ছোটবেলায় সাইকেল শেখা ছিল এক ধরনের স্বপ্ন পূরণের মতো। তখন সাইকেল মানেই ছিল স্বাধীনতা, আনন্দ আর একটু বড় হয়ে ওঠার অনুভূতি। পাড়ার বড় ভাইদের যখন সাইকেল চালাতে দেখতাম, তখন মনে হতো—“কবে যে আমিও এমন করে চালাতে পারব!” সেই ইচ্ছেটা এতটাই তীব্র ছিল যে, সুযোগ পেলেই কারো সাইকেল ধরার চেষ্টা করতাম, যদিও তখনও ভালো করে চালানো শেখা হয়নি। সেই সাইকেল শেখার গল্প আজও মনে দাগ কাটে।
আমাদের পাড়ায় একটা-দুটো সাইকেল ছিল, আর সেগুলোই ছিল সবার আকর্ষণের কেন্দ্র। যার সাইকেল ছিল, সে যেন একটু আলাদা গুরুত্ব পেত। আমরা ছোটরা সেই সাইকেলের পেছনে ঘুরতাম, কখন সুযোগ পাওয়া যায় একটু চালানোর জন্য। একদিন অবশেষে সেই সুযোগ এলো। এক বড় ভাই বললেন—“চালাবি? আয়, শিখিয়ে দেই।” সেই মুহূর্তটা আজও মনে আছে, যেন কোনো বড় দায়িত্ব পেয়ে গেছি।
প্রথম দিনটা ছিল ভীষণ কঠিন। সাইকেলে উঠতেই ভয় লাগত—যদি পড়ে যাই! বড় ভাই পেছন থেকে সিট ধরে রাখতেন, আর বলতেন—“চাল, আমি ধরে আছি।” আমি প্যাডেল ঘোরাতে শুরু করতাম, কিন্তু মনটা থাকত পেছনে—সে কি এখনও ধরে আছে? একটু সাহস পেলেই সামনে তাকাতাম, কিন্তু বেশিক্ষণ নয়। কারণ একটু পরেই ভারসাম্য হারিয়ে কাত হয়ে যেতাম। আর তারপর—ধপাস! মাটিতে পড়ে যাওয়া।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।

পড়ে যাওয়াটা তখন খুব সাধারণ ব্যাপার ছিল। হাঁটুতে কেটে যেত, হাতের চামড়া উঠে যেত, ব্যথা লাগত—তবুও কাঁদতাম না খুব একটা। কারণ একটা জেদ ছিল—শিখতেই হবে! মা দূর থেকে দেখলে হয়তো বকা দিতেন—“আর চালাতে হবে না!” কিন্তু আমরা তো আর থামার পাত্র না। একটু ধুলো ঝেড়ে আবার উঠে দাঁড়াতাম, আবার সাইকেলে উঠতাম।
ধীরে ধীরে একটু একটু করে ভারসাম্য রাখা শিখতে লাগলাম। প্রথমে কয়েক সেকেন্ড, তারপর কয়েক মুহূর্ত—এইভাবে সময়টা বাড়তে লাগল। পেছন থেকে কেউ ধরে না রাখলেও বুঝতে পারতাম না, আমি নিজেই চালাচ্ছি! সেই অনুভূতিটা ছিল অবর্ণনীয়। মনে হতো—আমি যেন উড়ছি! পাড়ার রাস্তায় সোজা চালিয়ে যাওয়া, বাতাস গায়ে লাগা—সবকিছু মিলিয়ে এক অন্যরকম আনন্দ।
তবে শেখার সময়টায় অনেক মজার ঘটনাও ঘটত। কখনো হঠাৎ করে ব্রেক করতে না পেরে কারো বাড়ির সামনে গিয়ে ধাক্কা খেতাম, কখনো রাস্তার পাশে নালায় পড়ে যেতাম। এসব দেখে বন্ধুরা হেসে লুটোপুটি খেত। আমিও লজ্জা পেতাম, কিন্তু ভেতরে ভেতরে হাসিও পেত। কারণ জানতাম—এগুলোই শেখার অংশ।
সাইকেল শেখার সবচেয়ে বড় মজা ছিল বন্ধুদের সাথে প্রতিযোগিতা করা। কে কত দ্রুত চালাতে পারে, কে এক পায়ে চালাতে পারে, কে হাত ছেড়ে চালাতে পারে—এইসব নিয়ে চলত আমাদের প্রতিযোগিতা। কেউ নতুন কোনো স্টাইল শিখলে, অন্যরা সেটাও শিখতে চাইত। এইভাবেই আমরা একে অপরকে দেখে দেখে আরও ভালো চালানো শিখে ফেলতাম।
একসময় এমন হলো, সাইকেল চালানো একেবারে সহজ হয়ে গেল। তখন আর ভয় লাগত না, বরং নতুন নতুন কায়দা শেখার চেষ্টা করতাম। লম্বা রাস্তায় দৌড় দেওয়া, বাঁক নেওয়া, হঠাৎ ব্রেক করা—সবকিছুতেই একটা দক্ষতা চলে এলো। তখন মনে হতো—এই সাইকেলটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস।
সাইকেল নিয়ে আমরা অনেক দূর পর্যন্ত ঘুরতে যেতাম। পাড়ার বাইরে, মাঠের পাশ দিয়ে, কখনো আবার অন্য গ্রামের দিকে। সেই ছোট ছোট ভ্রমণগুলো ছিল খুবই রোমাঞ্চকর। মনে হতো, আমরা যেন কোনো বড় অভিযানে বের হয়েছি। বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে, হাসতে হাসতে সেই পথ চলাটা আজও মনে পড়ে।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
