আমার ফোনে নিজের নাম্বার থেকেই কল এলো

সেদিন রাতটা ছিল একদম সাধারণ—নীরব, শান্ত, আর একটু ক্লান্তিকরও বটে। সারাদিনের কাজ শেষে আমি বিছানায় শুয়ে ফোনটা স্ক্রল করছিলাম। বাইরে হালকা বাতাস বইছিল, মাঝে মাঝে জানালার কাঁচে ঠুকরে যাচ্ছিল। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল, যতক্ষণ না হঠাৎ করে আমার ফোনটা কাঁপতে শুরু করল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আমি থমকে গেলাম—আমার নিজের নাম্বার থেকেই কল এসেছে।প্রথমে ভাবলাম হয়তো কোনো টেকনিক্যাল সমস্যা, বা নেটওয়ার্কের গড়বড়। কিন্তু তবুও বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই কেমন যেন ঠান্ডা হয়ে গেল। নিজের নাম্বার থেকে নিজের ফোনে কল আসা—এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক না। কয়েক সেকেন্ড দ্বিধায় থাকার পর আমি কলটা রিসিভ করলাম। ওপাশে কোনো শব্দ নেই… শুধু হালকা একটা নিঃশ্বাসের শব্দ, যেন কেউ খুব কাছে থেকে ধীরে ধীরে শ্বাস নিচ্ছে। আমি “হ্যালো” বললাম একবার, দু’বার… কিন্তু কোনো উত্তর এল না। হঠাৎ করেই কলটা কেটে গেল।

আমি ফোনটা নামিয়ে রাখলাম, কিন্তু মাথার ভেতর প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খেতে লাগল। এটা কি সত্যিই কোনো বাগ? নাকি কেউ আমার নাম্বার স্পুফ করে কল করছে? যুক্তি দিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু মনের ভেতরের অজানা ভয়টা ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকল। কিছুক্ষণ পর আবার ফোনটা বেজে উঠল। আবার একই জিনিস—আমার নিজের নাম্বার। এবার হাত কাঁপছিল, তবুও কলটা ধরলাম।এইবার ওপাশ থেকে একটা ফিসফিসে গলা শোনা গেল—একদম নিচু স্বরে, যেন কেউ খুব কষ্ট করে কথা বলছে। গলাটা অদ্ভুতভাবে পরিচিত… আর সেটা শুনেই আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। গলাটা ছিল আমারই। “কলটা কেটে দাও… এখনই…”—শব্দগুলো ভেসে এল ধীরে ধীরে। আমি কিছু বলার আগেই আবার লাইন কেটে গেল।

মজুমদার আই.টিতে  অফলাইন কোর্সে ভর্তি চলছে। বিস্তারিত দেখুন: https://mojumderit.com

এইবার আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়লাম না, কিন্তু মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিল। এটা কীভাবে সম্ভব? আমি তো নিজেই এখানে, নিজের হাতেই ফোন ধরে আছি। তাহলে ওপাশে আমার গলার মানুষটা কে? আতঙ্ক আর কৌতূহল একসাথে আমাকে চেপে ধরল। আমি ঠিক করলাম, এবার যদি আবার কল আসে, আমি যাই হোক কথা বলব। তৃতীয়বার যখন ফোনটা বেজে উঠল, তখন রাত প্রায় ২টা। চারপাশ একদম নিস্তব্ধ। শুধু আমার হৃদপিণ্ডের ধুপধুপ শব্দটা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। স্ক্রিনে আবার সেই একই নাম্বার। আমি কলটা ধরতেই ওপাশ থেকে তাড়াহুড়ো করে সেই গলাটা বলল—“শোনো, সময় নেই… তুমি এখনই ঘর থেকে বের হয়ে যাও… জানালার পাশে যেও না… ওখানে দাঁড়িয়ে আছে…”

