স্কুল পালানো আমাদের জীবনের এক স্মরনীয় মুহুর্ত ছিল। ছোটবেলায় স্কুল থেকে পালায়নি এমন ছাত্র পাওয়া দুষ্কর। চলুন আমাদের শৈশবের কোন একটি স্কুল পালানো দিন সম্পর্কে জানি।
শরৎকালের এক শান্ত, নরম সকাল। আকাশটা যেন ধুয়ে-মুছে রাখা নীল কাগজের মতো, তার ওপর ভেসে বেড়াচ্ছে তুলোর মতো সাদা মেঘ। হালকা বাতাস বইছে, আর সেই বাতাসে কেমন একটা অদ্ভুত স্বাধীনতার গন্ধ। এমন একটা দিন, যেদিন ঘরের ভেতরে বসে থাকতে ইচ্ছা করে না—মন বারবার বাইরে ছুটে যেতে চায়।
কিন্তু সেই সুন্দর সকালটা আমার কাছে খুব একটা আনন্দের ছিল না। কারণ সেদিনও আমাকে স্কুলে যেতে হয়েছিল।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।
আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। বয়স কম, কিন্তু মনে তখন কত কিছু! বিশেষ করে যেদিন পড়তে একদম ইচ্ছা করতো না, সেদিন স্কুলটা যেন জেলখানার মতো মনে হতো। সেদিনও ঠিক তেমনই একটা দিন ছিল।
মা সকালে ডাকছিলেন বারবার—
“ওঠ, দেরি হয়ে যাবে!”
আমি বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে ছিলাম। মনে হচ্ছিল, আজ যদি কোনোভাবে স্কুলে না যেতে পারতাম! কিন্তু সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। শেষ পর্যন্ত উঠে, অনিচ্ছায় ইউনিফর্ম পরে, ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বের হতে হলো।
স্কুলে পৌঁছাতেই সেই চেনা দৃশ্য। মাঠে ছেলেরা দৌড়াচ্ছে, কেউ ফুটবল খেলছে, কেউ দল বেঁধে গল্প করছে। দূরে কয়েকজন স্যার দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। সবকিছু স্বাভাবিক, প্রতিদিনের মতোই—কিন্তু আমার মনটা আজ অন্য কোথাও।
আমি গিয়ে বসলাম আমার দুই সবচেয়ে কাছের বন্ধু—রাকিব আর সুমনের পাশে। ওরা দুজনই আমার সব দুষ্টুমির সঙ্গী। রাকিব সবসময় একটু হাসিখুশি, দুষ্টু টাইপের। আর সুমন ছিল একটু আলাদা—চুপচাপ, কিন্তু মাথা খাটাতে ওর জুড়ি ছিল না।

আমি বসতেই রাকিব হাসতে হাসতে বলল,
“আজকে পড়ার মুড আছে?”
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
আমি মুখ কুঁচকে বললাম,
“একদম না।”
সুমন তখন আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। তার চোখে কেমন যেন একটা চিন্তার ঝিলিক। কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে আস্তে করে বলল,
“তাহলে আজকে পড়বো না।”
আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম।
“মানে?”
সে একটু ঝুঁকে এসে নিচু গলায় বলল,
“আজকে আমরা স্কুল থেকে পালাবো।”
আরো পড়ুন: সাইকেল শেখার গল্প যা আজও মনে পড়ে
কথাটা শুনে আমার বুকটা ধক করে উঠল। মনে হলো—এটা কি সত্যি সম্ভব?
আমি তাড়াতাড়ি বললাম,
“ধরা পড়লে?”
রাকিব হেসে বলল,
“ধরা পড়বো না রে!”
সুমন তখন একদম নিশ্চিন্ত গলায় বলল,
“আমি প্ল্যান করে ফেলেছি।”
তারপর সে ধীরে ধীরে সব বুঝিয়ে দিল। টিফিনের পর সবাই যখন ক্লাসে ঢুকবে, আমরা একটু পিছিয়ে থাকব। তারপর পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে সেই সরু পথ ধরে খালের দিকে চলে যাবো।
সব শুনে আমার শরীর কাঁপতে লাগল। ভয় লাগছিল, কিন্তু একই সাথে কেমন একটা অদ্ভুত উত্তেজনাও হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল—আজ কিছু একটা আলাদা হতে যাচ্ছে।
টিফিনের ঘণ্টা বাজল। সবাই মাঠে বের হয়ে এলো। আমরা তিনজনও গেলাম, কিন্তু আজ খেলাধুলায় মন বসছিল না। আমরা মাঠের এক কোণে বসে রইলাম। কেউ কিছু বলছি না, কিন্তু সবার মনে একই চিন্তা।
টিফিন শেষ হলো। ঘণ্টা বাজতেই সবাই ক্লাসে ঢুকতে শুরু করল। আমাদের বুকের ভেতর তখন ঢাকের মতো শব্দ হচ্ছে। আমরা ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগলাম, ইচ্ছে করে পিছিয়ে পড়লাম।
পেছনের দরজার কাছে এসে দাঁড়ালাম। চারদিকে তাকালাম। কেউ নেই। চারপাশে একটা অদ্ভুত নীরবতা।
রাকিব আস্তে করে বলল,
“চল…”
আমরা দরজা ঠেলে বাইরে বের হলাম।
এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো—সব শেষ! কেউ বুঝি দেখে ফেলেছে। কিন্তু না, বাইরে কেউ ছিল না।
তারপর আমরা দৌড় দিলাম।
একদম প্রাণপণে দৌড়াচ্ছি। পেছনে তাকানোর সাহস নেই। মনে হচ্ছিল—কেউ আমাদের ধরতে আসছে, কেউ ডাকছে। কিন্তু আসলে কিছুই না। শুধু আমরা তিনজন আর এক ফাঁকা পথ।
স্কুলটা ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে গেল। সামনে খুলে গেল এক অজানা বিকেল।
আমরা সেই সরু পথ ধরে এগোতে লাগলাম। দুই পাশে ঝোপঝাড়, গাছ, পাখির ডাক। হালকা রোদ মাটিতে পড়ে ঝিকমিক করছে। কিছুদূর গিয়ে আমরা থামলাম। হাঁপাতে হাঁপাতে একে অপরের দিকে তাকালাম।
তারপর হঠাৎ করে সবাই হেসে উঠলাম।
একটা অদ্ভুত আনন্দ ছিল সেই হাসির মধ্যে। মনে হচ্ছিল—আমরা যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাহসী কাজটা করে ফেলেছি।
খালের ধারে পৌঁছাতেই একটা ঠাণ্ডা বাতাস এসে গায়ে লাগল। পানির ওপর সূর্যের আলো ঝিকমিক করছে। দূরে কয়েকজন মানুষ মাছ ধরছে, আর পাশে কয়েকটা গরু ঘাস খাচ্ছে। সবকিছু এত শান্ত, এত সুন্দর—মনে হচ্ছিল, এই জায়গাটাই আসল পৃথিবী।
আমরা একটা বড় গাছের নিচে বসে পড়লাম। রাকিব ব্যাগ খুলে চানাচুর আর বিস্কুট বের করল।
“এই জন্যই তো পালাইছি!”
আমরা হেসে ফেললাম।
খেতে খেতে গল্প শুরু হলো। কে বড় হয়ে কী হবে, কে কোথায় যাবে—এইসব ছোট ছোট স্বপ্ন। সুমন হঠাৎ বলল,
“আমরা যদি একদিন সত্যি পালাই?”
আমি হেসে বললাম,
“কোথায় যাবি?”
সে একটু দূরে তাকিয়ে বলল,
“অনেক দূরে…”
তার চোখে তখন এক অদ্ভুত স্বপ্নের আলো ছিল।
এরপর আমরা খালের ধারে হাঁটতে লাগলাম। সামনে গিয়ে একটা বাঁশের সাঁকো পেলাম। সুমন উঠে গেল, তারপর রাকিব। আমি একটু ভয় পাচ্ছিলাম, কিন্তু শেষে আমিও উঠলাম।
সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে নিচে তাকালাম। পানি ধীরে ধীরে বইছে। হঠাৎ পা পিছলে গেল।
এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো—আমি পড়ে যাচ্ছি।
ঠিক তখনই রাকিব আমার হাত ধরে ফেলল।
“ধরছি!”
আমার বুক ধড়ফড় করছিল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য সবকিছু থেমে গিয়েছিল।
ওই ঘটনার পর আমরা একটু চুপ হয়ে গেলাম। বুঝতে পারলাম—মজা করতে গিয়ে বিপদও হতে পারে।
হঠাৎ সুমন ঘড়ি দেখে চমকে উঠল।
“শেষ!”
আমরা বললাম,
“কি?”
সে বলল,
“সময় শেষ! স্কুল ছুটি হয়ে যাবে!”
আমাদের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল।
আমরা আর দেরি না করে দৌড় শুরু করলাম। সেই দৌড়টা ছিল অন্যরকম—ভয় মেশানো, তাড়াহুড়া মেশানো।
স্কুলের কাছে এসে দেখি ছুটি হয়ে গেছে। ছাত্ররা বের হচ্ছে। আমরা চুপচাপ ভিড়ের মধ্যে মিশে গেলাম।
সেদিন কেউ কিছু বুঝতে পারেনি।
মজুমদার আই.টিতে অনলাইন ও অফলাইন কোর্সে ভর্তি চলছে। বিস্তারিত দেখুন: https://mojumderit.com/
কিন্তু পরের দিন…
ক্লাসে ঢুকতেই দেখি স্যার চুপচাপ বসে আছেন। তার চোখে কড়া দৃষ্টি।
তিনি বললেন,
“গতকাল যারা ক্লাসে ছিল না…”
আমাদের বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
আমরা ধীরে ধীরে দাঁড়ালাম।
তিনি কিছুক্ষণ আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন,
“ভুল করেছো… কিন্তু ভুল থেকে শিখতে হবে।”
সেদিন কোনো শাস্তি পাইনি। কিন্তু তার সেই কথাটা মনে গেঁথে গিয়েছিল।
অনেক বছর কেটে গেছে।
আজ আমরা বড় হয়েছি। জীবন আমাদের আলাদা আলাদা পথে নিয়ে গেছে। কিন্তু মাঝে মাঝে সেই দিনের কথা মনে পড়ে।
চোখ বন্ধ করলে এখনো দেখি—
তিনটা ছোট ছেলে দৌড়ে যাচ্ছে স্কুলের সামনে দিয়ে…
পেছনে পড়ে আছে নিয়ম আর ভয়…
আর সামনে খুলে যাচ্ছে এক বিকেলের মুক্ত আকাশ।
সেই বিকেলটা হয়তো ছোট ছিল,
কিন্তু তার স্মৃতি—আজও বিশাল।
Last Update: 6 months ago
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
গল্পটি পড়ে মাদবরেরচর আর.এম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে স্কুল পালানোর কথা মনে পড়ে গেল 🙂