বাড়ি ফিরে সাইকেল রাখার সময়ও একটা আলাদা আনন্দ ছিল। মনে হতো—আজও কিছু নতুন শিখলাম, কিছু নতুন অভিজ্ঞতা হলো। মা জিজ্ঞেস করতেন—“পড়েছিস?” আমরা বলতাম—“না না!” যদিও হাঁটুতে লেগে থাকা কাদা আর ছোটখাটো ক্ষত সবকিছু বলে দিত।
আরও পড়ুন: যখন বিকেল মানেই মাঠ, দড়ি লাফ, আর মায়ের ডাক — ৯০ দশকের এক টুকরো স্বর্গ
আজকের দিনে এসে সেই সাইকেল শেখার দিনগুলোর কথা মনে করলে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়। এখনকার বাচ্চারা হয়তো খুব সহজেই সাইকেল চালানো শিখে ফেলে, কিন্তু সেই কষ্ট, সেই চেষ্টা, সেই পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর গল্পটা হয়তো তাদের জীবনে তেমনভাবে আসে না।
সাইকেল শেখা শুধু একটা দক্ষতা অর্জন ছিল না, এটা ছিল জীবনের একটা বড় শিক্ষা। পড়ে গেলে উঠে দাঁড়ানো, ভয় পেলেও চেষ্টা করা, আর নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা—এইসব জিনিস আমরা শিখেছিলাম সেই ছোট্ট সাইকেলের মাধ্যমেই।
মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে, আবার সেই ছোটবেলার রাস্তায় ফিরে যাই। আবার সেই পুরোনো সাইকেলটা হাতে নেই, আবার পড়ে যাই, আবার উঠে দাঁড়াই, আর আবার নতুন করে শিখি। কিন্তু সময় তো আর ফিরে আসে না।
তবুও সেই স্মৃতিগুলো আমাদের সাথে থাকে, আমাদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে। সাইকেল শেখার সেই গল্পটা শুধু একটা শৈশবের স্মৃতি নয়, এটা আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ—যা আমাদের শিখিয়েছে, সামনে এগিয়ে যেতে হলে মাঝে মাঝে পড়ে যেতেই হয়।
সাইকেল শেখার সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই আরও অনেক ছোট ছোট দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে, যেগুলো হয়তো তখন তেমন গুরুত্ব দিয়ে ভাবিনি, কিন্তু আজ সেগুলোই সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়। যেমন ধরুন, বিকেলের সেই নির্দিষ্ট সময়টা—যখন রোদটা একটু নরম হয়ে আসত, আর আমরা সাইকেল নিয়ে বের হতাম। মাটির রাস্তা, পাশে সবুজ ধানক্ষেত, কোথাও কোথাও ছোট ছোট গর্ত—সব মিলিয়ে যেন একদম পারফেক্ট একটা ট্রেনিং গ্রাউন্ড। তখন রাস্তা ফাঁকা থাকত, গাড়ি-ঘোড়া কম চলত, তাই ভয়ও কম ছিল। আমরা নিজের মতো করে চালাতাম, পড়ে যেতাম, আবার উঠতাম—কেউ কিছু বলার ছিল না, কেউ বাধা দেওয়ার ছিল না।

একটা সময় ছিল, যখন সাইকেল শেখা মানেই ছিল “হাফ প্যাডেল” দিয়ে শুরু করা। পুরো সিটে বসে প্যাডেল মারা তখনো সম্ভব হতো না, তাই এক পা ফ্রেমের ভেতর ঢুকিয়ে কেমন করে যেন একদিকে হেলে হেলে চালাতাম। সেটা দেখতে যতই হাস্যকর লাগুক, আমাদের কাছে সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। একদিন যখন প্রথমবার সিটে ঠিকমতো বসে দুই পা দিয়ে প্যাডেল মারতে পারলাম, তখন মনে হয়েছিল—আমি যেন জীবনের সবচেয়ে বড় একটা জয় পেয়ে গেছি! সেই ছোট্ট সাফল্যের আনন্দটাই ছিল অসীম।
বন্ধুদের সাথে তখন এক অদ্ভুত বন্ধন তৈরি হয়েছিল সাইকেলকে কেন্দ্র করে। কারো নতুন সাইকেল হলে আমরা সবাই সেটা চালানোর জন্য লাইন দিতাম। কেউ যদি একটু বেশিক্ষণ চালাত, তাহলে অন্যরা রাগ করত। আবার কেউ পড়ে গেলে, সবাই মিলে তাকে তুলত, ধুলো ঝাড়ত, আর একটু মজা করে হাসত। এই হাসাহাসির মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক ধরনের আন্তরিকতা, যা এখনকার দিনে খুব কমই দেখা যায়।