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।

আমি জমে গেলাম। আমার চোখ ধীরে ধীরে ঘরের জানালার দিকে গেল। পর্দাটা অল্প খোলা ছিল, আর তার ফাঁক দিয়ে বাইরে অন্ধকারটা যেন আরও গভীর লাগছিল। হঠাৎ মনে হল, কেউ একজন সত্যিই দাঁড়িয়ে আছে ওখানে—নড়ছে না, শুধু তাকিয়ে আছে। আমার নিঃশ্বাস আটকে গেল। ফোনের ওপাশ থেকে আবার সেই গলা—“ওটা তুমি না… বিশ্বাস করো… ওটা তুমি না…”আমি হঠাৎ করেই বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে দরজার দিকে দৌড় দিলাম। পেছনে তাকানোর সাহস ছিল না। দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলাম, আর তখনই ফোনটা আবার কেটে গেল। বাইরে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। মাথার ভেতর সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে।কিছুক্ষণ পর সাহস করে আবার ফোনটা অন করলাম। কল লগে দেখলাম—শেষ তিনটা ইনকামিং কল, সবগুলোই আমার নিজের নাম্বার থেকে। কিন্তু এর চেয়েও ভয়ংকর ছিল একটা জিনিস—একটা আউটগোয়িং কলও ছিল, ঠিক একই সময়… একই নাম্বারে… প্রায় ১০ মিনিট আগে।

মানে… আমি তখন কাউকে কল করেছিলাম—নিজেকেই।

সেই মুহূর্তে আমার শরীরের সব রক্ত যেন হিম হয়ে গেল। কারণ আমি জানতাম—ওই ১০ মিনিট আগে আমি ফোনটা ছুঁয়েও দেখিনি। ধীরে ধীরে আমার মাথায় একটা ভয়ংকর চিন্তা আসতে লাগল… যদি সত্যিই ভবিষ্যতের আমি, অতীতের আমাকে সতর্ক করার চেষ্টা করে থাকে?হঠাৎ পেছন থেকে দরজার ভেতরটা কড় করে শব্দ করল। আমি ধীরে ধীরে ঘুরে তাকালাম। আমার ঘরের ভেতরে… অন্ধকারের মধ্যে… ঠিক আমার মতোই একজন দাঁড়িয়ে আছে। আর তার হাতে… আমার ফোনটা।

আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। পা যেন আর নড়ছিল না। ভেতরের সেই মানুষটা—না, “মানুষ” বলাটা ঠিক হবে না—আমার মতো দেখতে সেই ছায়ামূর্তিটা ধীরে ধীরে মাথা তুলল। অন্ধকারের মাঝেও আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম, সে আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। তার চোখ দুটো ঠিক আমার মতো, কিন্তু তাতে কোনো অনুভূতি নেই—শূন্য, ঠান্ডা, আর অস্বাভাবিকভাবে স্থির।আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল যখন সে ধীরে ধীরে হাতটা তুলল, আর তার হাতে ধরা ফোনটার স্ক্রিন হালকা আলো ছড়াতে শুরু করল। সেই আলোতে তার মুখটা আরও পরিষ্কার হয়ে উঠল—হ্যাঁ, সেটাই আমার মুখ… কিন্তু যেন কোনো আবেগহীন, নিস্তেজ একটা সংস্করণ। ঠিক যেন কেউ আমার চেহারাটা নকল করেছে, কিন্তু ভেতরের “আমি”-টাকে নকল করতে পারেনি।

হঠাৎ আমার নিজের ফোনটা আবার কাঁপতে শুরু করল। আমি কাঁপা হাতে স্ক্রিনের দিকে তাকালাম—আবার সেই একই নাম্বার। মাথার ভেতর তখন একটাই চিন্তা ঘুরছিল—ধরব, না ধরব? কিন্তু শেষ পর্যন্ত কৌতূহলটাই ভয়কে হারিয়ে দিল। আমি কলটা রিসিভ করলাম।ওপাশ থেকে এবার খুব দ্রুত, আতঙ্কিত গলায় কথা ভেসে এল—“শোনো, তুমি বাইরে আছো, এটা ভালো… কিন্তু বেশিক্ষণ না… ও তোমার জায়গা নিতে চায়… দরজার ভেতরে ঢুকতে দিও না… কোনোভাবেই না…” আমি গিলতে পারছিলাম না। ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। আমি কাঁপা গলায় বললাম, “তুমি কে?” এক সেকেন্ড নীরবতা… তারপর উত্তর এল—“আমি… তুমি… কিন্তু আর বেশিক্ষণ না…” লাইনটা হঠাৎ করেই কেটে গেল।

