স্কুলের শেষ ঘণ্টাটা বাজলেই যেন পুরো পৃথিবীটাই বদলে যেত। ক্লাসের ভেতর যতই গম্ভীর পরিবেশ থাকুক না কেন, শেষ ঘণ্টার সেই “টিং টং” শব্দটা শোনামাত্র সবাই যেন একসাথে প্রাণ ফিরে পেতাম। বই-খাতা গুছিয়ে, ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিয়ে এক দৌড়ে বের হয়ে যেতাম স্কুল গেটের দিকে। কিন্তু আমাদের সেই তাড়াহুড়োর আসল কারণ ছিল শুধু বাসায় ফেরা না—বরং গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সেই আইসক্রিমওয়ালাকে পাওয়া। স্কুল শেষে আইসক্রিমওয়ালার অপেক্ষা আসলেই মধুময় স্মৃতি।
গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকত এক পরিচিত মুখ, হাতে তার ছোট্ট ঠেলাগাড়ি বা বাক্স, ভেতরে সাজানো রঙিন আইসক্রিম। তার মুখের সেই ডাক—“আইসক্রিম! আইসক্রিম!”—আমাদের কানে যেন এক মধুর সুরের মতো লাগত। দূর থেকেই তাকে দেখলেই মনটা খুশিতে ভরে যেত। মনে হতো, আজকের দিনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তটা বুঝি সামনে এসে গেছে।
আমাদের পকেটে থাকত খুব অল্প টাকা—কখনো ২ টাকা, কখনো ৫ টাকা। কিন্তু সেই অল্প টাকাই ছিল আমাদের কাছে অনেক বড় কিছু। কে কোন আইসক্রিমটা কিনবে, সেটা নিয়ে চলত ভাবনা। লাল, হলুদ, সবুজ রঙের বরফের আইসক্রিমগুলো দেখতে যতটা সুন্দর লাগত, খেতেও ঠিক ততটাই মজা। অনেক সময় টাকা কম থাকলে বন্ধুর সাথে ভাগাভাগি করে একটা আইসক্রিম কিনতাম। এক কামড় আমি, এক কামড় সে—এইভাবে সেই ছোট্ট আইসক্রিমটাও হয়ে উঠত এক বড় আনন্দের অংশ।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিল সেই অপেক্ষা। যদি কোনো দিন আইসক্রিমওয়ালা একটু দেরি করত, তাহলে আমরা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম, বারবার রাস্তার দিকে তাকাতাম—“আসছে না কেন?” কেউ বলত—“আজ হয়তো আসবে না!”—এই কথাটা শুনলেই মনটা একটু খারাপ হয়ে যেত। কিন্তু হঠাৎ দূর থেকে যদি তার ঠেলাগাড়িটা দেখা যেত, তখন যেন আবার প্রাণ ফিরে আসত। সবাই একসাথে চিৎকার করে উঠত—“এই যে এসেছে!”

আইসক্রিম কেনার সময়টাও ছিল এক ধরনের আনন্দের অনুষ্ঠান। সবাই ভিড় করে দাঁড়াতাম, কেউ আগে নিতে চাইত, কেউ টাকা গুনে দিত, কেউ আবার কোনটা নেবে ঠিক করতে পারত না। আইসক্রিমওয়ালাও আমাদের চিনে ফেলেছিল। সে জানত কে কোনটা পছন্দ করে, কে বেশি ঝামেলা করে, কে আবার চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। এই ছোট্ট সম্পর্কটাই যেন আমাদের কাছে অনেক বড় ছিল।
আরো পড়ুন: আমার ফোনে নিজের নাম্বার থেকেই কল এলো
আইসক্রিম হাতে পাওয়ার পর সেই প্রথম কামড়টা ছিল একেবারে অন্যরকম। ঠান্ডা, মিষ্টি স্বাদটা মুখে লাগতেই মনে হতো—এইটাই যেন দিনের সবচেয়ে বড় সুখ। রোদে হাঁটতে হাঁটতে সেই আইসক্রিম খাওয়া, মাঝে মাঝে গলে হাত বেয়ে নামা, আর তাড়াহুড়ো করে খেয়ে ফেলা—সবকিছু মিলিয়ে একটা অসাধারণ অনুভূতি তৈরি হতো।
বন্ধুদের সাথে হাঁটতে হাঁটতে সেই আইসক্রিম খাওয়ার মুহূর্তগুলো ছিল সবচেয়ে সুন্দর। কেউ দ্রুত খেয়ে ফেলত, কেউ ধীরে ধীরে উপভোগ করত। কেউ আবার শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে চাইত, যেন আনন্দটা একটু বেশি সময় থাকে। মাঝে মাঝে কেউ কারো আইসক্রিমে কামড় দিয়ে দিত, আর তখন শুরু হতো ছোটখাটো ঝগড়া—যা আবার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাসিতে মিশে যেত।
