ছোটবেলার অনেক স্মৃতি আছে—কিছু ঝাপসা, কিছু স্পষ্ট, আর কিছু এমন আছে যেগুলো আজও হৃদয়ের ভেতর অমলিন হয়ে আছে। কিন্তু সেই সব স্মৃতির ভিড়ে দাদির কাছে বসে গল্প শোনার মুহূর্তগুলো যেন একেবারেই আলাদা। ওগুলো শুধু স্মৃতি নয়, ওগুলো যেন একটা অনুভূতি—যা সময়ের সাথে মুছে যায় না, বরং আরও গভীর হয়।
এখনো চোখ বন্ধ করলে আমি স্পষ্ট দেখতে পাই সেই দিনগুলো—আমাদের ছোট্ট বাড়ি, উঠোনের ধুলো মাখা বিকেল, আর দিনের শেষে সেই কাঙ্ক্ষিত সময়—রাত, যখন দাদির কাছে গিয়ে গল্প শোনা যাবে।
সারাদিন আমরা পাড়ার ছেলেমেয়েরা মিলে খেলাধুলা করতাম। কখনো লুকোচুরি, কখনো কাবাডি, কখনো বা গাছের নিচে বসে গল্প করা। খেলার মধ্যে এতটাই ডুবে থাকতাম যে সময় কেমন চলে যেত, টেরই পেতাম না। শরীর ক্লান্ত হয়ে যেত, জামাকাপড় ময়লা হয়ে যেত, তবুও মনটা ভরে থাকত এক অদ্ভুত আনন্দে।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।

কিন্তু বিকেলের পর থেকেই আমার মন অন্যদিকে চলে যেত। যত রাত ঘনিয়ে আসত, ততই আমার মনে একটা উত্তেজনা কাজ করত—আজ দাদি কী গল্প বলবে? নতুন গল্প, না কি আগের কোনো গল্পের বাকি অংশ?
মা যখন খেতে ডাকতো, তখন আর কোনো অজুহাত দিতাম না। বরং তাড়াহুড়া করে খাওয়া শেষ করতাম। অনেক সময় গরম ভাত খেতে গিয়ে জিভ পুড়ে যেত, তবুও থামতাম না। কারণ আমার মাথায় তখন শুধু একটাই চিন্তা—দাদির গল্প মিস করা যাবে না।
খাওয়া শেষ করেই আমি দৌড়ে যেতাম দাদির ঘরের দিকে।
দাদির সেই ঘরটা ছিল খুবই সাধারণ—ছোট্ট একটা কাঁচা ঘর, মাটির মেঝে, এক পাশে একটা পুরোনো খাট, আর কোণায় রাখা একটা হারিকেন। হারিকেনের হালকা হলুদ আলো পুরো ঘরটাকে যেন এক রহস্যময় আবহে ভরিয়ে দিত। সেই আলোতে দাদির মুখটা আরও শান্ত, আরও মায়াময় লাগতো।
ঘরে ঢুকেই আমি দাদির পাশে বসতাম। কখনো তার কোলের কাছে, কখনো তার গা ঘেঁষে। দাদির গায়ের একটা আলাদা গন্ধ ছিল—মাটি, তেল আর ভালোবাসার মিশ্রণ—যা এখনো আমার মনে আছে।
একটু পরপরই আমার ভাই-বোন, কাজিনরা এসে জড়ো হতো। আমরা সবাই মিলে গোল হয়ে বসতাম দাদিকে ঘিরে। তারপর একসাথে বলতাম—
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
“দাদি, একটা গল্প বলো না!”
দাদি তখন একটু হাসতো। তার চোখে একটা অদ্ভুত মায়া ছিল—যেন আমাদের প্রতি তার সব ভালোবাসা সেই দৃষ্টির মধ্যেই প্রকাশ পেত। তারপর সে ধীরে ধীরে গল্প শুরু করতো।
তার কণ্ঠটা ছিল খুবই নরম আর শান্ত। মনে হতো, প্রতিটা শব্দ যেন হৃদয় থেকে বের হয়ে আসছে। আমরা নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনতাম।
কখনো সে রাজা-রানীর গল্প বলতো। বিশাল রাজপ্রাসাদ, সাহসী রাজপুত্র, দুষ্ট রাক্ষস—সব যেন চোখের সামনে ভেসে উঠতো। রাজপুত্র যখন বিপদে পড়তো, আমাদের বুক ধড়ফড় করতো। আবার সে যখন জয়ী হতো, তখন মনে হতো আমরাই যেন জিতে গেছি।
কখনো সে ভূতের গল্প বলতো। সেই গল্পগুলো ছিল ভয়ংকর, কিন্তু তবুও খুব আকর্ষণীয়। অন্ধকার রাত, শ্মশান, বটগাছ, অদ্ভুত শব্দ—সবকিছু মিলে একটা গা ছমছমে পরিবেশ তৈরি হতো।
ভূতের গল্প শুনতে আমার সবচেয়ে ভয় লাগতো। তবুও আমি সবসময় বলতাম—
“দাদি, আজকে একটা ভূতের গল্প বলো!”