“নিজের নাম্বার থেকেই কল আসছে এমন ভয়ংকর দৃশ্য”
“রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ নিজের নাম্বার থেকেই কল এলো”

আমি ধীরে ধীরে আবার দরজার দিকে তাকালাম। ভেতরের সেই ছায়ামূর্তিটা এখন দরজার একদম কাছে এসে দাঁড়িয়ে আছে। তার ঠোঁটের কোণে হালকা একটা হাসি—যেটা আমার কখনোই হয় না। সে দরজার হাতলটা ধরল। আমার মাথার ভেতর যেন বজ্রপাত হলো—যদি সে বের হয়ে আসে? যদি সে আমার জায়গা নিয়ে নেয়? আমি তাড়াতাড়ি দরজাটা ঠেলে বাইরে থেকে চেপে ধরলাম। ভেতর থেকে চাপ পড়তে লাগল—ধীরে ধীরে, কিন্তু শক্তভাবে। মনে হচ্ছিল, সে আমাকে ছাড়িয়ে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে। আমার হাত কাঁপছিল, কিন্তু আমি সর্বশক্তি দিয়ে দরজাটা আটকে রাখলাম। ঠিক তখনই আবার ফোনটা বেজে উঠল।

আমি এক হাত দিয়ে দরজা ধরে রেখেই অন্য হাতে কলটা ধরলাম। ওপাশ থেকে সেই গলা—এবার একটু দুর্বল শোনাচ্ছিল—“শোনো… সময় শেষ হয়ে আসছে… তুমি যদি বাঁচতে চাও, এখনই একটা কাজ করো… ফোনটা বন্ধ করো… আর কখনো অন করো না…” আমি অবাক হয়ে গেলাম—“ফোন বন্ধ করলেই কী হবে?” উত্তর এল খুব ধীরে—“ওটা এই ফোনের ভেতরেই আটকে আছে… তুমি ফোন চালু রাখলে, ও শক্তি পায়… আর যদি ও পুরোপুরি বের হয়ে আসে… তাহলে তুমি…” কথাটা শেষ হওয়ার আগেই ভেতর থেকে একটা জোরে ধাক্কা লাগল। দরজাটা প্রায় খুলে যাচ্ছিল। আমি সর্বশক্তি দিয়ে আবার চেপে ধরলাম। মনে হচ্ছিল, আর কয়েক সেকেন্ডের বেশি ধরে রাখতে পারব না। আমার মাথায় তখন আর কিছু কাজ করছিল না। শুধু একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এখনই।

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে

আমি দ্রুত ফোনটার দিকে তাকালাম। স্ক্রিনে নিজের নাম্বারটাই জ্বলজ্বল করছে। একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল—যেন ফোনটার ভেতর থেকে কেউ আমাকে দেখছে। হঠাৎ আমি চোখ বন্ধ করে ফোনটার পাওয়ার বাটন চেপে ধরলাম। কয়েক সেকেন্ড… তারপর স্ক্রিনটা পুরোপুরি কালো হয়ে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তেই দরজার ভেতর থেকে চাপটা একদম বন্ধ হয়ে গেল। আমি ধীরে ধীরে দরজা থেকে হাত সরালাম। বুক ধড়ফড় করছে, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে গেছে। কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকার পর সাহস করে দরজাটা একটু ফাঁক করে ভেতরে তাকালাম। ঘরটা একদম ফাঁকা। কেউ নেই। সবকিছু আগের মতোই—বিছানা, টেবিল, জানালা… কিন্তু যেন একটা অদ্ভুত শীতলতা ছড়িয়ে আছে চারপাশে। আমি ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলাম, চারদিকে তাকালাম… সত্যিই কেউ নেই।

