ছোটবেলার সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই বুকের ভেতর কোথায় যেন এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হয়, আবার একই সাথে একরাশ মিষ্টি অনুভূতিও জেগে ওঠে। স্কুলে যাওয়ার কথা উঠলেই এখনকার মতো শুধু বই-খাতা, পড়াশোনা বা পরীক্ষার চাপের কথা মনে পড়ে না—বরং মনে পড়ে সেই দল বেঁধে স্কুলে যাওয়ার দিনগুলো। আহা! সে কি আনন্দ, সে কি উচ্ছ্বাস! প্রতিদিনের সেই ছোট্ট পথচলাটাই ছিল আমাদের কাছে একেকটা উৎসব, একেকটা নতুন গল্পের শুরু। এখনো মনে পড়ে সেই স্কুলে যাওয়ার গল্প ।
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
সকালে ঘুম থেকে ওঠাটাও ছিল এক ধরনের রুটিন, কিন্তু সেই রুটিনের মধ্যেও লুকিয়ে ছিল আনন্দের ঝিলিক। মা যখন ডেকে তুলতেন—“এই, উঠ! দেরি হয়ে যাবে”—তখন একটু বিরক্ত লাগত ঠিকই, কিন্তু মনে মনে খুশিই হতাম। কারণ জানতাম, আজ আবার বন্ধুদের সাথে দেখা হবে, আবার সেই চেনা পথ ধরে হাঁটা হবে, আবার নতুন কোনো দুষ্টুমি হবে। তাড়াহুড়ো করে মুখ ধোয়া, গরম ভাত কিংবা রুটি খেয়ে নেওয়া, তারপর বই-খাতা গুছিয়ে ব্যাগ কাঁধে তুলে নেওয়া—এই সবকিছুই যেন একটা উৎসবের প্রস্তুতির মতো লাগত।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।
বাড়ির দরজা পেরিয়ে একটু এগোলেই শুরু হয়ে যেত আমাদের আসল আনন্দ। প্রথমে একজন বন্ধু যোগ দিত, তারপর আরেকজন, তারপর আরও কয়েকজন—একসময় আমরা হয়ে যেতাম একটা ছোটখাটো দল। কারো মুখে গল্প, কারো মুখে গান, কেউ আবার আগের দিনের কোনো ঘটনা নিয়ে হাসাহাসি করছে। এইভাবেই হাসতে হাসতে, ঠাট্টা করতে করতে আমরা এগিয়ে যেতাম স্কুলের দিকে।
আমাদের পথটা ছিল একেবারেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা। কোথাও ধানক্ষেত, কোথাও পুকুর, কোথাও আবার ছোট ছোট গাছপালা। আমরা কখনো সোজা পথে যেতাম না—কারণ সোজা পথ মানেই ছিল বিরক্তিকর। আমরা চাইতাম একটু ঘুরে যেতে, একটু নতুন কিছু দেখতে। তাই মাঝেমধ্যে ধানক্ষেতের আল দিয়ে হাঁটতাম, কখনো আবার বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়ে শর্টকাট নিতাম। কোথাও যদি কোনো ফলের গাছ দেখতাম, তাহলে তো আর কথাই নেই—সাথে সাথে থেমে যেতাম, কে আগে পাড়বে সেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেত।
এই দল বেঁধে চলার মধ্যে একটা অন্যরকম শক্তি ছিল। কেউ যদি একটু পিছিয়ে পড়ত, আমরা সবাই মিলে ডাকতাম—“এই, তাড়াতাড়ি আয়!” কেউ যদি পড়ে যেত, সবাই মিলে তাকে তুলে দিতাম। এই একসাথে থাকার অনুভূতিটাই ছিল সবচেয়ে বড় আনন্দ।
তবে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর ছিল বর্ষাকালের দিনগুলো। চারপাশে পানি, রাস্তা ডুবে গেছে, মাঠ ভেসে গেছে—তখন আমাদের স্কুলে যাওয়ার একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। সেই নৌকায় করে স্কুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই অন্যরকম, যা আজও মনে পড়লে মনটা ভরে যায়।

সকালে আমরা সবাই ঘাটে গিয়ে জড়ো হতাম। কেউ আগে এসে দাঁড়িয়ে থাকত, কেউ আবার দৌড়ে আসত। নৌকা এলেই সবাই হুড়োহুড়ি করে উঠতাম। নৌকায় জায়গা পাওয়া যেন একটা যুদ্ধের মতো ছিল। কেউ আগে বসে পড়েছে, কেউ দাঁড়িয়ে আছে, কেউ আবার জায়গা করে নিচ্ছে। কিন্তু এইসব ছোটখাটো ঝগড়ার মধ্যেও ছিল আনন্দ।
নৌকা চলতে শুরু করলেই শুরু হতো আমাদের আসল মজা। কেউ গান ধরত—পুরনো বাংলা গান কিংবা নিজের মতো করে বানানো কোনো ছড়া। কেউ হাত দিয়ে পানিতে নাড়াচাড়া করত, কেউ আবার ইচ্ছে করে পানি ছিটিয়ে অন্যদের ভিজিয়ে দিত। মাঝি কাকা মাঝে মাঝে বকা দিতেন, কিন্তু তাতে আমাদের আনন্দের কোনো কমতি হতো না।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
পানির ওপর ভাসতে ভাসতে চারপাশের দৃশ্যগুলো ছিল একেবারেই মুগ্ধকর। দূরে সবুজ গাছ, কোথাও একটা ছোট ঘর, কোথাও গরু চরছে—সবকিছুই যেন একটা ছবির মতো লাগত। মাঝে মাঝে পানির ওপর ভাসমান শাপলা ফুল দেখতাম, আর ভাবতাম—কি সুন্দর এই পৃথিবী!