গল্প শুরু হতেই আমি একটু একটু করে দাদির দিকে সরে আসতাম। ভয় পেলে তার হাত শক্ত করে ধরে বসে থাকতাম। কখনো চোখ বন্ধ করে ফেলতাম, কিন্তু কান দিয়ে সব শুনতাম।
দাদি বুঝতে পারতো আমি ভয় পেয়েছি। তখন সে আলতো করে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো আর বলতো—
“ভয় পাস না, আমি তো আছি।”
এই কথাটা শুনলেই আমার সব ভয় যেন মিলিয়ে যেত। মনে হতো, দাদি থাকলে পৃথিবীর কোনো কিছুই আমাকে ছুঁতে পারবে না।
কখনো কখনো দাদি তার নিজের ছোটবেলার গল্প বলতো। কিভাবে সে নদীতে সাঁতার কাটতো, কিভাবে সে গরু চরাতে যেত, কিভাবে ছোট ছোট দুষ্টুমি করতো—এসব শুনে আমরা হাসতে হাসতে লুটোপুটি খেতাম।
আমরা মাঝে মাঝে গল্পের মধ্যে প্রশ্ন করতাম—
“তারপর কী হলো?”
“ওই লোকটা কেন এমন করলো?”
দাদি ধৈর্য ধরে আমাদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতো। কখনো গল্পের মধ্যে নতুন মোড় আনতো, যাতে আমরা আরও আগ্রহ নিয়ে শুনি।
গল্প শুনতে শুনতে কখন যে সময় চলে যেত, টেরই পেতাম না। রাত গভীর হয়ে যেত, হারিকেনের আলো আরও ম্লান হয়ে আসতো, বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যেত।
অনেক সময় গল্পের মাঝখানেই আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসতো। আমি ঘুমিয়ে পড়তাম দাদির পাশেই।
দাদি তখন খুব যত্ন করে আমাকে শুইয়ে দিতো। আমার মাথার নিচে বালিশ ঠিক করে দিতো, শরীরের উপর একটা চাদর দিয়ে দিতো। তারপর আলতো করে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো।
সেই স্পর্শটা ছিল এতটাই শান্ত, এতটাই মমতায় ভরা, যে মনে হতো পৃথিবীর সব সুখ যেন ওই মুহূর্তেই আছে।
কিছু কিছু রাতে আমি জোর করে জেগে থাকার চেষ্টা করতাম, শুধু এই জন্য যে গল্পটা শেষ পর্যন্ত শুনতে পারি। কিন্তু তবুও ঘুম এসে যেত।
সকালে উঠে আমি দাদির কাছে দৌড়ে যেতাম—
“দাদি, কাল রাতে গল্পটা শেষ করো নাই! আজকে আবার বলবা!”
দাদি হেসে বলতো—
“আচ্ছা, আজকে আবার শুরু করব।”
এইভাবেই একটার পর একটা দিন, একটার পর একটা রাত কেটে যেত। আমার শৈশব ভরে উঠতো দাদির গল্পে, তার ভালোবাসায়, তার সান্নিধ্যে।
কিন্তু সময় তো কারো জন্য থেমে থাকে না।
ধীরে ধীরে আমরা বড় হয়ে গেলাম। স্কুল, পড়াশোনা, পরীক্ষা, নতুন দায়িত্ব—সবকিছু আমাদের জীবনকে বদলে দিলো।
এখন আর বিকেলে খেলাধুলা করার সময় নেই। রাত হলে বই নিয়ে বসতে হয়। গল্প শোনার সেই নির্ভার সময়টা হারিয়ে গেল।
দাদির ঘরটা আগের মতোই আছে, কিন্তু আমরা আর সেখানে যাই না আগের মতো।
সবচেয়ে কষ্ট লাগে তখন, যখন ভাবি—দাদি হয়তো এখনো সেই ঘরে বসে থাকে, অপেক্ষা করে। হয়তো সে এখনো চায় কেউ এসে বলুক—
“দাদি, একটা গল্প বলো না!”
কিন্তু কেউ যায় না।
আমরা সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি নিজেদের জীবনে।
এখন মাঝে মাঝে রাতে একা বসে থাকলে সেই পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। মনে হয়, যদি আবার সেই সময়ে ফিরে যেতে পারতাম!
আবার যদি সেই ছোট্ট ঘরে বসতে পারতাম, হারিকেনের আলোয়, দাদির পাশে।
আবার যদি ভয় পেয়ে তার হাতটা ধরে বলতে পারতাম—
“আমি ভয় পাইছি…”
আর সে যদি আবার বলতো—
“ভয় পাস না, আমি তো আছি।”
কিন্তু জানি, সেই দিনগুলো আর কখনো ফিরে আসবে না।
শুধু স্মৃতিগুলোই রয়ে গেছে—নীরবে, হৃদয়ের গভীরে, একটুকরো মায়া হয়ে।
তবুও মাঝে মাঝে মনে মনে আমি এখনো সেই ছোট্ট ছেলেটা হয়ে যাই। চোখ বন্ধ করে কল্পনা করি—
আমি দৌড়ে যাচ্ছি দাদির ঘরের দিকে…
দাদির পাশে গিয়ে বসছি…
আর ধীরে ধীরে বলছি—
“দাদি, আজকে একটা গল্প বলো না…”
Last Update: 6 months ago
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
গল্পটি পড়ে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। সত্যিই অসাধারণ হয়েছে গল্পটা
আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
গল্পটি পড়েছি। খুবই ভালো লাগলো।
গল্প টি অনেক সুন্দর । গল্প টি পরে আমার মন ভরে গেছে।