আমি স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেললাম, কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টিকল না। কারণ ঠিক তখনই আমার চোখ পড়ল টেবিলের উপর রাখা আরেকটা ফোনের দিকে। ওটা আমার ফোন না। ধীরে ধীরে কাছে গিয়ে দেখলাম—ফোনটা আমারই মডেল, একদম একই রকম। কিন্তু স্ক্রিনটা নিজে নিজেই জ্বলে উঠল। স্ক্রিনে একটা নতুন নোটিফিকেশন— “Incoming Call…” নাম্বারটা দেখেই আমার শরীর আবার জমে গেল। ওটা ছিল আমার নিজের নাম্বার।

আমি কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম, যেন সময়টাই থেমে গেছে। চোখ সরাতে পারছিলাম না সেই ফোনের স্ক্রিন থেকে। মনে হচ্ছিল, আমি যদি চোখের পলক ফেলি, তাহলে হয়তো ভয়ংকর কিছু ঘটে যাবে। ধীরে ধীরে হাত বাড়ালাম ফোনটার দিকে, কিন্তু আঙুলগুলো কাঁপছিল এতটাই যে ঠিকমতো ছুঁতেও পারছিলাম না। আমার মাথার ভেতর তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল—আমি কি সত্যিই সবকিছু শেষ করে ফেলেছি, নাকি এটা কেবল শুরু? ফোনটা হঠাৎ করেই আবার বেজে উঠল। এবার আর কোনো দ্বিধা করলাম না। ভেতরের ভয়টা যেন একধরনের জেদে পরিণত হয়েছিল। আমি কলটা রিসিভ করলাম। ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা, তারপর খুব ধীরে, একদম ঠান্ডা একটা কণ্ঠ ভেসে এল—“তুমি ভাবছো তুমি বেঁচে গেছো?”

আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। গলাটা আমারই, কিন্তু এবার সেটা আগের মতো আতঙ্কিত না—বরং অদ্ভুতভাবে শান্ত, আত্মবিশ্বাসী… আর ভয়ংকর। আমি কোনোভাবে নিজেকে সামলে বললাম, “তুমি কে?”ওপাশে হালকা একটা হাসির শব্দ হলো—শুকনো, অনুভূতিহীন একটা হাসি। তারপর সে বলল, “আমি তো তুমি… কিন্তু তুমি যাকে চেনো, তার চেয়ে একটু আলাদা।” আমার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। আমি চারদিকে তাকালাম—ঘরটা একই আছে, কিন্তু যেন সবকিছু একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে। দেয়ালের রংটা যেন একটু গাঢ়, বাতাসটা একটু ভারী, আর আলোটা অস্বাভাবিকভাবে নিস্তেজ। মনে হচ্ছিল, আমি আমার নিজের ঘরে না—একটা অন্যরকম, বিকৃত সংস্করণে দাঁড়িয়ে আছি।

আরো পড়ুন:

ওপাশ থেকে আবার সেই কণ্ঠ ভেসে এল—“তুমি কি খেয়াল করেছো? সবকিছু একটু আলাদা লাগছে… কারণ তুমি এখন আর তোমার জায়গায় নেই।”আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। “মানে?” সে ধীরে ধীরে বলল, “মানে খুব সহজ… তুমি দরজাটা খুলেছিলে। তুমি ভেবেছিলে ওটা চলে গেছে… কিন্তু ওটা শুধু জায়গা বদলেছে।” আমার হাত থেকে ফোনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। আমি হঠাৎ করে বুঝতে পারলাম—আমি যখন দরজা খুলে ভেতরে ঢুকেছিলাম, তখন আমি নিশ্চিত হইনি যে সত্যিই সব শেষ হয়েছে কিনা। আমি শুধু ধরে নিয়েছিলাম। আর সেই ভুলটাই হয়তো সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। আমি তাড়াতাড়ি দরজার দিকে তাকালাম। দরজাটা আধখোলা, আর তার ওপাশে করিডোরটা অন্ধকারে ঢেকে আছে। হঠাৎ মনে হলো, ওখানে কেউ দাঁড়িয়ে আছে… ঠিক আগের মতোই, নিঃশব্দে তাকিয়ে।

