ছোটবেলায় নতুন বই পাওয়ার আনন্দটা ছিল একেবারেই আলাদা, একেবারেই নিজের মতো। আজকের দিনের মতো তখন এত সহজে বই পাওয়া যেত না, আর বই মানেই ছিল শুধু পড়ার জিনিস না—এটা ছিল নতুন এক জগতের দরজা। বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় ছিল, যখন নতুন ক্লাসে উঠতাম, আর সেই সময়টাই হয়ে উঠত আমাদের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। বই হাতে পাওয়ার সেই দিনটা যেন ঈদের দিনের মতোই আনন্দময় লাগত।
স্কুল থেকে বই বিতরণের দিনটা ছিল উৎসবের মতো। সবাই খুব সকাল সকাল স্কুলে চলে যেত, যেন দেরি করলে ভালো বইটা মিস হয়ে যাবে! লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতাম, আর চোখ সবসময় থাকত টেবিলের ওপর রাখা নতুন বইগুলোর দিকে। একের পর এক বই যখন হাতে আসত, তখন মনে হতো যেন কোনো গুপ্তধন পাচ্ছি। নতুন বইয়ের মলাট, চকচকে পৃষ্ঠা, আর সেই অদ্ভুত মিষ্টি গন্ধ—সব মিলিয়ে এক অজানা আনন্দে ভরে উঠত মন।
বাড়িতে ফিরে বইগুলো বিছানার ওপর ছড়িয়ে বসে থাকতাম। প্রতিটা বই আলাদা করে খুলে দেখতাম, নাম পড়তাম, ভিতরের ছবিগুলো দেখতাম। কোনো কোনো বইয়ে রঙিন ছবি থাকলে তো কথাই নেই—সেগুলো বারবার উল্টেপাল্টে দেখতাম। তখনো পড়া শুরু হয়নি, তবুও বইয়ের পাতাগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে এক ধরনের ভালো লাগা কাজ করত। মনে হতো—এই বইগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক গল্প, অনেক কিছু জানার সুযোগ।
GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W
উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।

এরপর শুরু হতো বইয়ে কভার দেওয়ার কাজ। বাদামী কাগজ দিয়ে সুন্দর করে কভার বানানো, তার ওপর সাদা লেবেল লাগানো, আর নিজের নাম, ক্লাস, স্কুলের নাম লেখা—এই পুরো প্রক্রিয়াটাই ছিল এক ধরনের শিল্পকর্ম। কেউ কেউ খুব সুন্দর করে লিখতে পারত, কেউ আবার একটু বাঁকা-টেঢা লিখত, তবুও সবার মধ্যেই একটা গর্ব ছিল—“এই বইটা আমার”।
বন্ধুদের সাথে বই দেখানোর একটা আলাদা আনন্দ ছিল। কে কোন বই পেয়েছে, কার বইটা বেশি সুন্দর, কার বইয়ে বেশি ছবি—এসব নিয়ে চলত আলোচনা। কখনো কখনো বই বদল করে দেখতাম, একে অপরের বইয়ের ভেতরটা ঘেঁটে দেখতাম। এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলোই আমাদের শৈশবকে এত রঙিন করে তুলেছিল।
নতুন বইয়ের একটা বিশেষ ব্যাপার ছিল—প্রথম পাতায় নিজের নাম লেখা। সেই নামটা যেন একটু আলাদা করে, একটু সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করতাম। কেউ কেউ ফুল-পাতা এঁকে সাজাত, কেউ রঙিন কলম দিয়ে লিখত। সেই প্রথম পাতাটাই ছিল নিজের একটা ছোট্ট পরিচয়।
তখন বইয়ের যত্ন নেওয়াটাও ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। বই যাতে ছিঁড়ে না যায়, ময়লা না হয়—সেই জন্য অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতাম। বইয়ের পাতা ভাঁজ করা যাবে না, পানির কাছাকাছি নেওয়া যাবে না—এইসব নিয়ম যেন নিজে নিজেই মেনে চলতাম। কারণ জানতাম, এই বইগুলোই পুরো বছর আমাদের সঙ্গী হবে।
আজকের দিনে এসে সবকিছু অনেক বদলে গেছে। এখন বইয়ের জায়গায় অনেক কিছুই ডিজিটাল হয়ে গেছে। মোবাইল, ট্যাব, পিডিএফ—সবকিছুই হাতের মুঠোয়। কিন্তু সেই নতুন বইয়ের গন্ধ, সেই পাতা উল্টানোর অনুভূতি, সেই কভার দেওয়ার আনন্দ—এসব কি আর ডিজিটাল স্ক্রিনে পাওয়া যায়?
মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে, আবার সেই ছোটবেলার দিনে ফিরে যাই। আবার সেই নতুন বই হাতে নেই, আবার সেই গন্ধটা নেই, আবার সেই নামটা লিখি প্রথম পাতায়। হয়তো সময়টা আর ফিরে আসবে না, কিন্তু সেই স্মৃতিগুলো সবসময় আমাদের সাথে থাকবে।
LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light
এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে
সত্যি বলতে, নতুন বই পাওয়ার সেই আনন্দটা ছিল একেবারে নিখাদ। কোনো বড় কারণ ছিল না, কোনো জটিলতা ছিল না—শুধু একটা বই, আর তাতেই ছিল অগাধ সুখ। এই ছোট ছোট আনন্দগুলোই আমাদের শৈশবকে এত সুন্দর করে তুলেছিল, যা আজও মনে পড়লে মনটা ভরে যায় এক অদ্ভুত ভালো লাগায়।
নতুন বই পাওয়ার সেই আনন্দের গল্পটা আসলে এখানেই শেষ হয়ে যায় না; বরং দিন যত এগোতো, সেই আনন্দটা অন্য রূপে ধরা দিত। বই হাতে পাওয়ার পরের কয়েকটা দিন যেন একেবারে বইকেন্দ্রিক হয়ে যেত। সকালে ঘুম থেকে উঠেই বইয়ের পাতা উল্টানো, দুপুরে খাওয়ার পর আবার একটু দেখে নেওয়া, আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া—এই ছিল আমাদের নিত্যদিনের রুটিন। পড়া শুরু করার আগেই বইয়ের সাথে এক ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয়ে যেত।
বইয়ের পাতার ভেতরে লুকিয়ে থাকা ছোট ছোট ছবিগুলো আমাদের কল্পনাকে উসকে দিত। কোনো গল্পের ছবির দিকে তাকিয়ে আমরা নিজেদের মতো করে গল্প বানিয়ে ফেলতাম। বাংলা বইয়ের কবিতা, ইংরেজি বইয়ের ছোট ছোট বাক্য, অঙ্কের বইয়ের অদ্ভুত সব সংখ্যা—সবকিছুই তখন নতুন আর রহস্যময় মনে হতো। অনেক সময় না বুঝেও শুধু পড়ার চেষ্টা করতাম, কারণ সেই নতুন বইয়ের প্রতি এক অদ্ভুত টান কাজ করত।
স্কুলে যাওয়ার পর বই নিয়ে আরেক ধরনের আনন্দ শুরু হতো। নতুন বই নিয়ে ক্লাসে বসে থাকাটা ছিল গর্বের বিষয়। শিক্ষক যখন বলতেন—“এই পৃষ্ঠাটা খুলে দেখো”—তখন সবাই তাড়াহুড়ো করে পাতা উল্টাতাম, যেন কেউ আগে খুলতে না পারে! মাঝে মাঝে ভুল পৃষ্ঠা খুলে ফেললে একটু লজ্জাও লাগত, আবার পাশের বন্ধুর দিকে তাকিয়ে মিলিয়ে নিতাম। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আমাদের স্কুলজীবনকে এত প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।
বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকত আরও অনেক স্মৃতি। কখনো কোনো বন্ধুর লেখা ছোট্ট একটা নোট, কখনো কোনো পৃষ্ঠার কোণে আঁকা ছোট্ট ছবি—এইসব জিনিসগুলো পরে গিয়ে অনেক বড় স্মৃতিতে পরিণত হতো। বছরের শেষে যখন সেই বইগুলো আবার খুলে দেখতাম, তখন মনে হতো—এই বইগুলোর মধ্যেই তো পুরো একটা বছর বন্দি হয়ে আছে।