বাড়ির পথে সেই আইসক্রিম খেতে খেতেই আমরা দিনের গল্প করতাম—কে ক্লাসে কি করেছে, কে বকা খেয়েছে, কে হোমওয়ার্ক করেনি। এই ছোট ছোট গল্পগুলোই আমাদের দিনটাকে আরও রঙিন করে তুলত। আইসক্রিমটা শেষ হয়ে গেলে হয়তো একটু আফসোস হতো, কিন্তু সেই আনন্দটা মন থেকে মুছে যেত না।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
কিছু কিছু দিন ছিল, যখন টাকা থাকত না। তখন আমরা শুধু দাঁড়িয়ে অন্যদের আইসক্রিম খাওয়া দেখতাম। মনটা একটু খারাপ লাগত ঠিকই, কিন্তু তখন কেউ না কেউ বলত—“এই নে, একটু খা।” সেই ভাগ করে নেওয়ার আনন্দটাই ছিল আসল। তখন বুঝতাম—বন্ধুত্ব মানে শুধু একসাথে থাকা না, একসাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।
আজকের দিনে এসে সেই আইসক্রিমওয়ালার অপেক্ষার দিনগুলো অনেকটাই হারিয়ে গেছে। এখন দোকানে গেলে যেকোনো সময় আইসক্রিম পাওয়া যায়, পছন্দেরও কোনো অভাব নেই। কিন্তু সেই অপেক্ষার আনন্দ, সেই ছোট্ট টাকার মূল্য, সেই বন্ধুর সাথে ভাগ করে খাওয়ার সুখ—এসব কি আর আগের মতো আছে?
মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে, আবার সেই স্কুল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি। আবার সেই আইসক্রিমওয়ালার জন্য অপেক্ষা করি, আবার সেই ২ টাকার আইসক্রিম কিনি, আর বন্ধুদের সাথে হাঁটতে হাঁটতে খাই। হয়তো সেই সময়টা আর ফিরে আসবে না, কিন্তু সেই স্মৃতিগুলো আজও আমাদের মনে বেঁচে আছে।
সত্যি বলতে, স্কুল শেষে আইসক্রিমওয়ালার সেই অপেক্ষাটা ছিল শুধু একটা আইসক্রিম পাওয়ার অপেক্ষা না—এটা ছিল ছোট ছোট আনন্দ খুঁজে পাওয়ার এক অপূর্ব অভ্যাস। আর সেই অভ্যাসটাই আমাদের শিখিয়েছে—জীবনের সবচেয়ে বড় সুখগুলো আসলে খুব ছোট ছোট জিনিসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।
স্কুল শেষে আইসক্রিমওয়ালার সেই অপেক্ষার গল্পটা আসলে আরও অনেক গভীরে গিয়ে ছুঁয়ে যায় আমাদের শৈশবকে। কারণ এই ছোট্ট ঘটনাটার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল একরাশ স্বপ্ন, একরাশ আশা আর দিনের শেষে নিজেকে একটু পুরস্কার দেওয়ার আনন্দ। ক্লাসের ভেতর বসে থাকতে থাকতেই অনেক সময় মনে মনে হিসাব কষতাম—আজকে যদি আইসক্রিম কিনি, তাহলে কাল কি টাকা থাকবে? আবার কখনো ভাবতাম—না, আজকে না কিনে কালকে দুটো কিনব! এই ছোট ছোট হিসাবগুলোই তখন আমাদের কাছে অনেক বড় সিদ্ধান্তের মতো মনে হতো।
অনেক সময় এমনও হতো, স্কুল ছুটির আগেই বন্ধুদের সাথে প্ল্যান করা হয়ে যেত—“আজকে সবাই আইসক্রিম খাবো।” তখন যেন একটা দলবদ্ধ উত্তেজনা কাজ করত। ক্লাস শেষ হওয়ার সাথে সাথে সবাই একসাথে বের হতাম, আর গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়াতাম। কেউ পকেট থেকে ভাঁজ করা টাকা বের করত, কেউ আবার ব্যাগের ভেতর থেকে খুঁজে বের করত। সেই টাকাগুলো হয়তো খুব বেশি ছিল না, কিন্তু সেই টাকার মূল্যটা ছিল অপরিসীম।
আইসক্রিমওয়ালার ঠেলাগাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মুহূর্তটা ছিল একদম সিনেমার মতো। কাঁচের ভেতরে সাজানো আইসক্রিমগুলো দেখতে দেখতে মনে হতো—কোনটা নেবো? কখনো রঙ দেখে পছন্দ করতাম, কখনো বন্ধুর পছন্দ দেখে। কেউ বলত—“এইটা ভালো”, কেউ বলত—“ওটা নে, এটা বেশি মজা!”—এইসব কথার মধ্যেই কেটে যেত কিছু সময়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে আইসক্রিমটাই নেওয়া হোক না কেন, সেটাই তখন পৃথিবীর সেরা মনে হতো।
