ছোটবেলায় টিভি দেখা সেই দিনগুলি আজও মনে পড়ে

ছোটবেলায় টিভি দেখা

ছোটবেলায় টিভি দেখা সেই দিনগুলোতে ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বিনোদনের উৎস। তখনকার দিনে ঘরে ঘরে টিভি ছিল না, আর যাদের বাসায় টিভি ছিল, তাদের বাড়িই হয়ে উঠত পুরো পাড়ার আড্ডাখানা। বিকেল হলেই মনটা অস্থির হয়ে উঠত—আজ কি দেখাবে, কখন শুরু হবে, কারা কারা আসবে! সেই অপেক্ষার আনন্দটাই ছিল আলাদা। এখনকার মতো হাতে মোবাইল নিয়ে যেকোনো সময় কিছু দেখে ফেলার সুযোগ ছিল না। একটা নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান—আর সেই অনুযায়ী তৈরি হয়ে বসে থাকা, এই ব্যাপারটাই আমাদের আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিত।

আমাদের বাড়িতে টিভি ছিল না প্রথম দিকে। তাই পাড়ার এক চাচার বাসায় যেতাম আমরা। বিকেল থেকে শুরু হতো সেই জমায়েত। ছোট-বড় সবাই মিলে এক ঘরে বসে থাকতাম। কেউ মেঝেতে, কেউ খাটে, কেউ আবার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে—যেভাবেই হোক একটু জায়গা করে নিয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কেউ আগে গিয়ে জায়গা দখল করে রাখত, কেউ দেরি করে এসে জায়গা না পেয়ে মন খারাপ করত। তবুও কেউ ফিরে যেত না। কারণ সবাই জানত—এই আনন্দটা মিস করা যাবে না।

সন্ধ্যার পরপরই টিভি চালু করা হতো। তখন সেই ‘বিটিভি’র লোগো দেখলেই মনে এক অন্যরকম উত্তেজনা তৈরি হতো। ধীরে ধীরে অনুষ্ঠান শুরু হতো। কখনো কার্টুন, কখনো নাটক, কখনো গান—যা-ই দেখাত, আমাদের কাছে সবই ছিল দারুণ আকর্ষণীয়। বিশেষ করে শুক্রবারের দিনটা ছিল সবচেয়ে স্পেশাল। সেদিন বাংলা সিনেমা দেখানো হতো, আর পুরো পাড়া যেন উৎসবের আমেজে ভরে উঠত। সবাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখত—খাবার খেয়ে, কাজ শেষ করে, ঠিক সময়ে এসে বসে পড়ত।

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।

ছোটবেলায় টিভি দেখা

কার্টুন দেখার আনন্দটাই ছিল অন্যরকম। ছোটরা তো বটেই, বড়রাও চুপচাপ বসে থাকত। টম অ্যান্ড জেরি, কিংবা অন্য কোনো কার্টুন—এইসব দেখার সময় পুরো ঘরে হাসির রোল পড়ে যেত। কেউ জোরে হেসে উঠত, কেউ আবার চুপচাপ মুচকি হাসত। সেই একসাথে বসে হাসার মুহূর্তগুলোই ছিল সবচেয়ে সুন্দর। এখনকার মতো আলাদা আলাদা রুমে বসে, আলাদা ডিভাইসে কিছু দেখার অভ্যাস ছিল না। তখন সবাই একসাথে, এক জায়গায় বসেই আনন্দ ভাগ করে নিতাম।

নাটক দেখার সময় আবার এক ভিন্ন পরিবেশ তৈরি হতো। সবাই একটু চুপচাপ হয়ে যেত। গল্পের মধ্যে ঢুকে যেতাম আমরা। চরিত্রগুলোর সাথে যেন একাত্ম হয়ে যেতাম। কেউ কাঁদলে আমাদেরও মন খারাপ হয়ে যেত, কেউ হাসলে আমরা হাসতাম। সেই সময়কার নাটকগুলোর একটা আলাদা গভীরতা ছিল, যেটা আজও মনে দাগ কেটে আছে। গল্পগুলো ছিল সহজ, কিন্তু খুব কাছের—আমাদের জীবনের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যেত।

টিভি দেখার সময় মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চলে যেত। তখন পুরো ঘরে একসাথে হতাশার আওয়াজ উঠত—“আরে, কারেন্ট চলে গেল!” কেউ কেউ বাইরে গিয়ে খোঁজ নিত—কবে আসবে। কেউ আবার আশা নিয়ে বসে থাকত—“এখনই আসবে।” সেই অপেক্ষার মুহূর্তগুলোও ছিল মজার। কারেন্ট চলে গেলে সবাই মিলে গল্প শুরু হয়ে যেত। কেউ পুরোনো কোনো ঘটনা বলত, কেউ মজার গল্প শোনাত। অন্ধকার ঘরে সেই আড্ডার আলাদা একটা মাধুর্য ছিল।

