অপেক্ষার শেষ নেই: এক অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প

অপেক্ষার শেষ নেই —এই কথাটা অনেকেই বলে, কিন্তু খুব কম মানুষই এর আসল মানে অনুভব করে। কারো জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করা সহজ, কিন্তু যখন সেই অপেক্ষা দিন পেরিয়ে বছর হয়ে যায়, তখন সেটা আর শুধু অপেক্ষা থাকে না—এটা হয়ে যায় জীবনের একটা অংশ। এই গল্পটি এমন এক মানুষের, যে জানে তার অপেক্ষার কোনো শেষ নেই, তবুও সে থামে না… কারণ কিছু অনুভূতি কখনও শেষ হওয়ার জন্য তৈরি হয় না।

রেলস্টেশনের সেই পুরোনো বেঞ্চটা যেন সময়ের সাথে সাথে এক অদ্ভুত সাক্ষী হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসে, যায়—কারও চোখে আনন্দ, কারও চোখে ক্লান্তি, কারও আবার বিদায়ের কষ্ট। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝেও একটা দৃশ্য কখনও বদলায় না। বিকেল ঠিক পাঁচটা বাজলেই, একটা মেয়ে এসে নিঃশব্দে বসে পড়ে ওই বেঞ্চটার এক কোণায়। তার নাম মায়া। তার চোখে থাকে এক অদ্ভুত শান্তি আর অদ্ভুত অস্থিরতা—দুটো একসাথে। যেন সে কিছু জানে, আবার কিছু জানে না। যেন সে অপেক্ষা করছে, কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষটা কেমন হবে—সেটা সে নিজেও বুঝে উঠতে পারে না।

মায়ার এই আসা-যাওয়াটা আজকের না। বছরের পর বছর ধরে সে একই সময়, একই জায়গায় এসে বসে। প্রথমদিকে, যখন সে আসত, তার চোখে একটা তীব্র উজ্জ্বলতা থাকত। প্রতিটা ট্রেন ঢোকার সাথে সাথে তার বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে যেত, হাতের আঙুলগুলো অস্থির হয়ে উঠত। সে প্রতিটা দরজার দিকে তাকিয়ে থাকত—প্রতিটা নামা মানুষের মুখ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখত, যেন সেই ভিড়ের মাঝেই হঠাৎ করে পরিচিত একটা মুখ ভেসে উঠবে। তখন তার চোখে ঝলসে উঠত একটুখানি আশার আলো—“এইবার হয়তো…” কিন্তু প্রতিবারই সেই আলো নিভে যেত, খুব নিঃশব্দে, খুব ধীরে।

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।

এই অপেক্ষার শুরুটা ছিল অনেক বছর আগে, ঠিক এই স্টেশনেই। সেদিন আকাশটা ছিল একটু মেঘলা, হালকা বাতাস বইছিল। আরিয়ান নামের একটা ছেলেকে বিদায় দিতে এসেছিল মায়া। তাদের সম্পর্কটা ছিল খুব সাধারণ, আবার খুব গভীর। বড় কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না, বড় কোনো স্বপ্নও না—কিন্তু ছিল একটা অদ্ভুত বিশ্বাস। ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগে, আরিয়ান মায়ার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, “আমি ফিরে আসবো।” খুব সাধারণ একটা বাক্য, কিন্তু সেই মুহূর্তে সেটা ছিল পুরো একটা ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। মায়া হেসে বলেছিল, “আমি অপেক্ষা করবো।” তখন হয়তো তারা কেউই বুঝতে পারেনি—এই কথাগুলোর ওজন কতটা ভারী হয়ে উঠবে সময়ের সাথে।

প্রথম কিছুদিন অপেক্ষাটা ছিল মধুর। প্রতিদিন স্টেশনে আসা, ট্রেনের শব্দ শোনা, মানুষের ভিড়ে চোখ রাখা—সবকিছুই যেন এক ধরনের উত্তেজনা নিয়ে আসত। প্রতিটা দিন ছিল নতুন আশায় ভরা। মায়া ভাবত, আজ না হয় কাল, কাল না হয় পরশু—কোনো একদিন হঠাৎ করেই আরিয়ান সামনে এসে দাঁড়াবে। সে হয়তো হাসবে, হয়তো বলবে, “দেখ, আমি তো বলেছিলাম, ফিরবো।” আর সেই মুহূর্তটার জন্যই মায়া প্রতিদিন বেঁচে থাকত।

কিন্তু সময় কখনও কারও জন্য থেমে থাকে না। দিনগুলো ধীরে ধীরে মাসে, মাসগুলো বছরে পরিণত হতে লাগল। স্টেশনের মানুষগুলো বদলে গেল, দোকানগুলো বদলে গেল, ট্রেনের সময়সূচি বদলে গেল—কিন্তু মায়ার অপেক্ষাটা বদলাল না। শুধু তার চোখের সেই উজ্জ্বলতা একটু একটু করে কমে গেল। আশার জায়গায় এক ধরনের নিঃশব্দ ক্লান্তি এসে বসলো। তবুও, সে থামেনি। কারণ কোনো এক অদ্ভুত কারণে, সে বিশ্বাসটা পুরোপুরি ভাঙতে পারেনি।

