শৈশবের সেই দিনগুলো যা আজও মনে পড়ে

শৈশবের দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই আমার মনটা কেমন যেন অন্যরকম হয়ে যায়। ব্যস্ত জীবনের মাঝে হঠাৎ করে যখন পুরোনো স্মৃতিগুলো মাথায় ভিড় করে, তখন মনে হয়—সেই ছোট্ট সময়টুকুই ছিল আসল জীবন। তখন কোনো দুঃখ-কষ্ট ছিল না, কোনো বড় দায়িত্ব ছিল না, ছিল শুধু আনন্দ, হাসি আর স্বাধীনতা।

ছোটবেলায় আমার দিন শুরু হতো খুব সাধারণভাবে, কিন্তু সেই সাধারণের মধ্যেই ছিল এক অদ্ভুত সুখ। সকালে ঘুম থেকে উঠতে আমার খুব আলসেমি লাগতো। মা অনেকবার ডাক দিতো—“উঠ, স্কুলে যেতে হবে!” আমি ঘুমের ভান করে পড়ে থাকতাম, কিন্তু শেষমেশ মায়ের বকুনিতে উঠতেই হতো। তারপর তাড়াহুড়া করে মুখ হাত ধুয়ে, কোনোভাবে নাস্তা শেষ করে স্কুলের জন্য বের হতাম।

স্কুলের দিনগুলোও ছিল অনেক মজার। সত্যি বলতে, তখন পড়াশোনার থেকে বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোই বেশি ভালো লাগতো। ক্লাসে বসে অনেক সময় স্যার কী পড়াচ্ছে সেটা না শুনে পাশের বন্ধুর সাথে গল্প করতাম। মাঝে মাঝে দুষ্টুমিও করতাম, আর ধরা পড়লে স্যারের বকা খেতে হতো। কিন্তু সেই বকাও তখন খুব একটা খারাপ লাগতো না, বরং বন্ধুদের সাথে হেসে উড়িয়ে দিতাম।

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

GearUP K60 Rechargeable Flashlight 10W

উজ্জ্বল আলোয় ভরা ১৫০০ মিটার রেঞ্জের এই লাইটটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকবেন। আলোচিত এই লাইটটি রাতে অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। সাথে আছে COB লাইট, যা দিয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়।

টিফিনের সময়টা ছিল দিনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। সবাই নিজের বাসা থেকে আনা খাবার বের করতাম, আর একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করে খেতাম। কারো মায়ের বানানো পরোটা, কারো ভাজি, কারো মিষ্টি—সবকিছু মিলিয়ে এক অন্যরকম আনন্দ হতো। সেই ছোট ছোট ভাগাভাগির মধ্যেই ছিল আসল ভালোবাসা।

স্কুল শেষে বাসায় ফিরে একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেল হলেই আমরা সবাই মাঠে বের হতাম। তখন মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট আমাদের জীবনে ছিল না, তাই আমাদের সব আনন্দই ছিল বাইরে—বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করা।

বিকেলের সেই সময়টা ছিল একদম মুক্তির মতো। লুকোচুরি, গোল্লাছুট, কাবাডি—যা মনে আসতো তাই খেলতাম। কখনো দৌড়াতে দৌড়াতে পড়ে যেতাম, হাঁটুতে কেটে যেত, তবুও খেলাটা থামাতাম না। কারণ তখন ব্যথার থেকেও খেলাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হতো।

খেলার মাঝে মাঝে ছোটখাটো ঝগড়াও হতো। কে আউট হলো, কে হলো না—এই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক লেগেই থাকতো। কিন্তু সেই ঝগড়া বেশিক্ষণ থাকতো না। কিছুক্ষণ পরেই আবার আমরা একসাথে খেলতে শুরু করতাম, যেন কিছুই হয়নি।

মা দূর থেকে ডাক দিতো—“বাসায় আয়!” কিন্তু তখন সেই ডাক শুনেও না শোনার ভান করতাম। খেলায় এত মজা পেতাম যে বাসায় যেতে মনই চাইতো না। শেষে যখন মা একটু রেগে যেত, তখন মন খারাপ করে বাসায় ফিরতাম। কিন্তু বাসায় ফেরার সময়ও মনে মনে ভাবতাম—আগামীকাল আবার খেলতে বের হবো।

রাতের সময়টা ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় সময়। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাতের শান্ত পরিবেশে একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করতো। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমি দাদির পাশে গিয়ে বসতাম।

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

LR-2018 USB Rechargeable Folding Fan with LED Light

এই গরমে রিচার্জেবল ফ্যানটি (লাইট সহ) ১৬৬৪ টাকার পরিবর্তে ডিসকাউন্ডে পাচ্ছেন ৭৪৯ টাকায়। এখনি কিনুন রকমারি থেকে

দাদি খুব সুন্দর করে গল্প বলতে পারতো। তার গল্প বলার ভঙ্গিটা ছিল একদম আলাদা—ধীরে ধীরে, মায়া মিশে থাকা কণ্ঠে গল্প বলতো। আমি তার পাশে গা ঘেঁষে বসে থাকতাম, আর মন দিয়ে গল্প শুনতাম।