আরেকটা মজার বিষয় ছিল—বইয়ের ভেতরে নিজের মতো করে “চিহ্ন” রেখে দেওয়া। যদিও শিক্ষকরা বারণ করতেন, তবুও অনেকেই পেন্সিল দিয়ে হালকা করে দাগ দিত, কোনো শব্দের নিচে লাইন টানত, বা পাশে ছোট করে কিছু লিখে রাখত। তখন এগুলো হয়তো পড়ার সুবিধার জন্য করা হতো, কিন্তু পরে গিয়ে সেই দাগগুলোই হয়ে উঠত স্মৃতির চিহ্ন।
বইয়ের গন্ধের কথা না বললেই নয়। নতুন বইয়ের সেই একদম আলাদা একটা গন্ধ ছিল, যা এখনো মনে পড়লে যেন নাকে এসে লাগে। অনেক সময় বইটা নাকের কাছে নিয়ে গভীরভাবে শুঁকতাম, আর মনে হতো—এই গন্ধের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে নতুনত্ব, স্বপ্ন আর একরাশ ভালো লাগা। আজকের দিনে হয়তো এই বিষয়টা একটু অদ্ভুত শোনাতে পারে, কিন্তু তখন এটা ছিল খুবই স্বাভাবিক এক আনন্দ।
সময় যত গড়াত, বইগুলো ধীরে ধীরে পুরোনো হয়ে যেত। মলাট একটু ছিঁড়ে যেত, পাতাগুলো একটু হলদে হয়ে যেত, তবুও সেই বইগুলোর প্রতি মায়া একটুও কমত না। বরং মনে হতো—এই বইগুলো তো আমার সাথে অনেকটা পথ হেঁটেছে, এদের সাথে কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে! নতুন বইয়ের আনন্দ যেমন ছিল, তেমনি বছরের শেষে সেই পুরোনো বইয়ের প্রতি এক ধরনের ভালোবাসা তৈরি হয়ে যেত।
এখন যখন সেই দিনগুলোর কথা ভাবি, তখন বুঝতে পারি—নতুন বই পাওয়ার আনন্দটা শুধু একটা জিনিস পাওয়ার আনন্দ ছিল না, এটা ছিল শেখার প্রতি ভালোবাসা, নতুন কিছু জানার আগ্রহ, আর ছোট ছোট জিনিসে খুশি খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা। সেই সময়টাতে আমাদের কাছে খুব বেশি কিছু ছিল না, কিন্তু যা ছিল, তাতেই আমরা ভীষণ খুশি ছিলাম।
আজকের বাচ্চারা হয়তো অনেক বেশি সুযোগ পায়, অনেক বেশি রিসোর্স পায়, কিন্তু সেই সরল আনন্দটা তারা কতটা পায়—সেটা মাঝে মাঝে ভাবায়। নতুন বইয়ের সেই গন্ধ, সেই কভার দেওয়ার আনন্দ, সেই প্রথম পাতায় নাম লেখার উত্তেজনা—এসব কি আর আগের মতো করে অনুভব করা যায়?
তবুও, স্মৃতির একটা অদ্ভুত শক্তি আছে। যতদিন আমরা সেই দিনগুলোর কথা মনে রাখব, ততদিন সেই আনন্দটাও আমাদের ভেতরে বেঁচে থাকবে। হয়তো হাতে আর সেই নতুন বইটা নেই, কিন্তু মনের ভেতর তার গন্ধটা এখনো রয়ে গেছে।
সত্যি বলতে, নতুন বই পাওয়ার সেই ছোট্ট আনন্দটাই ছিল আমাদের শৈশবের সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর একটি। সেই বইগুলোই আমাদের শিখিয়েছে, স্বপ্ন দেখতে, জানতে, আর ছোট ছোট জিনিসে আনন্দ খুঁজে নিতে। আর তাই, আজও যখন কোনো নতুন বই হাতে নিই, অজান্তেই সেই ছোটবেলার অনুভূতিটা আবার ফিরে আসে—একটু নস্টালজিয়া, একটু ভালো লাগা, আর এক চিলতে হাসি নিয়ে।
Last Update: 6 months ago
Casio Original Calculator
পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর
আপনার এই গল্পটি পড়ে ছোটবেলার সেইসব স্মৃতি মনে পরে গেলো।