বিকেলের ফুটবল খেলা—এই কথাটার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে আমাদের শৈশবের সবচেয়ে প্রাণবন্ত, সবচেয়ে উচ্ছ্বসিত কিছু মুহূর্ত। দিনের সব ব্যস্ততা, পড়াশোনার চাপ, ঘরের কাজ—সবকিছু যেন একপাশে সরিয়ে রেখে আমরা অপেক্ষা করতাম শুধু সেই বিকেলটার জন্য। সূর্যটা একটু পশ্চিমে ঢলে পড়লেই মনটা অস্থির হয়ে উঠত—“আজকে খেলতে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে না তো?”
স্কুল থেকে ফিরে ব্যাগটা ছুড়ে ফেলে, কোনোরকমে একটু খেয়ে বা অনেক সময় না খেয়েই ছুট দিতাম মাঠের দিকে। কারো হাতে পুরনো ফুটবল, কারো হাতে স্যান্ডেল—কারণ সেগুলো দিয়েই গোলপোস্ট বানানো হবে। আমাদের কাছে তখন বড় কোনো স্টেডিয়াম ছিল না, ছিল না কোনো দামি জার্সি বা বুট। ছিল শুধু একটা খোলা মাঠ, কিছু বন্ধুরা, আর খেলাধুলার প্রতি অদম্য ভালোবাসা। মাঠে পৌঁছানোর পর শুরু হতো দল ভাগাভাগি। কে কার দলে খেলবে, কে স্ট্রাইকার হবে, কে গোলকিপার—এসব নিয়ে ছোটখাটো তর্ক-বিতর্ক চলত। কখনো বন্ধুত্বের কারণে একসাথে খেলতে চাইতাম, আবার কখনো শক্তিশালী দল বানানোর জন্য হিসাব-নিকাশ করতাম। তবে এই ঝগড়াগুলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হতো না, কারণ সবাই জানত—খেলার সময় নষ্ট করা যাবে না।
খেলা শুরু হতেই যেন পুরো পৃথিবীটা বদলে যেত। চারপাশের সবকিছু ভুলে গিয়ে শুধু বল আর গোলপোস্টটাই হয়ে উঠত আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। কেউ দৌড়াচ্ছে, কেউ পাস দিচ্ছে, কেউ গোল করার চেষ্টা করছে—এই ছুটোছুটি আর চিৎকারে পুরো মাঠটা মুখর হয়ে উঠত। বলটা যখন পায়ে পেতাম, তখন মনে হতো যেন আমি-ই সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়! গোল হলে যে আনন্দটা হতো, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সবাই একসাথে চিৎকার করে উঠত, কেউ লাফিয়ে উঠত, কেউ আবার গোলদাতাকে জড়িয়ে ধরত। আর যদি নিজের পায়ে গোল হয়ে যায়—তাহলে তো কথাই নেই! মনে হতো যেন বিশ্বকাপ জিতে ফেলেছি। সেই মুহূর্তগুলো এতটাই খাঁটি ছিল যে আজও মনে পড়লে মুখে হাসি চলে আসে। তবে সবসময় যে খেলা মসৃণভাবে চলত, তা নয়। ফাউল নিয়ে ঝগড়া, বল আউট হয়েছে কি হয়নি—এসব নিয়েও অনেক তর্ক হতো। কখনো কেউ রাগ করে খেলা ছেড়ে চলে যেত, আবার একটু পরেই নিজে থেকেই ফিরে আসত। কারণ খেলার টানটা ছিল এতটাই বেশি যে, রাগ ধরে রাখা সম্ভব ছিল না।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।

বিকেলের আলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসত, সূর্য ডুবে যেত, তবুও আমাদের খেলা থামাতে ইচ্ছে করত না। মা-বাবার ডাক না আসা পর্যন্ত আমরা খেলতেই থাকতাম। অনেক সময় দূর থেকে মায়ের চিৎকার ভেসে আসত—“এখনো খেলছো? বাসায় আয়!” তখন মনটা খারাপ হয়ে যেত, কিন্তু জানতাম—আজকের মতো এখানেই শেষ। খেলা শেষে ক্লান্ত শরীরে, ঘামে ভেজা জামা নিয়ে যখন বাসায় ফিরতাম, তখন একটা অদ্ভুত তৃপ্তি কাজ করত। শরীর ক্লান্ত, কিন্তু মন ভরে যেত আনন্দে। সেই ক্লান্তির মধ্যেও পরের দিনের খেলার পরিকল্পনা শুরু হয়ে যেত—“কালকে আবার এখানে খেলবো, আজকে আমি গোল করেছি, কালকে তুই করবি।” আজকের দিনে হয়তো সেই খোলা মাঠগুলো অনেকটাই হারিয়ে গেছে, সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে জীবনযাত্রা। মোবাইল, গেমস, ইন্টারনেট—এসবের ভিড়ে সেই বিকেলের ফুটবল খেলার আনন্দটা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। কিন্তু যারা সেই সময়টা পার করেছে, তাদের কাছে এই স্মৃতিগুলো এখনো অমূল্য।