অপেক্ষার শেষ নেই গল্পের স্টেশন দৃশ্য
একটা অপেক্ষা, যার কোনো শেষ নেই…

স্টেশনের এক বৃদ্ধ কর্মচারী প্রায়ই তাকে দেখত। প্রথমদিকে সে কিছু বলত না, শুধু দূর থেকে লক্ষ্য করত। কিন্তু একদিন, অনেকটা সাহস করে সে মায়ার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। তার কণ্ঠে ছিল মায়া, আর চোখে ছিল অভিজ্ঞতার ভার। সে ধীরে জিজ্ঞেস করল, “মা, এতদিন ধরে কাকে খুঁজিস?” প্রশ্নটা খুব সাধারণ ছিল, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল অনেক অজানা গল্পের আভাস। মায়া একটু চুপ করে রইল, যেন শব্দগুলো খুঁজে নিচ্ছে। তারপর মৃদু হেসে বলল, “যে বলেছিল, ফিরবে।” বৃদ্ধটা কিছুক্ষণ চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর খুব আস্তে করে বলল, “অনেকেই বলে… কিন্তু সবাই ফিরে আসে না।” এই কথাটা শোনার পর মায়ার চোখে এক মুহূর্তের জন্য একটা কাঁপন দেখা গেল—যেন ভেতরের কোনো সত্য হঠাৎ করে দরজায় ধাক্কা দিল।

সেদিন রাতে মায়া প্রথমবারের মতো নিজের সাথে সত্যি কথা বলেছিল। সে জানত, হয়তো আরিয়ান আর কখনও ফিরবে না। হয়তো কোনো অজানা শহরে, কোনো অজানা জীবনে সে হারিয়ে গেছে। হয়তো তার কাছে সেই প্রতিশ্রুতিটা এতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, যতটা মায়ার কাছে ছিল। এই উপলব্ধিটা খুব ধীরে, খুব কষ্ট দিয়ে তার ভেতরে জায়গা করে নিল। সে কেঁদেছিল—জোরে না, চিৎকার করে না—বরং নিঃশব্দে, নিজের ভেতরেই।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সত্য জানার পরেও তার অভ্যাসটা বদলায়নি। পরদিন বিকেল পাঁচটায়, সে আবার স্টেশনে এসেছিল। একই বেঞ্চে বসেছিল, একইভাবে ট্রেনের দিকে তাকিয়েছিল। পার্থক্য শুধু একটাই—এবার তার চোখে আর সেই তীব্র আশা ছিল না, ছিল এক ধরনের মেনে নেওয়া শান্তি। যেন সে জানে, কেউ আর আসবে না—তবুও সে অপেক্ষা করবে।

আজ অনেক বছর কেটে গেছে। মায়ার চুলে একটু একটু করে পাকা রং ধরেছে। মুখের রেখাগুলোও বদলে গেছে। কিন্তু তার আসার সময়টা বদলায়নি। স্টেশনের নতুন লোকেরা তাকে চেনে না, কিন্তু পুরোনোরা জানে—এই মেয়েটা অপেক্ষা করে। তারা কেউ আর তাকে “পাগলি” বলে না, বরং একটা অদ্ভুত সম্মান নিয়ে তাকায়। কারণ সবাই বুঝে গেছে—এটা আর শুধু কারো জন্য অপেক্ষা না, এটা একটা অনুভূতির প্রতি নিষ্ঠা।

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে

মায়া হয়তো অনেক আগেই বুঝে গেছে—আরিয়ান আর ফিরবে না। কিন্তু সে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটা সে ভাঙেনি। তার কাছে এই অপেক্ষা আর কোনো মানুষকে পাওয়ার জন্য না, বরং নিজের একটা অংশকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। কারণ কখনও কখনও, কিছু মানুষ চলে যায়—কিন্তু তাদের জন্য তৈরি হওয়া অনুভূতিগুলো কোথাও যায় না।

স্টেশনে আজও ট্রেন আসে, ট্রেন যায়। নতুন মানুষ আসে, নতুন গল্প শুরু হয়। কিন্তু মায়ার গল্পটা একই জায়গায় থেমে আছে—একটা বেঞ্চে, বিকেল পাঁচটার আলো-ছায়ার মাঝে।

আর সেই গল্পটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
সব অপেক্ষার শেষ হয় না।
কিছু অপেক্ষা শুধু বেঁচে থাকে… আমাদের ভেতরে।

স্টেশনের মানুষগুলো ধীরে ধীরে বদলে যায়, কিন্তু কিছু মুখ থেকে যায়—শুধু অভ্যাসের কারণে। মায়াও তেমনই এক অভ্যাস হয়ে গেছে এই স্টেশনের। নতুন যারা আসে, তারা প্রথমে অবাক হয়ে তাকায়—একজন মানুষ প্রতিদিন একই সময়ে, একই জায়গায় বসে থাকে কেন? কিন্তু যারা পুরোনো, তারা আর প্রশ্ন করে না। তারা জানে, সব প্রশ্নের উত্তর জানতেই হয় না।