আরেকটা বিষয় ছিল—আইসক্রিম খাওয়ার স্টাইল! কেউ একেবারে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলত, যেন কেউ নিয়ে না নেয়। কেউ আবার খুব আস্তে আস্তে খেত, যেন আনন্দটা বেশি সময় ধরে রাখা যায়। কেউ উপরের দিক থেকে খেত, কেউ পাশ থেকে কামড় দিত। এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলো নিয়েই চলত হাসাহাসি, মজা করা, খুনসুটি।
অনেক সময় এমনও হতো, আইসক্রিম গলে হাত দিয়ে নিচে পড়তে শুরু করত। তখন আমরা তাড়াহুড়ো করে খেতে শুরু করতাম। হাতে লেগে যাওয়া আইসক্রিম চেটে নেওয়া, বন্ধুরা সেটা দেখে মজা করা—এইসব মুহূর্তগুলোই ছিল সবচেয়ে বাস্তব আর সবচেয়ে আনন্দের। তখন কোনো ভদ্রতা বা নিয়মের চিন্তা ছিল না—ছিল শুধু খুশি।
বাড়ি ফেরার পথে সেই আইসক্রিমটা যেন একটা সঙ্গীর মতো থাকত। গরম রোদে হাঁটতে হাঁটতে সেই ঠান্ডা স্বাদটা শরীর-মন দুটোই ঠান্ডা করে দিত। রাস্তার ধুলা, রোদের তাপ—সবকিছু ভুলে গিয়ে আমরা শুধু সেই মুহূর্তটা উপভোগ করতাম। মাঝে মাঝে আইসক্রিম শেষ হয়ে গেলে কাঠিটা নিয়েও খেলতাম, কেউ সেটা ঘুরাত, কেউ আবার মাটিতে ফেলে দিত।
আর যদি কোনো দিন আইসক্রিমওয়ালা না আসত, তাহলে পুরো দিনটাই যেন একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগত। বাসায় ফিরে মন খারাপ হয়ে যেত—“আজকে আইসক্রিম খাওয়া হলো না!” সেই না-পাওয়ার অনুভূতিটাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেটাই আমাদের শেখাত—সবকিছু সবসময় পাওয়া যায় না, আর তাই পাওয়ার আনন্দটা এত বেশি।
মজুমদার আই.টিতে ভর্তি চলছে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: https://mojumderit.com
আজ যখন সেই দিনগুলোর কথা ভাবি, তখন বুঝতে পারি—আমরা তখন খুব অল্পতেই খুশি হতে পারতাম। একটা ছোট্ট আইসক্রিম, একটু অপেক্ষা, আর কিছু বন্ধু—এইটুকুই ছিল আমাদের আনন্দের জন্য যথেষ্ট। এখন হয়তো আমরা অনেক বড় হয়ে গেছি, অনেক কিছু পাওয়ার সুযোগ আছে, কিন্তু সেই সরল আনন্দটা কোথাও যেন হারিয়ে গেছে।
মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে যাওয়া যেত! আবার যদি সেই স্কুল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যেত, আবার যদি সেই আইসক্রিমওয়ালার ডাক শোনা যেত! কিন্তু সময় তো এগিয়ে চলে, পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ দেয় না। তবুও স্মৃতিগুলো থেকে যায়, আর সেই স্মৃতিগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো আসলে খুবই সাধারণ।
সত্যি বলতে, স্কুল শেষে আইসক্রিমওয়ালার সেই অপেক্ষাটা ছিল আমাদের শৈশবের এক ছোট্ট উৎসব। প্রতিদিন না হলেও, যেদিন হতো, সেদিনটাই হয়ে উঠত বিশেষ। আর সেই বিশেষ মুহূর্তগুলোই আজ আমাদের মনে একরাশ হাসি এনে দেয়—যা কখনো পুরোনো হয় না, কখনো ফিকে হয়ে যায় না।
Last Update: 6 months ago
এজাতীয় আরো অন্যান্য পোষ্ট:
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
আপনাদের পোষ্ট থেকে একটি ফ্যান ক্রয় করতে চেয়েছিলাম কিন্তু প্রাইজ অনেক বেশি। ধন্যবাদ।