আরেকটা মজার বিষয় ছিল—সাইকেলের “ঘণ্টি” আর “ব্রেক” নিয়ে আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কে কত জোরে ঘণ্টি বাজাতে পারে, কে একেবারে শেষ মুহূর্তে ব্রেক করে থামতে পারে—এইসব ছোট ছোট জিনিস নিয়েই কত আনন্দ ছিল! কখনো কখনো আমরা ইচ্ছে করে দ্রুত চালিয়ে হঠাৎ ব্রেক করতাম, আর চাকা থেকে যে শব্দটা হতো, সেটাকে আমরা খুবই “কুল” ভাবতাম। তখন এসবই ছিল আমাদের বিনোদনের বড় উৎস।
বর্ষার দিনে সাইকেল চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল একেবারে আলাদা। কাদা ভরা রাস্তায় সাইকেল চালানো যেমন কঠিন ছিল, তেমনি ছিল মজাদার। চাকা কাদায় আটকে যেত, আমরা পড়ে যেতাম, পুরো শরীর কাদা হয়ে যেত—তবুও সেই হাসিটা থামত না। বাড়ি ফিরে মা বকতেন—“এই অবস্থা করে আসছিস কেন?” কিন্তু সেই বকা যেন আমাদের আনন্দেরই একটা অংশ ছিল।
কখনো কখনো আমরা দূরে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করতাম। ধরুন, পাশের গ্রামে কোনো মাঠে বা নদীর ধারে। তখন মনে হতো, আমরা যেন খুব বড় কোনো ভ্রমণে বের হচ্ছি। পথের মাঝে থামা, পানি খাওয়া, গল্প করা—সবকিছু মিলিয়ে সেই ছোট্ট যাত্রাগুলোই ছিল আমাদের জীবনের বড় বড় স্মৃতি। কোনো ক্লান্তি লাগত না, কোনো ভয় কাজ করত না—শুধু ছিল একরাশ আনন্দ।
একসময় সাইকেল শুধু খেলার জিনিস ছিল না, এটা আমাদের কাজেরও অংশ হয়ে গিয়েছিল। বাজারে যাওয়া, কারো বাড়িতে কিছু পৌঁছে দেওয়া—এইসব ছোটখাটো দায়িত্বও আমরা সাইকেলেই পালন করতাম। তখন মনে হতো—আমরা অনেক বড় হয়ে গেছি, আমাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে! এই দায়িত্ববোধটাই আমাদের ভেতরে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি করত।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন সেই সময়টার কথা ভাবি, তখন একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়—সাইকেল শেখা আমাদের শুধু চালানো শেখায়নি, আমাদের মানুষ হতেও শিখিয়েছে। ধৈর্য, সাহস, বন্ধুত্ব, দায়িত্ব—এইসব গুণ আমরা অজান্তেই শিখে নিয়েছিলাম। তখন এসব নিয়ে ভাবিনি, কিন্তু এখন বুঝি, সেই ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলোই আমাদের জীবনের ভিত্তি তৈরি করেছে।
এখনকার ব্যস্ত জীবনে মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে—সবকিছু ছেড়ে আবার সেই সময়টায় ফিরে যাই। আবার সেই বিকেলের রাস্তায় সাইকেল নিয়ে বের হই, আবার পড়ে যাই, আবার উঠে দাঁড়াই। কিন্তু সময় তো আর থেমে থাকে না, সে তার নিজের মতো করে এগিয়ে যায়। আমরা শুধু স্মৃতিগুলো নিয়েই বেঁচে থাকি।
তবুও একটা কথা ঠিক—যতদিন এই স্মৃতিগুলো আমাদের মনে থাকবে, ততদিন সেই শৈশব, সেই সাইকেল, সেই আনন্দ—সবকিছু আমাদের ভেতরে জীবন্ত থাকবে। আর হয়তো কোনো এক বিকেলে, হঠাৎ করেই মনে হবে—জীবনটা আবার একটু সাইকেলের মতো করে চালানো যায়, পড়ে গেলেও ভয় নেই, কারণ উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটা আমরা সেই ছোটবেলাতেই শিখে নিয়েছি।
সত্যিই, সেই ছোট্ট সাইকেলটাই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছিল—জীবনটা একটা পথ, আর সেই পথে এগিয়ে যেতে হলে ভারসাম্য রাখতে জানতে হয়। আর একবার ভারসাম্য শিখে গেলে, পথ যতই কঠিন হোক, এগিয়ে যাওয়া আর থামানো যায় না।
Last Update: 6 months ago
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
Leave a Reply