বিকেল বেলা ফুটবল খেলা শুধু একটা খেলা ছিল না, এটা ছিল বন্ধুত্ব গড়ার জায়গা, ছিল হাসি-আনন্দ ভাগাভাগি করার মাধ্যম, ছিল জীবনের ছোট ছোট সুখ খুঁজে পাওয়ার এক অসাধারণ উপায়। সেখানে ছিল না কোনো বড় প্রত্যাশা, ছিল না কোনো চাপ—ছিল শুধু খেলা আর খুশি। আজ যখন সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে, তখন মনে হয়—জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো হয়তো খুব সাধারণভাবেই কেটে যায়। কোনো জাঁকজমক ছাড়াই, কোনো বিশেষ আয়োজন ছাড়াই—শুধু বন্ধুদের সাথে একটি বিকেল, একটি ফুটবল, আর একরাশ হাসি দিয়েই তৈরি হয়ে যায় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি। সত্যি বলতে, সেই বিকেলের ফুটবল খেলাগুলোই আমাদের শিখিয়েছে—জয়-পরাজয়কে কীভাবে সহজভাবে নিতে হয়, বন্ধুত্বকে কীভাবে গুরুত্ব দিতে হয়, আর ছোট ছোট মুহূর্তে কীভাবে বড় আনন্দ খুঁজে নিতে হয়। তাই আজও যখন কোনো মাঠে ছেলেদের ফুটবল খেলতে দেখি, তখন অজান্তেই মনে পড়ে যায়—আমাদের সেই সোনালি বিকেলগুলো।
বিকেলের সেই ফুটবল খেলাগুলোর আরও একটা বিশেষ দিক ছিল—প্রতিদিনই যেন নতুন কোনো গল্প তৈরি হতো। একই মাঠ, একই বন্ধুরা, একই বল—তবুও প্রতিদিনের খেলা একদম আলাদা অনুভূতি নিয়ে আসত। কোনো দিন কেউ অসাধারণ একটা গোল করত, আবার কোনো দিন গোলকিপার এমনভাবে বল ঠেকাত যে সবাই অবাক হয়ে যেত। এসব ছোট ছোট ঘটনাই আমাদের কাছে হয়ে উঠত দিনের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। বর্ষাকালে ফুটবল খেলার আনন্দটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। মাঠ ভিজে কাদায় পরিণত হলে আমাদের উৎসাহ যেন আরও বেড়ে যেত। পা পিছলে পড়ে যাওয়া, কাদায় গড়িয়ে যাওয়া—এসব নিয়ে কোনো দুঃখ ছিল না, বরং আরও বেশি হাসি পেত। জামা-কাপড় নোংরা হয়ে গেলে বকা খাওয়ার ভয় থাকলেও, সেই মুহূর্তের আনন্দের কাছে সেটা কিছুই মনে হতো না। বরং কে বেশি কাদায় মাখামাখি হয়েছে, সেটাই হয়ে যেত মজার প্রতিযোগিতা।
অনেক সময় আমাদের বলটা খুব ভালো মানের হতো না। পুরনো, ফেটে যাওয়া বা সেলাই করা বল দিয়েই খেলা চলত। কখনো বল হঠাৎ ফেটে গেলে সবাই মিলে বসে সেটাকে ঠিক করার চেষ্টা করতাম। কারো কাছে সুতা, কারো কাছে সুচ—সব মিলিয়ে যেন একটা ছোট্ট “মেরামতের কর্মশালা” বসে যেত মাঠের একপাশে। তারপর আবার সেই বল নিয়েই নতুন করে খেলা শুরু হতো। আরেকটা মজার বিষয় ছিল—মাঠ দখল করা! আমাদের মতো আরও অনেক দল থাকত যারা একই মাঠে খেলতে চাইত। তাই আগে গিয়ে জায়গা দখল করা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দুই দলের মধ্যে কে আগে খেলবে তা নিয়ে তর্ক হতো, আবার কখনো সমঝোতা করে সময় ভাগ করে নেওয়া হতো। এসব ছোট ছোট দ্বন্দ্বই আবার আমাদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে তুলত।