অনেক সময় মাঝপথে বৃষ্টি শুরু হয়ে যেত। তখন আমরা কেউ ব্যাগ মাথায় দিতাম, কেউ আবার বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ পেতাম। বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে পড়লে মনে হতো যেন কেউ ঠাণ্ডা জল ছিটিয়ে দিচ্ছে। আমরা আরও জোরে চিৎকার করতাম, হাসতাম, আর সেই মুহূর্তটা উপভোগ করতাম।
স্কুলে পৌঁছানোর পর ভেজা কাপড় নিয়ে একটু অস্বস্তি হতো ঠিকই, কিন্তু বন্ধুদের সাথে থাকায় সেটা খুব একটা টের পাওয়া যেত না। ক্লাসে বসে কেউ ফিসফিস করে কথা বলছে, কেউ আবার হেসে ফেলছে—এইভাবেই সময় কেটে যেত।
স্কুল থেকে ফেরার পথটা ছিল আরও বেশি আনন্দের। তখন আর কোনো তাড়া থাকত না। আমরা ধীরে ধীরে হাঁটতাম, গল্প করতাম, মাঝেমধ্যে কোথাও থেমে যেতাম। কেউ বলত—“চল, আজ ওই মাঠ দিয়ে যাই।” কেউ আবার বলত—“চল, ওই পুকুরপাড়ে বসি।”
ফেরার পথে অনেক সময় আমরা খেলতাম। কোথাও খালি জায়গা পেলেই দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যেত। কেউ দৌড় প্রতিযোগিতা করছে, কেউ লুকোচুরি খেলছে। সময়ের কোনো হিসাব থাকত না। বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে গেলে বকা খেতে হতো, কিন্তু সেই বকা আমাদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।
এই দল বেঁধে চলার মধ্যে একটা গভীর বন্ধন তৈরি হয়েছিল। আমরা শুধু বন্ধু ছিলাম না, ছিলাম একে অপরের পরিবারের মতো। কেউ অসুস্থ হলে আমরা দেখতে যেতাম, কেউ কোনো সমস্যায় পড়লে সবাই মিলে সাহায্য করতাম।
আজকের দিনে এই দৃশ্যগুলো খুব একটা দেখা যায় না। এখন সবাই ব্যস্ত, সবাই নিজের মতো করে চলে। বাচ্চারা একা একা স্কুলে যায়, মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সেই দল বেঁধে যাওয়ার আনন্দ, সেই নৌকার দোলা—এসব যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে, যদি আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে যাওয়া যেত! আবার যদি সেই বন্ধুদের সাথে একসাথে হাঁটা যেত, আবার যদি সেই নৌকায় চড়ে স্কুলে যাওয়া যেত!
কিন্তু জানি, সেটা আর সম্ভব নয়। তবুও স্মৃতির ভেতর সেই দিনগুলো আজও বেঁচে আছে। চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই—একদল ছোট ছেলে, কাঁধে ব্যাগ, মুখে হাসি, দল বেঁধে যাচ্ছে স্কুলের পথে।
সত্যিই, সেই দিনগুলো ছিল সোনালি। কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না, কোনো চাপ ছিল না—ছিল শুধু আনন্দ। আর সেই আনন্দের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল এই দল বেঁধে স্কুলে যাওয়া।
আজ আমরা বড় হয়েছি, জীবন বদলে গেছে। কিন্তু সেই স্মৃতিগুলো কখনোই মুছে যাবে না। কারণ সেগুলো শুধু স্মৃতি নয়—সেগুলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়, সবচেয়ে মূল্যবান সময়।
Last Update: 6 months ago
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
Leave a Reply