“তুমি এখন ওর জায়গায়,” ওপাশের কণ্ঠটা বলল, “আর ও… ও এখন তোমার জায়গায়।” আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। “না… এটা হতে পারে না…” সে খুব শান্তভাবে উত্তর দিল, “হয়ে গেছে।” ঠিক তখনই করিডোরের অন্ধকার থেকে ধীরে ধীরে একটা অবয়ব বেরিয়ে এল। আমি চোখ বড় করে তাকিয়ে রইলাম। ওটা… আমি। কিন্তু এবার তার চোখে একটা অদ্ভুত জ্যোতি—জীবন্ত, সচেতন… আর ঠোঁটে একটা তৃপ্তির হাসি। সে ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ঢুকল, চারদিকে তাকাল, যেন সবকিছু নতুন করে উপভোগ করছে। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে খুব স্বাভাবিক গলায় বলল, “অবশেষে… সবকিছু ঠিকঠাক হলো।” আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। আমি পেছাতে চাইলাম, কিন্তু পা যেন মেঝেতে আটকে গেছে। ফোনের ওপাশ থেকে কণ্ঠটা আবার বলল, “দেখলে? ও এখন তুমি… আর তুমি…” আমি কাঁপা গলায় বললাম, “আমি কী?” কয়েক সেকেন্ড নীরবতা… তারপর সেই ভয়ংকর উত্তরটা এল— “তুমি এখন শুধু একটা কণ্ঠ… একটা কল… একটা নাম্বার… যেটা মাঝে মাঝে বাজবে… আর কেউ একজন ভয় পেয়ে রিসিভ করবে…”

আমার মাথার ভেতর যেন সবকিছু ভেঙে পড়ল। আমি চিৎকার করতে চাইলাম, কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না। আমার শরীরটা হালকা হতে লাগল, যেন আমি ধীরে ধীরে বাস্তবতা থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি। চারপাশের সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছিল।শেষবারের মতো আমি তাকালাম সেই “আমার” দিকে—যে এখন আমার জীবনটা বাঁচছে। সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখটা ছুঁয়ে দেখছে, হাসছে… ঠিক আমার মতোই, কিন্তু তবুও আলাদা।আর আমি… আমি শুধু শুনতে পেলাম একটা ফোনের রিংটোন। অন্ধকারের ভেতর কোথাও একটা স্ক্রিন জ্বলে উঠল—“Incoming Call…” নাম্বারটা আবার ভেসে উঠল—আমার নিজের নাম্বার।

রিংটোনটা যেন আমার চারপাশে নয়—আমার ভেতর থেকেই বাজতে লাগল। শব্দটা কানে আসছিল, আবার আসছিল না; বরং মনে হচ্ছিল আমার চিন্তার ভেতরেই কেউ একটা ধারালো সূচ ঢুকিয়ে দিচ্ছে বারবার। আমি চিৎকার করতে চাইলাম, কিন্তু বুঝতে পারলাম—আমার আর কোনো শরীর নেই, কোনো গলা নেই, কোনো শব্দ নেই। আমি শুধু “শোনা” আর “অনুভব” করতে পারছি। ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, আমি যেন একটা অদৃশ্য জায়গায় আটকে গেছি—যেখানে সময় থেমে থাকে না, কিন্তু এগিয়েও যায় না। অন্ধকারটা পুরোপুরি কালো না—তার ভেতরে অস্পষ্ট কিছু আলোর রেখা ভাসছে। হঠাৎ আমি টের পেলাম, আমি একা না। আমার চারপাশে আরও কিছু উপস্থিতি আছে… কিন্তু তারা কেউ দৃশ্যমান না। মাঝে মাঝে খুব ক্ষীণ, ভাঙা ভাঙা কিছু শব্দ ভেসে আসছিল—কেউ যেন কাঁদছে, কেউ ফিসফিস করে কিছু বলছে, কেউ আবার বারবার “হ্যালো… হ্যালো…” বলে ডাকছে। আমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল—ওরা কি আমার মতোই কেউ? যারা কোনো এক সময় এই একই ফাঁদে পড়েছিল?