বিকেলের ফুটবল খেলা শুধু ছেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না অনেক জায়গায়। আশেপাশের ছোট ভাই-বোনরা, এমনকি কখনো বড়রাও এসে দাঁড়িয়ে দেখত। কেউ সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উৎসাহ দিত—“শট মার! পাস দে!”—এইসব শব্দে পুরো পরিবেশটা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। দর্শক থাকলে খেলাটার উত্তেজনাও যেন কয়েকগুণ বেড়ে যেত। খেলার মাঝে মাঝে ছোট ছোট বিরতিও থাকত। কেউ পানি খেতে যেত, কেউ একটু বসে হাঁপিয়ে নিত। সেই ফাঁকে চলত গল্প, হাসাহাসি, মজা করা। কেউ কাউকে খোঁচা দিত—“তুই তো আজকে কিছুই খেলতে পারলি না!”—আবার সেই কথার উত্তরে হাসির ঝড় উঠত। এই বিরতিগুলোই বন্ধুত্বকে আরও গভীর করত।
একটা সময় ছিল, যখন আমাদের কাছে কোনো ঘড়ি ছিল না। সময় বুঝতাম সূর্যের অবস্থান দেখে। সূর্য যখন প্রায় ডুবে যেত, তখন বুঝতাম—এবার খেলা শেষ করার সময় হয়ে এসেছে। কিন্তু মনটা মানতে চাইত না। “আরেকটা গোল হলেই শেষ”, “আর পাঁচ মিনিট”—এইভাবে সময় বাড়ানোর চেষ্টা চলত। শেষ পর্যন্ত যখন সত্যিই খেলা থামাতে হতো, তখন মনে হতো যেন কিছু একটা অসম্পূর্ণ রয়ে গেল।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
বাসায় ফেরার পথটাও ছিল মজার। সবাই একসাথে হাঁটতে হাঁটতে খেলার বিশ্লেষণ করতাম। কে ভালো খেলেছে, কে খারাপ খেলেছে, কোন গোলটা সবচেয়ে সুন্দর ছিল—এসব নিয়েই চলত আলোচনা। কখনো তর্ক বাড়ত, আবার একটু পরেই হাসিতে মিলিয়ে যেত। সেই পথচলাটুকুও ছিল খেলারই একটা অংশ। বাড়ি ফিরে বকা খাওয়াটা যেন নিয়মই ছিল। “এত দেরি করিস কেন?”, “এই অবস্থায় খেলতে যায়?”—এইসব কথা শুনতে হতো প্রায়ই। কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা তৃপ্তি থাকত, যা কোনো বকাই নষ্ট করতে পারত না। গোসল করে, খেয়ে যখন বিছানায় শুয়ে পড়তাম, তখন শরীর ক্লান্ত থাকলেও মনটা থাকত ভীষণ খুশি। এই ফুটবল খেলাগুলো আমাদের শুধু আনন্দই দেয়নি, অনেক কিছু শিখিয়েছেও। দলবদ্ধভাবে কাজ করা, একে অপরকে সাহায্য করা, হার মেনে নেওয়া, আবার নতুন করে চেষ্টা করা—এসব জীবনদক্ষতা আমরা অজান্তেই শিখে নিয়েছিলাম সেই মাঠে দাঁড়িয়ে। কোনো কোচ ছিল না, কোনো ট্রেনিং ছিল না—তবুও জীবন আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছিল নিজের নিয়মে।
এখন যখন সময় বদলে গেছে, তখন সেই বিকেলের মাঠগুলো অনেকটাই ফাঁকা। নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো সেই আনন্দটা ঠিকমতো অনুভব করতে পারে না। কিন্তু যারা সেই সময়টা পার করেছে, তাদের কাছে বিকেলের ফুটবল খেলা মানেই একরাশ স্মৃতি, একরাশ ভালোবাসা। মাঝে মাঝে মনে হয়—যদি আবার ফিরে যাওয়া যেত সেই দিনগুলোতে! আবার যদি বন্ধুদের নিয়ে মাঠে নামা যেত, আবার যদি সেই চিৎকার, সেই দৌড়ঝাঁপ, সেই হাসিগুলো ফিরে পাওয়া যেত! কিন্তু সময় তো আর ফিরে আসে না। যা থাকে, তা হলো স্মৃতি—আর সেই স্মৃতিগুলোই আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সম্পদ।
সত্যি বলতে, বিকেল বেলা ফুটবল খেলা ছিল আমাদের শৈশবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেটা শুধু একটা খেলা নয়, একটা অনুভূতি—যা আজও হৃদয়ের গভীরে বেঁচে আছে। যতদিন সেই স্মৃতিগুলো থাকবে, ততদিন আমাদের সোনালি বিকেলগুলোও বেঁচে থাকবে, ঠিক আগের মতোই উজ্জ্বল আর আনন্দময়।
Last Update: 6 months ago
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
Leave a Reply