২০১৩ সাল থেকে ব্লগিং করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.