যাবতীয় ফাইল, ফর‌ম্যাট, সিভি ইত্যাদি পাবেন ডক ঘরে। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন:https://docghor.com/

একদিন হঠাৎ করেই স্টেশনে একটা অচেনা ছেলে আসে। বয়স কম, চোখে কৌতূহল। সে কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করে—মায়া প্রতিদিন আসে, বসে থাকে, আবার চলে যায়। তার মনে কৌতূহল জমতে থাকে। একদিন সাহস করে সে এগিয়ে যায়।

“আপনি কি কারো জন্য অপেক্ষা করছেন?”
ছেলেটার প্রশ্নটা সরল, কিন্তু তাতে ছিল এক ধরনের অজানা টান।

মায়া একটু তাকায় তার দিকে। অনেকদিন পর কেউ সরাসরি এই প্রশ্নটা করল। সে হালকা হাসে—একটা ক্লান্ত, কিন্তু মায়াময় হাসি।

“হ্যাঁ… করতাম,” সে বলে।
“এখন?”
ছেলেটা আবার জিজ্ঞেস করে।

মায়া কিছুক্ষণ চুপ থাকে। দূরে একটা ট্রেনের হুইসেল শোনা যায়। সে ট্রেনটার দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর ধীরে বলে—
“এখন আর জানি না… অপেক্ষা করছি, না শুধু আসার অভ্যাস হয়ে গেছে।”

ছেলেটা কিছু বলতে পারে না। সে শুধু চুপ করে পাশে বসে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর চলে যায়। কিন্তু তার চোখে একটা প্রশ্ন রয়ে যায়—কিভাবে কেউ এতদিন ধরে অপেক্ষা করতে পারে?

দিনগুলো আরও কেটে যায়।

একদিন বিকেলে, আকাশটা হঠাৎ করে কালো হয়ে আসে। প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। মানুষজন দৌড়ে আশ্রয় নেয়। স্টেশনটা প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু সেই বেঞ্চটার দিকে তাকালে দেখা যায়—মায়া এখনও বসে আছে।

তার গায়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে, চুল ভিজে গেছে, কিন্তু সে উঠে যায় না। তার চোখ এখনও ট্রেন লাইনের দিকে।

হয়তো সে জানে—আজও কেউ আসবে না।
তবুও, সে উঠে যেতে পারে না।

কারণ এই জায়গাটা ছেড়ে দিলে, যেন সে তার শেষ বিশ্বাসটুকুও হারিয়ে ফেলবে।

সেই দিনটার পর মায়া কয়েকদিন আর আসে না।

প্রথমদিন কেউ খেয়াল করে না।
দ্বিতীয়দিন, বৃদ্ধ কর্মচারীটা একটু চিন্তিত হয়।
তৃতীয়দিন, সে বেঞ্চটার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

চতুর্থদিনে খবর আসে—
মায়া আর নেই।

খুব শান্তভাবে, নিজের ঘরে… সে চলে গেছে।

স্টেশনে কোনো বড় পরিবর্তন হয় না।
ট্রেন আসে, ট্রেন যায়…
মানুষ আসে, মানুষ হারিয়ে যায়…

কিন্তু সেই বেঞ্চটা—
সেটা যেন হঠাৎ করেই অনেক বেশি ফাঁকা হয়ে যায়।

কয়েকদিন পর, সেই অচেনা ছেলেটা আবার স্টেশনে আসে।
সে চারপাশে তাকায়, তারপর বেঞ্চটার দিকে যায়।

মায়া নেই।

সে ধীরে বসে পড়ে ওই জায়গায়।
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে।

আরো পড়ুন: ছোট্ট প্রেমের গল্প এক চিরন্তন ভালোবাসার গল্প

তারপর নিজের মনে খুব আস্তে করে বলে—
“আপনি ঠিকই বলেছিলেন… এটা শুধু অপেক্ষা না, এটা একটা অনুভূতি।”

হয়তো আরিয়ান কোনোদিন জানতেই পারবে না—
কেউ তার জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছিল।

হয়তো পৃথিবীর কোথাও তার কোনো স্মৃতিতেও নেই মায়ার নাম।

কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না।

কারণ ভালোবাসা সবসময় ফিরে পাওয়ার জন্য হয় না।
কিছু ভালোবাসা শুধু অপেক্ষা করে—
শেষ পর্যন্ত।

আর মায়া?

সে আর স্টেশনে আসে না…
কিন্তু বিকেল ৫টা বাজলেই,
স্টেশনের বাতাসে যেন এখনও একটা অনুভূতি ভেসে বেড়ায়।

কেউ দেখে না, কেউ ছুঁতে পারে না—
তবুও বোঝা যায়…

কিছু অপেক্ষার সত্যিই কোনো শেষ নেই।


Last Update: 5 months ago

 

Casio Original Calculator

Casio Original Calculator

পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.