হঠাৎ একটা ঝলক দেখা গেল—একটা দৃশ্য, যেন কারো ফোনের স্ক্রিনের ওপাশ থেকে দেখা। আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম, আমার ঘর… আমার বিছানা… আর সেখানে বসে আছে “আমি”—না, এখন যে আমার জায়গা নিয়েছে। সে খুব স্বাভাবিকভাবে ফোন স্ক্রল করছে, মাঝে মাঝে হালকা হাসছে, ঠিক যেভাবে আমি করতাম। কেউ যদি বাইরে থেকে দেখে, এক মুহূর্তের জন্যও বুঝবে না যে ওটা আমি না। এই দৃশ্যটা দেখে আমার ভেতরে এক ধরনের অসহায় রাগ জমে উঠল—আমি সবকিছু দেখছি, কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। ঠিক তখনই আবার সেই রিংটোনটা বেজে উঠল—এইবার আগের চেয়েও জোরে। মনে হচ্ছিল, এটা আমারই একটা অংশ হয়ে গেছে। একটা অদৃশ্য শক্তি আমাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগল সেই শব্দের দিকে। আমি প্রতিরোধ করতে পারছিলাম না। ধীরে ধীরে আমি অনুভব করলাম, আমি যেন একটা নির্দিষ্ট লাইনের মধ্যে আটকে যাচ্ছি—একটা সংযোগ, একটা সিগন্যাল… একটা কল।

তারপর হঠাৎ সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল। আমি বুঝতে পারলাম, আমি এখন কোথায়। আমি একটা ফোনের ভেতরে… একটা লাইনের ওপাশে… একটা “অপরিচিত” কণ্ঠ হয়ে গেছি। আমার সামনে যেন একটা সুযোগ এসে দাঁড়িয়েছে—আমি চাইলে কথা বলতে পারি। কিন্তু কাকে? কীভাবে? ঠিক তখনই স্ক্রিনে একটা নাম্বার ভেসে উঠল। সেটা আমার নিজের নাম্বার। আমার ভেতরে এক অদ্ভুত উপলব্ধি হলো—এই চক্রটা এখানেই শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষও হবে… অথবা আবার নতুন করে শুরু হবে। যদি আমি কাউকে সতর্ক করতে পারি? যদি আমি আগের মতোই কাউকে বলি—“কলটা কেটে দাও… জানালার পাশে যেও না…” তাহলে হয়তো সে বাঁচতে পারবে… আর আমি?

এক মুহূর্তের জন্য দ্বিধা এল। যদি সে বেঁচে যায়, তাহলে কি আমি চিরদিনের মতো এখানেই আটকে থাকব? নাকি… আমি যা সহ্য করেছি, সেটাই অন্য কাউকে সহ্য করতে হবে? আমার ভেতরে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল—মানুষ হয়ে থাকা শেষটুকু অংশটা চিৎকার করে বলছিল, “না, কাউকে এই অভিশাপ দিও না…” কিন্তু অন্য একটা ঠান্ডা, নিষ্ঠুর অনুভূতি ধীরে ধীরে সেই কণ্ঠটাকে ঢেকে ফেলছিল। হয়তো এটাই নিয়ম… হয়তো এভাবেই এটা বেঁচে থাকে… এক শরীর থেকে আরেক শরীরে… এক কণ্ঠ থেকে আরেক কণ্ঠে।

হঠাৎ আমি নিজেই নিজের কণ্ঠ শুনতে পেলাম—কিন্তু সেটা আর পুরোপুরি আমার ছিল না। ধীরে ধীরে, অচেনা ঠান্ডা স্বরে আমি বললাম—“হ্যালো…” ওপাশ থেকে কাঁপা গলায় একটা উত্তর এল—“কে?” আমি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলাম। তারপর ঠিক সেই কথাগুলো বললাম, যেগুলো আমি একসময় শুনেছিলাম—

“কলটা কেটে দাও… এখনই…”

একটা নিঃশ্বাসের শব্দ এল ওপাশ থেকে। আমি বুঝতে পারলাম—চক্রটা আবার শুরু হয়েছে। আর ঠিক সেই মুহূর্তে, আমার ভেতরের শেষ মানবিক অনুভূতিটা নিঃশব্দে মুছে গেল। এখন আমি আর আগের আমি না। এখন আমি শুধু একটা অজানা কল… যেটা মাঝে মাঝে বাজে— আর কেউ একজন ভুল করে রিসিভ করে ফেলে।

Casio Original Calculator

Casio Original Calculator

পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.