কারেন্ট ফিরে আসলেই আবার সবাই দৌড়ে গিয়ে বসে পড়ত। কেউ জায়গা হারিয়ে ফেললে একটু ঝামেলাও হতো। “এইটা আমার জায়গা!”, “আমি আগে বসেছিলাম!”—এইসব ছোটখাটো তর্ক লেগেই থাকত। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার সব ঠিক হয়ে যেত। কারণ আমাদের লক্ষ্য ছিল একটাই—টিভি দেখা, আর সেই আনন্দটা উপভোগ করা।

আরো পড়ুন: ভূত এফএম 88.0 – কিশোর বয়সের একটি আবেগের নাম

ঈদের সময় টিভির সামনে বসার আনন্দটা ছিল আরও বেশি। ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠান, নাটক, গান—সবকিছুই যেন একটু বেশি আকর্ষণীয় লাগত। নতুন জামা পরে, সবাই মিলে বসে সেই অনুষ্ঠানগুলো দেখা—এই স্মৃতিগুলো আজও খুব স্পষ্ট। তখনকার দিনে ঈদের অনুষ্ঠান মানেই ছিল একটা বড় আয়োজন, আর আমরা সেই আয়োজনের অংশ হতে পারতাম টিভির মাধ্যমে।

সময়টা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল। একসময় আমাদের বাসাতেও টিভি এলো। তখন আর অন্যের বাসায় যেতে হতো না, কিন্তু সেই জমায়েতের আনন্দটা কিছুটা কমে গেল। আগে যেখানে পুরো পাড়া একসাথে বসত, এখন সবাই নিজের নিজের ঘরে বসে দেখতে শুরু করল। সুবিধা বাড়ল ঠিকই, কিন্তু সেই একসাথে থাকার মজাটা কমে গেল।

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে

আজকের দিনে এসে সবকিছুই যেন বদলে গেছে। এখন মোবাইল, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স—সবকিছু হাতের মুঠোয়। যখন ইচ্ছা, যা ইচ্ছা দেখা যায়। কিন্তু সেই অপেক্ষা নেই, সেই উত্তেজনা নেই, সেই একসাথে বসে থাকার আনন্দ নেই। এখন কেউ একসাথে বসে টিভি দেখে না, সবাই নিজের নিজের দুনিয়ায় ব্যস্ত। ছোটবেলায় টিভি দেখা সেই দিনগুলো যেন আজ কারো মনেই পড়ে না।

মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা হয়তো অনেক কিছু পেয়েছি, কিন্তু কিছু অমূল্য জিনিস হারিয়েও ফেলেছি। সেই টিভির সামনে বসে থাকা দিনগুলো, সেই পাড়ার সবাই মিলে একসাথে হাসা-কাঁদা, সেই ছোট ছোট ঝগড়া—এসবই ছিল আমাদের শৈশবের সবচেয়ে সুন্দর অংশ।

আজ যদি আবার সেই দিনগুলো ফিরে পাওয়া যেত! আবার যদি বিকেল হলেই সবাই একসাথে জড়ো হতে পারতাম, আবার যদি সেই বিটিভির লোগো দেখার জন্য অপেক্ষা করতে পারতাম! কিন্তু সময় তো আর ফিরে আসে না। তাই শুধু স্মৃতিগুলোই রয়ে গেছে, আর সেই স্মৃতিগুলোই আমাদের মনে বারবার নেড়ে দেয়।

সত্যিই, টিভির সামনে বসে থাকা সেই দিনগুলো ছিল এক টুকরো স্বর্গের মতো। আর সেই স্বর্গীয় মুহূর্তগুলোই আজ আমাদের জীবনের সবচেয়ে মধুর স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে—যা কখনোই ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।

মাত্র ১৪ হাজার টাকায় ভিশন এর ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি পাওয়া যায়।
কিনতে ভিজিট করুন: https://rkmri.co/oImmEMMTSMNR/

Last Update: 6 months ago

 

Casio Original Calculator

Casio Original Calculator

পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর

About মহসিন উদ্দিন 30 Articles
মহসিন উদ্দিন একজন ব্লগার। ‍যিনি ২০১৩ সাল থেকে ব্লগিং করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.