কখনো দাদি ভূতের গল্প বলতো। অন্ধকার রাত, পুরোনো বাড়ি, অদ্ভুত শব্দ—এইসব শুনে আমি ভয়ে কুঁকড়ে যেতাম। তখন দাদির হাতটা শক্ত করে ধরে বসে থাকতাম। দাদি বুঝতে পারতো, তাই মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো আর বলতো—“ভয় পাস না, আমি তো আছি।” তার এই কথাটাই যেন আমার সব ভয় দূর করে দিত।

আবার কখনো দাদি রাজা-রানীর গল্প বলতো, যেখানে রাজপুত্র দূর দেশে যেতো, দানবের সাথে লড়াই করতো, আর শেষে জয়ী হয়ে ফিরতো। সেই গল্পগুলো শুনতে শুনতে আমি যেন নিজেই সেই গল্পের ভেতরে চলে যেতাম।

অনেক সময় গল্প শুনতে শুনতেই আমার ঘুম চলে আসতো। কখন যে চোখ বন্ধ হয়ে যেত, বুঝতেই পারতাম না। দাদি তখন আলতো করে আমাকে শুইয়ে দিতো, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো। সেই মুহূর্তগুলো ছিল একদম শান্ত আর নিরাপদ।

বৃষ্টির দিনগুলো ছিল আমার শৈশবের সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর মধ্যে একটা। আকাশে মেঘ জমলেই আমার মন খুশিতে ভরে যেত। বৃষ্টি শুরু হলেই আমি বাইরে দৌড়ে যেতাম। বৃষ্টিতে ভিজতাম, কাদায় দৌড়াতাম, আর বন্ধুদের সাথে মজা করতাম।

কাগজ দিয়ে নৌকা বানিয়ে পানিতে ভাসানো ছিল আমার খুব প্রিয় কাজ। ছোট্ট সেই নৌকাটা যখন পানিতে ভাসতো, তখন মনে হতো যেন আমি কোনো বড় কিছু অর্জন করেছি। সেই ছোট ছোট আনন্দগুলোই তখন আমার কাছে অনেক বড় ছিল।

ঈদের সময়গুলোও ছিল খুব বিশেষ। নতুন জামা পাওয়ার আনন্দ, সকালে নামাজ পড়তে যাওয়া, তারপর সারাদিন আত্মীয়দের বাসায় ঘোরা—সবকিছু মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করতো। ঈদের সালামি পাওয়ার জন্য আমরা সবাই অপেক্ষা করতাম। হাতে কিছু টাকা পেলেই মনে হতো আমি যেন অনেক বড় হয়ে গেছি।

রাতে সবাই একসাথে বসে খাওয়া, হাসি-আনন্দ—এইসব মুহূর্তগুলো এখনো খুব মনে পড়ে।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবকিছু বদলে গেছে। সেই ছোটবেলার দিনগুলো এখন শুধু স্মৃতিতে রয়ে গেছে। আমরা বড় হয়ে গেছি, জীবনে অনেক দায়িত্ব চলে এসেছে। এখন আর আগের মতো সময় নেই, সেই নির্ভার আনন্দও নেই।

বন্ধুরা সবাই আলাদা হয়ে গেছে, কেউ পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ কাজ নিয়ে। আগের মতো আর একসাথে মাঠে গিয়ে খেলা হয় না। দাদির কাছে বসে গল্প শোনার সময়টাও আর নেই।

এখন যখন রাতে একা বসে থাকি, তখন সেই পুরোনো দিনের কথা খুব মনে পড়ে। মনে হয়, যদি আবার সেই ছোটবেলার দিনে ফিরে যেতে পারতাম! আবার যদি দাদির পাশে বসে গল্প শুনতে পারতাম, আবার যদি বন্ধুদের সাথে মাঠে দৌড়াতে পারতাম!

কিন্তু জানি, সেই দিনগুলো আর কখনো ফিরে আসবে না।

শৈশব হয়তো চলে গেছে, কিন্তু সেই সময়ের স্মৃতিগুলো এখনো আমার হৃদয়ে বেঁচে আছে। সেই হাসি, সেই কান্না, সেই ছোট ছোট আনন্দ—সবকিছু মিলে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।

আজও যখন কোনো কারণে মন খারাপ হয়, তখন আমি সেই দিনগুলোর কথা ভাবি। মনে মনে সেই ছোট্ট আমিটাকে খুঁজে পাই, যে কোনো চিন্তা ছাড়াই হাসতে পারতো।

হয়তো জীবন সামনে এগিয়ে যাবে, সময় বদলাবে, কিন্তু শৈশবের সেই দিনগুলো আমার মনে চিরকাল একই রকম থাকবে—একটা মিষ্টি, সুন্দর, আর অমূল্য স্মৃতি হয়ে।


Last Update: 6 months ago

 

Casio Original Calculator

Casio Original Calculator

পরীক্ষার হলে একটি ভালোমানের ক্যালকুলেটর খুব জরুরী। তাই আজই কিনে নিন ক্যাসিও অরজিনাল ক্যালকুলেটর

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.